নজর বিডি

শীতের শুরুতেই ব্যস্ত লেপ-তোশকের কারিগররা

শীতের শুরুতেই ব্যস্ত লেপ-তোশকের কারিগররা

জান্নাতুল বিশ্বাস, নড়াইল

দিনের বেলায় রোদের হালকা উষ্ণতা থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই বইছে হিমেল হাওয়া। রাত ও ভোরের কনকনে ঠান্ডায় প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীতের তীব্রতার আগমন। শীত শুরু হতেই নড়াইলে বেড়েছে লেপ, তোশক, জাজিম ও কম্বলের চাহিদা। এই বাড়তি চাহিদাকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-তোশকের কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।

নড়াইল জেলা শহরের তুলা পট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কারখানায় চলছে তুলা ঝাড়া, সেলাই ও প্যাকেজিংয়ের কাজ। আগে যেখানে এক-দু’জন শ্রমিক কাজ করতেন, এখন বাড়তি অর্ডার সামলাতে তিন-চারজন একসঙ্গে কাজ করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, রোদের তাপ কমে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপ-তোশকের বেচাকেনা আরও বাড়বে। তবে কাপড়সহ বিভিন্ন উপকরণের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় লেপ-তোশক তৈরির খরচও বেড়েছে।

কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যস্ত এই মৌসুমে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা কাজ করতে হয়। ২২ বছর ধরে লেপ-তোশক তৈরির সঙ্গে যুক্ত এক কারিগর বলেন, “সারা বছর কমবেশি কাজ থাকে, তবে শীতের সময় কাজের চাপ সবচেয়ে বেশি। দিনে ১৫–২০টা লেপ তৈরি করা যায়। আয় খুব বেশি না, সংসার চালানো কষ্টকর। শিখেছি বলেই বাধ্য হয়ে এই কাজ করে যাচ্ছি।”

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ায় লেপ-তোশক তৈরির উপকরণের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে লেপ তৈরির প্রতি গজ কাপড়ের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, তোশকের কাপড় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং জাজিমের কাপড় ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রকারভেদে গার্মেন্টস তুলা কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা, ফোম তুলা ২০০ টাকা এবং শিমুল তুলা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জুটের দাম কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। তুলার দাম এবার প্রায় সব প্রকারে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে রেডিমেড লেপ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, আর জাজিমের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠেছে নড়াইলের লেপ-তোশকের ব্যবসা। যদিও উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে খরচ বেড়েছে, তবুও শীত মৌসুমকে ঘিরে আশায় বুক বেঁধে আছেন জেলার কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


শীতের শুরুতেই ব্যস্ত লেপ-তোশকের কারিগররা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

জান্নাতুল বিশ্বাস, নড়াইল

দিনের বেলায় রোদের হালকা উষ্ণতা থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই বইছে হিমেল হাওয়া। রাত ও ভোরের কনকনে ঠান্ডায় প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীতের তীব্রতার আগমন। শীত শুরু হতেই নড়াইলে বেড়েছে লেপ, তোশক, জাজিম ও কম্বলের চাহিদা। এই বাড়তি চাহিদাকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-তোশকের কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।

নড়াইল জেলা শহরের তুলা পট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কারখানায় চলছে তুলা ঝাড়া, সেলাই ও প্যাকেজিংয়ের কাজ। আগে যেখানে এক-দু’জন শ্রমিক কাজ করতেন, এখন বাড়তি অর্ডার সামলাতে তিন-চারজন একসঙ্গে কাজ করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, রোদের তাপ কমে শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লেপ-তোশকের বেচাকেনা আরও বাড়বে। তবে কাপড়সহ বিভিন্ন উপকরণের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় লেপ-তোশক তৈরির খরচও বেড়েছে।

কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্যস্ত এই মৌসুমে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা কাজ করতে হয়। ২২ বছর ধরে লেপ-তোশক তৈরির সঙ্গে যুক্ত এক কারিগর বলেন, “সারা বছর কমবেশি কাজ থাকে, তবে শীতের সময় কাজের চাপ সবচেয়ে বেশি। দিনে ১৫–২০টা লেপ তৈরি করা যায়। আয় খুব বেশি না, সংসার চালানো কষ্টকর। শিখেছি বলেই বাধ্য হয়ে এই কাজ করে যাচ্ছি।”

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ায় লেপ-তোশক তৈরির উপকরণের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মৌসুমে লেপ তৈরির প্রতি গজ কাপড়ের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, তোশকের কাপড় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং জাজিমের কাপড় ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রকারভেদে গার্মেন্টস তুলা কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা, ফোম তুলা ২০০ টাকা এবং শিমুল তুলা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জুটের দাম কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। তুলার দাম এবার প্রায় সব প্রকারে ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে রেডিমেড লেপ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়, আর জাজিমের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠেছে নড়াইলের লেপ-তোশকের ব্যবসা। যদিও উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে খরচ বেড়েছে, তবুও শীত মৌসুমকে ঘিরে আশায় বুক বেঁধে আছেন জেলার কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত