ব্যাপক বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ইনফান্তিনো জানান, প্রস্তাবটি ঘিরে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা এর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই পরিকল্পনাটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।
ফিফার এই পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। সদস্য দেশগুলোর সমর্থন পেতে প্রতিটি দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।
তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করে। তারা জানিয়েছিল, প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এছাড়া উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। ফলে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর অভিযোগ করেন, এই পরিকল্পনা নিয়ে ফিফার প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ফিফার বৈশ্বিক কৌশল ও সুশাসনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পরিকল্পনার বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেন।
তিনি বলেন, এটি ফুটবলের জন্য ভালো চুক্তি নয় এবং এর মাধ্যমে ফুটবলের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ইনফান্তিনোর পরিকল্পনায় ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ছিল। যেখানে বাইরের বিনিয়োগকারীরা অংশীদার হতে পারতেন। পরিকল্পনাটি থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছিল।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, এতে ফুটবলের বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণে বাইরের প্রভাব বাড়তে পারে। বিশেষ করে নারী ফুটবলের বিষয়টি পরিকল্পনায় গুরুত্ব না পাওয়ায় সমালোচনা হয়।
২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হওয়া ইনফান্তিনো আগামী মার্চে চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই বিতর্ক তার নেতৃত্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
পরিকল্পনা বাতিলের পর ইনফান্তিনো বলেন, ফিফার লক্ষ্য সবসময় ফুটবলের ঐক্য ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তবে বিতর্কিত প্রস্তাবটি সংস্থার ভেতরে বিভাজন তৈরি করায় তা আর বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
ব্যাপক বিরোধিতার মুখে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি বিনিয়োগ আনার বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ইনফান্তিনো জানান, প্রস্তাবটি ঘিরে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা এর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই পরিকল্পনাটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।
ফিফার এই পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। সদস্য দেশগুলোর সমর্থন পেতে প্রতিটি দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো।
তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশ পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করে। তারা জানিয়েছিল, প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এছাড়া উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে। ফলে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুর অভিযোগ করেন, এই পরিকল্পনা নিয়ে ফিফার প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ফিফার বৈশ্বিক কৌশল ও সুশাসনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পরিকল্পনার বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেন।
তিনি বলেন, এটি ফুটবলের জন্য ভালো চুক্তি নয় এবং এর মাধ্যমে ফুটবলের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ইনফান্তিনোর পরিকল্পনায় ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ছিল। যেখানে বাইরের বিনিয়োগকারীরা অংশীদার হতে পারতেন। পরিকল্পনাটি থেকে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছিল।
তবে সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, এতে ফুটবলের বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণে বাইরের প্রভাব বাড়তে পারে। বিশেষ করে নারী ফুটবলের বিষয়টি পরিকল্পনায় গুরুত্ব না পাওয়ায় সমালোচনা হয়।
২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হওয়া ইনফান্তিনো আগামী মার্চে চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই বিতর্ক তার নেতৃত্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
পরিকল্পনা বাতিলের পর ইনফান্তিনো বলেন, ফিফার লক্ষ্য সবসময় ফুটবলের ঐক্য ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তবে বিতর্কিত প্রস্তাবটি সংস্থার ভেতরে বিভাজন তৈরি করায় তা আর বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন