নজর বিডি

আপনার অজান্তেই মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে যে ৫টি অভ্যাস

আপনার অজান্তেই মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে যে ৫টি অভ্যাস

আধুনিক জীবন আমাদেরকে চিরস্থায়ী চাপের মধ্যে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবিরাম স্ক্রলিং আমাদের মনোযোগের প্রায় সমস্তটাই কেড়ে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্কের এই আধুনিক মহামারীর পিছনে সাতটি মূল অপরাধী চিহ্নিত করেছেন।


   মস্তিষ্কের ক্ষতি

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও ডিজিটাল আসক্তি আমাদের অজান্তেই মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। অবিরাম স্মার্টফোন স্ক্রলিং থেকে শুরু করে অনিয়মিত জীবনযাপন—সব মিলিয়ে আমাদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি লোপ পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্কের এই আধুনিক মহামারীর পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন।

১. ডিজিটাল স্টিমুলেশন ও মনোযোগের অভাব: ফোনের প্রতিটি নোটিফিকেশন আপনার মস্তিষ্কের গভীর মনোযোগ নষ্ট করে। গবেষণায় দেখা গেছে, একবার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তা ফিরে পেতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এই ক্রমাগত মনোযোগ পরিবর্তনের ফলে মস্তিষ্কের গ্লুকোজ রিজার্ভ দ্রুত শেষ হয়ে যায়, যা আপনাকে অসময়েই ক্লান্ত করে তোলে।

২. ঘুমের গুণমান কমে যাওয়া: শুধু সাত ঘণ্টা ঘুমানোই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন গভীর ঘুম। গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের 'গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম' সারাদিনের জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করে (ডিটক্স)। কিন্তু ঘুমানোর আগে স্ক্রিন থেকে আসা নীল আলো এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। তাই ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের গ্যাজেট থেকে দূরে থাকা জরুরি।

৩. ইনফরমেশন ওভারলোড বা তথ্যের সুনামি: আমরা বর্তমানে এক দিনে যত তথ্য গ্রহণ করি, তা ১৮০০-এর দশকের একজন মানুষের পুরো জীবনের তথ্যের চেয়েও বেশি। এই বাড়তি তথ্যের চাপে আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই অপ্রয়োজনীয় নিউজ ফিড বা তথ্যের আদান-প্রদান কমিয়ে কেবল প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণে মনোযোগী হতে হবে।

৪. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ: অফিসের কাজ বা ব্যক্তিগত জীবনের দীর্ঘস্থায়ী চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি সরাসরি মস্তিষ্কের মেমরি সেন্টার বা স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে। এর প্রতিকারে নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (যেমন: ৪-৭-৮ কৌশল) কার্যকরী হতে পারে।

৫. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমিয়ে দেয়। ব্যায়াম করলে শরীরে BDNF নামক উপাদান তৈরি হয়, যা নিউরনের পুষ্টি হিসেবে কাজ করে। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস আপনার মস্তিষ্ককে সজীব রাখতে সাহায্য করবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


আপনার অজান্তেই মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে যে ৫টি অভ্যাস

প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬

featured Image

আধুনিক জীবন আমাদেরকে চিরস্থায়ী চাপের মধ্যে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে। অবিরাম স্ক্রলিং আমাদের মনোযোগের প্রায় সমস্তটাই কেড়ে নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্কের এই আধুনিক মহামারীর পিছনে সাতটি মূল অপরাধী চিহ্নিত করেছেন।


   মস্তিষ্কের ক্ষতি

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা ও ডিজিটাল আসক্তি আমাদের অজান্তেই মস্তিষ্কের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। অবিরাম স্মার্টফোন স্ক্রলিং থেকে শুরু করে অনিয়মিত জীবনযাপন—সব মিলিয়ে আমাদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি লোপ পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মস্তিষ্কের এই আধুনিক মহামারীর পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন।

১. ডিজিটাল স্টিমুলেশন ও মনোযোগের অভাব: ফোনের প্রতিটি নোটিফিকেশন আপনার মস্তিষ্কের গভীর মনোযোগ নষ্ট করে। গবেষণায় দেখা গেছে, একবার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হলে তা ফিরে পেতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। এই ক্রমাগত মনোযোগ পরিবর্তনের ফলে মস্তিষ্কের গ্লুকোজ রিজার্ভ দ্রুত শেষ হয়ে যায়, যা আপনাকে অসময়েই ক্লান্ত করে তোলে।

২. ঘুমের গুণমান কমে যাওয়া: শুধু সাত ঘণ্টা ঘুমানোই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন গভীর ঘুম। গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের 'গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম' সারাদিনের জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করে (ডিটক্স)। কিন্তু ঘুমানোর আগে স্ক্রিন থেকে আসা নীল আলো এই প্রক্রিয়ায় বাধা দেয়। তাই ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের গ্যাজেট থেকে দূরে থাকা জরুরি।

৩. ইনফরমেশন ওভারলোড বা তথ্যের সুনামি: আমরা বর্তমানে এক দিনে যত তথ্য গ্রহণ করি, তা ১৮০০-এর দশকের একজন মানুষের পুরো জীবনের তথ্যের চেয়েও বেশি। এই বাড়তি তথ্যের চাপে আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। তাই অপ্রয়োজনীয় নিউজ ফিড বা তথ্যের আদান-প্রদান কমিয়ে কেবল প্রয়োজনীয় তথ্য গ্রহণে মনোযোগী হতে হবে।

৪. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ: অফিসের কাজ বা ব্যক্তিগত জীবনের দীর্ঘস্থায়ী চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এটি সরাসরি মস্তিষ্কের মেমরি সেন্টার বা স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে। এর প্রতিকারে নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (যেমন: ৪-৭-৮ কৌশল) কার্যকরী হতে পারে।

৫. শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমিয়ে দেয়। ব্যায়াম করলে শরীরে BDNF নামক উপাদান তৈরি হয়, যা নিউরনের পুষ্টি হিসেবে কাজ করে। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস আপনার মস্তিষ্ককে সজীব রাখতে সাহায্য করবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত