নজর বিডি
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ মার্চ ২০২৫

গোলাপচাষে সংকট: সুগন্ধি শিল্পের অভাবে বছরে নষ্ট ৩০ লাখ ফুল

গোলাপচাষে সংকট: সুগন্ধি শিল্পের অভাবে বছরে নষ্ট ৩০ লাখ ফুল

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে প্রায় ১০৫ একর জমিতে গোলাপ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে দুই শতাধিক কৃষক পরিবার। তবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে প্রতিবছর এখানকার বাগানগুলোতে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ গোলাপ গাছে শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

বাজার সংকট ও চাষিদের লোকসান বরইতলীর ১০৩টি গোলাপ বাগানের কৃষকেরা জানান, ভালোবাসা দিবস বা একুশে ফেব্রুয়ারির মতো বিশেষ কিছু উপলক্ষে কিছুটা বিক্রি বাড়লেও বছরের বাকি সময় ফুলের চাহিদা কম থাকে। ফলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পান না এবং বহু ফুল অবিক্রীত থেকে যায়। ১৪ ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ১৩ লাখ গোলাপ বিক্রির আশা ছিল, সেখানে মাত্র ৩ লাখ গোলাপ বিক্রি হয়েছে, বাকিগুলো গাছেই নষ্ট হয়েছে। সুগন্ধি শিল্প গড়ে তুললে নতুন সম্ভাবনা বিশ্বের অনেক দেশেই গোলাপের পাপড়ি থেকে সুগন্ধি, আতর, প্রসাধনী ও খাবারের উপকরণ তৈরি করা হয়। ফ্রান্স, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরবে সুগন্ধি শিল্প গড়ে উঠলেও বাংলাদেশে এখনও এ নিয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরইতলীর চাষিরা মনে করেন, যদি গোলাপের রস সংগ্রহ করে সুগন্ধি উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতো এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতো। কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কমাতে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ কৃষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, গোলাপচাষিদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সুগন্ধি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে ফুলের অপচয় রোধ করা সম্ভব। বরইতলী গোলাপ বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম বলেন, "দেশে সুগন্ধি শিল্প গড়ে উঠলে কৃষকেরা লোকসান থেকে বাঁচবেন, ফুল সংরক্ষণ সহজ হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।" সমাধানের পথে এগোতে হবে বরইতলীর মতো এলাকায় সরকার ও বিনিয়োগকারীরা যদি গোলাপ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের উদ্যোগ নেন, তবে এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। গোলাপ চাষের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও সুগন্ধি শিল্পে বৈশ্বিক বাজারে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


গোলাপচাষে সংকট: সুগন্ধি শিল্পের অভাবে বছরে নষ্ট ৩০ লাখ ফুল

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মার্চ ২০২৫

featured Image

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে প্রায় ১০৫ একর জমিতে গোলাপ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছে দুই শতাধিক কৃষক পরিবার। তবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে প্রতিবছর এখানকার বাগানগুলোতে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ গোলাপ গাছে শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

বাজার সংকট ও চাষিদের লোকসান বরইতলীর ১০৩টি গোলাপ বাগানের কৃষকেরা জানান, ভালোবাসা দিবস বা একুশে ফেব্রুয়ারির মতো বিশেষ কিছু উপলক্ষে কিছুটা বিক্রি বাড়লেও বছরের বাকি সময় ফুলের চাহিদা কম থাকে। ফলে চাষিরা ন্যায্যমূল্য পান না এবং বহু ফুল অবিক্রীত থেকে যায়। ১৪ ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ১৩ লাখ গোলাপ বিক্রির আশা ছিল, সেখানে মাত্র ৩ লাখ গোলাপ বিক্রি হয়েছে, বাকিগুলো গাছেই নষ্ট হয়েছে। সুগন্ধি শিল্প গড়ে তুললে নতুন সম্ভাবনা বিশ্বের অনেক দেশেই গোলাপের পাপড়ি থেকে সুগন্ধি, আতর, প্রসাধনী ও খাবারের উপকরণ তৈরি করা হয়। ফ্রান্স, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরবে সুগন্ধি শিল্প গড়ে উঠলেও বাংলাদেশে এখনও এ নিয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরইতলীর চাষিরা মনে করেন, যদি গোলাপের রস সংগ্রহ করে সুগন্ধি উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতো এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হতো। কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কমাতে প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ কৃষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, গোলাপচাষিদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সুগন্ধি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে ফুলের অপচয় রোধ করা সম্ভব। বরইতলী গোলাপ বাগান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম বলেন, "দেশে সুগন্ধি শিল্প গড়ে উঠলে কৃষকেরা লোকসান থেকে বাঁচবেন, ফুল সংরক্ষণ সহজ হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।" সমাধানের পথে এগোতে হবে বরইতলীর মতো এলাকায় সরকার ও বিনিয়োগকারীরা যদি গোলাপ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের উদ্যোগ নেন, তবে এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। গোলাপ চাষের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশও সুগন্ধি শিল্পে বৈশ্বিক বাজারে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারে।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত