নজর বিডি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

হাতিয়ায় এনসিপি নেতার ওপর হামলা প্রতিবাদে অবরোধ ও বিক্ষোভ

হাতিয়ায় এনসিপি নেতার ওপর হামলা প্রতিবাদে অবরোধ ও বিক্ষোভ

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে সোমবার (২৪ মার্চ) রাত ৮টা থেকে দলের নেতা-কর্মীরা হাতিয়ার জাহাজমারা বাজারে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। দীর্ঘ সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই কর্মসূচি প্রশাসনের আশ্বাসের পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রত্যাহার করা হয়।

কী ঘটেছিল?

সোমবার বিকেলে আবদুল হান্নান মাসউদ হাতিয়ার জাহাজমারা এলাকায় গণসংযোগে গেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় বাজারে একটি পথসভা করেন। এ সময় কিছু ব্যক্তি সভায় বাধা দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে হামলা চালানো হয়। এতে হান্নান মাসউদসহ উপস্থিত কর্মীরা আক্রান্ত হন। হামলাকারীরা বিএনপির নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। প্রথম দফার হামলার পর রাত ৮টার দিকে এনসিপি নেতা-কর্মীরা বাজারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এতে আরও কয়েকজন আহত হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

মাইজদীতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে জেলা শহর মাইজদীতে এনসিপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গণপূর্ত ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তুহিন ইমরান, জেলা সংগঠক ইয়াছিন আরাফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, বনি আমিনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান এবং এ ধরনের হামলাকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দেন।

হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা

হামলার পর রাতেই পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে এনসিপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তখনও সেখানে অবস্থান করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা জানান, এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে এবং অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইউছুফ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়ার পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন। তবে মঙ্গলবার জাহাজমারা বাজারে এনসিপির পক্ষ থেকে গণসংযোগ কর্মসূচি পালিত হবে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে, বিএনপির স্থানীয় নেতা মো. শাহরাজ দাবি করেছেন, এ ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাতিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


হাতিয়ায় এনসিপি নেতার ওপর হামলা প্রতিবাদে অবরোধ ও বিক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৫

featured Image

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে সোমবার (২৪ মার্চ) রাত ৮টা থেকে দলের নেতা-কর্মীরা হাতিয়ার জাহাজমারা বাজারে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। দীর্ঘ সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই কর্মসূচি প্রশাসনের আশ্বাসের পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রত্যাহার করা হয়।

কী ঘটেছিল?

সোমবার বিকেলে আবদুল হান্নান মাসউদ হাতিয়ার জাহাজমারা এলাকায় গণসংযোগে গেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় বাজারে একটি পথসভা করেন। এ সময় কিছু ব্যক্তি সভায় বাধা দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং একপর্যায়ে হামলা চালানো হয়। এতে হান্নান মাসউদসহ উপস্থিত কর্মীরা আক্রান্ত হন। হামলাকারীরা বিএনপির নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। প্রথম দফার হামলার পর রাত ৮টার দিকে এনসিপি নেতা-কর্মীরা বাজারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এতে আরও কয়েকজন আহত হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

মাইজদীতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে জেলা শহর মাইজদীতে এনসিপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গণপূর্ত ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তুহিন ইমরান, জেলা সংগঠক ইয়াছিন আরাফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, বনি আমিনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান এবং এ ধরনের হামলাকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দেন।

হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা

হামলার পর রাতেই পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে এনসিপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তখনও সেখানে অবস্থান করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা জানান, এখন পর্যন্ত কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে এবং অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইউছুফ জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়ার পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন। তবে মঙ্গলবার জাহাজমারা বাজারে এনসিপির পক্ষ থেকে গণসংযোগ কর্মসূচি পালিত হবে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে, বিএনপির স্থানীয় নেতা মো. শাহরাজ দাবি করেছেন, এ ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে হাতিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত