নজর বিডি

টিকটক নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

টিকটক নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক
ছবি-নিহত সুমনা ফেরদৌসী, আটক লিমন মল্লিক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরে নড়াইলের লোহাগড়ায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূর নাম সুমনা ফেরদৌসী। 

আটক যুবকের নাম লিমন মল্লিক (২৭)। আটক লিমন মল্লিক লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে। নিহত সুমনা ফেরদৌসী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন রাতে লিমনকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিমন মল্লিক ও সুমনা ফেরদৌসী ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিলো লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনা ফেরদৌসীর চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর লিমন সুমনাকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্তে¡ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে আনাকে কেন্দ্র করে পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হলে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। 

পুলিশ জানায়, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক লিমন মল্লিক জানায়। লিমনের অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করার পাশাপাশি অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। তবে সুমনা এ ধরনের কর্মকাÐ ভবিষ্যতে করবে না বলে স্বামী লিমনের কাছে ওয়াদা করেন। সোমবার (১৫ জুন) সকালে টিকটক ব্যবহার ও অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে আবারও তাদের মধ্যে বাগ্বিতÐা শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্বামী লিমনের আঘাতে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে সুমনাকে তার স্বামী শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।”

পুলিশ আরও জানায়, “এরপর সকাল ১০টার দিকে লিমন স্বাভাবিক নিয়মে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাÐ। সন্দেহের ভিত্তিতে সোমবার রাতে লিমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। এরপর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করে।”

লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, “আটক লিমন মল্লিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”#

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টিকটক নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী আটক

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬

featured Image

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক ব্যবহারকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের জেরে নড়াইলের লোহাগড়ায় স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূর নাম সুমনা ফেরদৌসী। 

আটক যুবকের নাম লিমন মল্লিক (২৭)। আটক লিমন মল্লিক লোহাগড়া উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে। নিহত সুমনা ফেরদৌসী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। সুমনার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার চর দিঘলিয়া গ্রামে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন রাতে লিমনকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লিমন মল্লিক ও সুমনা ফেরদৌসী ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়। পরে ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়। এটি ছিলো লিমনের দ্বিতীয় এবং সুমনা ফেরদৌসীর চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর লিমন সুমনাকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। তবে প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্তে¡ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাড়িতে আনাকে কেন্দ্র করে পরিবারে বিরোধ সৃষ্টি হলে লিমনের প্রথম স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে রংপুরে চলে যান। এরপর লিমন চায়ের দোকান চালানোর পাশাপাশি কাঠ কাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। 

পুলিশ জানায়, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক লিমন মল্লিক জানায়। লিমনের অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সুমনা টিকটকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও পোস্ট করার পাশাপাশি অপরিচিত পুরুষদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন। বিষয়টি নিয়ে তাদের পারিবারিক কলহ লেগেই থাকতো। তবে সুমনা এ ধরনের কর্মকাÐ ভবিষ্যতে করবে না বলে স্বামী লিমনের কাছে ওয়াদা করেন। সোমবার (১৫ জুন) সকালে টিকটক ব্যবহার ও অনলাইনে যোগাযোগ নিয়ে আবারও তাদের মধ্যে বাগ্বিতÐা শুরু হয়। এক পর্যায়ে স্বামী লিমনের আঘাতে সুমনা আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে সুমনাকে তার স্বামী শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখেন।”

পুলিশ আরও জানায়, “এরপর সকাল ১০টার দিকে লিমন স্বাভাবিক নিয়মে কাজে চলে যান। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং হত্যাকাÐ। সন্দেহের ভিত্তিতে সোমবার রাতে লিমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। এরপর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার দায় স্বীকার করে।”

লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, “আটক লিমন মল্লিক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী সুমনাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”#


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত