ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৫: দীর্ঘ নয় বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন স্কেল নির্ধারণে একটি নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়েছে। এই কমিশন ছয় মাসের মধ্যে সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেবে।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার কথা থাকলেও এবার তা হয়েছে নয় বছর পর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সময়ে বিদ্যুৎ, পানি, ওষুধ, চিকিৎসা, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম গড়ে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়েছে বছরে ৫ শতাংশ হারে, অর্থাৎ নয় বছরে মোট ৪৫ শতাংশ।
সরকারি চাকরি বাংলাদেশে মোট ২০টি গ্রেডে বিভক্ত, যা চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে:
প্রথম শ্রেণি: গ্রেড ১ থেকে ৯ (গেজেটেড কর্মকর্তা, যেমন ক্যাডার কর্মকর্তারা)
দ্বিতীয় শ্রেণি: কেবলমাত্র গ্রেড ১০
তৃতীয় শ্রেণি: গ্রেড ১১ থেকে ১৬
চতুর্থ শ্রেণি: গ্রেড ১৭ থেকে ২০
পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৭টি পদের কর্মকর্তারা ক্যাডার হিসেবে বিবেচিত। এরা নীতিনির্ধারক পর্যায় পর্যন্ত পদোন্নতির সুযোগ পান, যা নন-ক্যাডারদের ক্ষেত্রে সাধারণত সীমিত।
২০১৫ সালে ঘোষিত অষ্টম বেতন স্কেল অনুযায়ী, গ্রেড-১ এ মূল বেতন ধরা হয় ৭৮ হাজার টাকা, আর গ্রেড-২০ তে ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হয়ে গ্রেড-১ এর মোট বেতন দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মতো, আর গ্রেড-২০ এ দাঁড়ায় প্রায় ২০ হাজার ১০ টাকায়।
| ভাতার ধরন | গ্রেড-১ (সর্বোচ্চ) | গ্রেড-২০ (সর্বনিম্ন) |
|---|---|---|
| বাড়ি ভাড়া | ৪০,০০০ টাকা | ৫,০০০ টাকা |
| চিকিৎসা ভাতা | ১,৫০০ টাকা | ১,৫০০ টাকা |
| শিক্ষা ভাতা | ২,০০০ টাকা | ২,০০০ টাকা |
| টিফিন ভাতা | ৩,০০০ টাকা | ৩০০ টাকা |
| যাতায়াত ভাতা | – | ৩০০ টাকা |
বর্তমানে দেশের ২২ লাখ সরকারি চাকরিজীবী নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন পান। এর বাইরেও আছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে খরচ হয় প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা, আর পেনশন বাবদ যায় আরও ২০ হাজার কোটি টাকা।
চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি হালনাগাদ বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার বেতন কমিশন গঠনের মাধ্যমে সেই প্রত্যাশার দিকেই এগোচ্ছে সরকার। তবে নতুন কাঠামোতে কী পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি হবে, কীভাবে গ্রেড পুনর্বিন্যাস হবে কিংবা নতুন ভাতা যুক্ত হবে কিনা—তা এখনই নিশ্চিত নয়।
বেতন কমিশনের সুপারিশ হাতে পাওয়ার পরই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৫
ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৫: দীর্ঘ নয় বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন স্কেল নির্ধারণে একটি নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়েছে। এই কমিশন ছয় মাসের মধ্যে সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেবে।
এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার কথা থাকলেও এবার তা হয়েছে নয় বছর পর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সময়ে বিদ্যুৎ, পানি, ওষুধ, চিকিৎসা, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম গড়ে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়েছে বছরে ৫ শতাংশ হারে, অর্থাৎ নয় বছরে মোট ৪৫ শতাংশ।
সরকারি চাকরি বাংলাদেশে মোট ২০টি গ্রেডে বিভক্ত, যা চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে:
প্রথম শ্রেণি: গ্রেড ১ থেকে ৯ (গেজেটেড কর্মকর্তা, যেমন ক্যাডার কর্মকর্তারা)
দ্বিতীয় শ্রেণি: কেবলমাত্র গ্রেড ১০
তৃতীয় শ্রেণি: গ্রেড ১১ থেকে ১৬
চতুর্থ শ্রেণি: গ্রেড ১৭ থেকে ২০
পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৭টি পদের কর্মকর্তারা ক্যাডার হিসেবে বিবেচিত। এরা নীতিনির্ধারক পর্যায় পর্যন্ত পদোন্নতির সুযোগ পান, যা নন-ক্যাডারদের ক্ষেত্রে সাধারণত সীমিত।
২০১৫ সালে ঘোষিত অষ্টম বেতন স্কেল অনুযায়ী, গ্রেড-১ এ মূল বেতন ধরা হয় ৭৮ হাজার টাকা, আর গ্রেড-২০ তে ৮ হাজার ২৫০ টাকা। বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য ভাতা যুক্ত হয়ে গ্রেড-১ এর মোট বেতন দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মতো, আর গ্রেড-২০ এ দাঁড়ায় প্রায় ২০ হাজার ১০ টাকায়।
| ভাতার ধরন | গ্রেড-১ (সর্বোচ্চ) | গ্রেড-২০ (সর্বনিম্ন) |
|---|---|---|
| বাড়ি ভাড়া | ৪০,০০০ টাকা | ৫,০০০ টাকা |
| চিকিৎসা ভাতা | ১,৫০০ টাকা | ১,৫০০ টাকা |
| শিক্ষা ভাতা | ২,০০০ টাকা | ২,০০০ টাকা |
| টিফিন ভাতা | ৩,০০০ টাকা | ৩০০ টাকা |
| যাতায়াত ভাতা | – | ৩০০ টাকা |
বর্তমানে দেশের ২২ লাখ সরকারি চাকরিজীবী নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন পান। এর বাইরেও আছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে খরচ হয় প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা, আর পেনশন বাবদ যায় আরও ২০ হাজার কোটি টাকা।
চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি হালনাগাদ বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এবার বেতন কমিশন গঠনের মাধ্যমে সেই প্রত্যাশার দিকেই এগোচ্ছে সরকার। তবে নতুন কাঠামোতে কী পরিমাণ বেতন বৃদ্ধি হবে, কীভাবে গ্রেড পুনর্বিন্যাস হবে কিংবা নতুন ভাতা যুক্ত হবে কিনা—তা এখনই নিশ্চিত নয়।
বেতন কমিশনের সুপারিশ হাতে পাওয়ার পরই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন