‘সন্তান আইতাছে লাশ, আমি কেমনে সহ্য করমু। আমার পোলাডারে একবার ধরতে দিও, আমি মাটি দিমু।’— এভাবেই বুকফাটা আহাজারিতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার হরনখোলা গ্রামের ময়না বেগম।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলায় নিহত ছেলে করিম মিয়ার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকে পুরো পরিবার ও গ্রামে চলছে শোকের মাতম।
গত সোমবার (১১ মে) রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় বন্ধুর সঙ্গে অবস্থানকালে ড্রোন হামলার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান করিম মিয়া (৪৬)। তিনি শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের কাজম আলীর ছোট ছেলে।
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে এক যুগ আগে লেবাননে পাড়ি জমান করিম। সেখানে একটি মুদির দোকানে কাজ করতেন তিনি। তার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো পরিবার।
নিহতের স্ত্রী শরীফা বেগম জানান, গত রোববার রাতে শেষবার কথা হয়েছিল করিমের সঙ্গে। করিম বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে দ্রুতই। কিন্তু সোমবারের হামলায় সব শেষ হয়ে গেল।
বাড়িতে রয়েছেন ১৮ মাস বয়সী কন্যা নুসরাত ও ১৩ বছরের ছেলে রাহিম। অবুঝ শিশু নুসরাত সবার কান্না দেখে কাঁদলেও বড় ছেলে রাহিম নির্বাক হয়ে বসে আছে। পরিবারের একমাত্র দাবি, সরকার যেন দ্রুত করিমের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, করিম অত্যন্ত অমায়িক ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ নরসিংদী, লেবানন, ড্রোন হামলা, প্রবাসী নিহত, শিবপুর, শোকের মাতম, মরদেহ ফেরত, বাংলাদেশ সরকার, বৈরুত যুদ্ধ, রেমিট্যান্স যোদ্ধা। Narsingdi, Lebanon, Drone Attack, Expatriate Killed, Shibpur, Mourning, Repatriation of Body, Bangladesh Government, Middle East Conflict, Migrant Worker.

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
‘সন্তান আইতাছে লাশ, আমি কেমনে সহ্য করমু। আমার পোলাডারে একবার ধরতে দিও, আমি মাটি দিমু।’— এভাবেই বুকফাটা আহাজারিতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার হরনখোলা গ্রামের ময়না বেগম।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলায় নিহত ছেলে করিম মিয়ার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর থেকে পুরো পরিবার ও গ্রামে চলছে শোকের মাতম।
গত সোমবার (১১ মে) রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় বন্ধুর সঙ্গে অবস্থানকালে ড্রোন হামলার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান করিম মিয়া (৪৬)। তিনি শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের কাজম আলীর ছোট ছেলে।
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে এক যুগ আগে লেবাননে পাড়ি জমান করিম। সেখানে একটি মুদির দোকানে কাজ করতেন তিনি। তার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিল পুরো পরিবার।
নিহতের স্ত্রী শরীফা বেগম জানান, গত রোববার রাতে শেষবার কথা হয়েছিল করিমের সঙ্গে। করিম বলেছিলেন, যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে দ্রুতই। কিন্তু সোমবারের হামলায় সব শেষ হয়ে গেল।
বাড়িতে রয়েছেন ১৮ মাস বয়সী কন্যা নুসরাত ও ১৩ বছরের ছেলে রাহিম। অবুঝ শিশু নুসরাত সবার কান্না দেখে কাঁদলেও বড় ছেলে রাহিম নির্বাক হয়ে বসে আছে। পরিবারের একমাত্র দাবি, সরকার যেন দ্রুত করিমের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, করিম অত্যন্ত অমায়িক ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন