দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। বাংলাদেশ সময় আজ সকালে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। অভিনেতার সঙ্গে রয়েছেন তার জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। ইলিয়াস কাঞ্চনের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘নিরাপদ নিউজ’-এর সংবাদকর্মী সোহাগ এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ অভিনেতার দেশে ফেরার এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রিয় মাতৃভূমিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের এই ফেরা দীর্ঘদিনের জন্য নয়। নিসচা নেতা লিটন এরশাদ জানিয়েছেন, আগামী ১৪ আগস্টের আগেই তাকে আবারও লন্ডনে ফিরে যেতে হবে। কারণ ১৫ আগস্ট সেখানে তার পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত এই গুণী অভিনেতা। জানা গেছে, লন্ডনে দীর্ঘ চিকিৎসায় এরই মধ্যে তাকে ৬০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসার ধকল এবং বয়সের কারণে অভিনেতার অবয়বেও এসেছে বেশ পরিবর্তন। হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে তোলা একটি ছবিতে দেখা গেছে, সাদা চুল-দাড়িতে হুইলচেয়ারে বসে আছেন ঢাকাই সিনেমার একসময়ের এই মহানায়ক। লন্ডনের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ কোনো উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন লিটন এরশাদ। আবেগাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, "লন্ডনের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, পরিবারও কোনো কমতি রাখেনি। অথচ আশানুরূপ ফল মেলেনি, যে কারণে আমাদের কনফিডেন্স লেভেলটাও এখন কিছুটা কমে এসেছে। কাঞ্চন ভাই নিজেও দেশে ফেরার জন্য ভীষণ ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। তাই কয়েক দিনের জন্য হলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।" গত বছরের এপ্রিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর আগস্টে তার মস্তিষ্কে একটি বড় অস্ত্রোপচার (সার্জারি) করা হয়। তবে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সে সময় টিউমারের পুরো অংশটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শে নিয়মিত কেমোথেরাপি চলছিল তার। ইলিয়াস কাঞ্চন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় অভিনেতা। তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ সিনেমাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছিল, যা আজও অক্ষুণ্ণ। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সরকারের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হয়েছেন। প্রিয় অভিনেতার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। বাংলাদেশ সময় আজ সকালে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। অভিনেতার সঙ্গে রয়েছেন তার জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। ইলিয়াস কাঞ্চনের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘নিরাপদ নিউজ’-এর সংবাদকর্মী সোহাগ এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট লিটন এরশাদ অভিনেতার দেশে ফেরার এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রিয় মাতৃভূমিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের এই ফেরা দীর্ঘদিনের জন্য নয়। নিসচা নেতা লিটন এরশাদ জানিয়েছেন, আগামী ১৪ আগস্টের আগেই তাকে আবারও লন্ডনে ফিরে যেতে হবে। কারণ ১৫ আগস্ট সেখানে তার পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত এই গুণী অভিনেতা। জানা গেছে, লন্ডনে দীর্ঘ চিকিৎসায় এরই মধ্যে তাকে ৬০টি কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসার ধকল এবং বয়সের কারণে অভিনেতার অবয়বেও এসেছে বেশ পরিবর্তন। হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে তোলা একটি ছবিতে দেখা গেছে, সাদা চুল-দাড়িতে হুইলচেয়ারে বসে আছেন ঢাকাই সিনেমার একসময়ের এই মহানায়ক। লন্ডনের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পরও ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার আশানুরূপ কোনো উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন লিটন এরশাদ। আবেগাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, "লন্ডনের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, পরিবারও কোনো কমতি রাখেনি। অথচ আশানুরূপ ফল মেলেনি, যে কারণে আমাদের কনফিডেন্স লেভেলটাও এখন কিছুটা কমে এসেছে। কাঞ্চন ভাই নিজেও দেশে ফেরার জন্য ভীষণ ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। তাই কয়েক দিনের জন্য হলেও তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।" গত বছরের এপ্রিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর আগস্টে তার মস্তিষ্কে একটি বড় অস্ত্রোপচার (সার্জারি) করা হয়। তবে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সে সময় টিউমারের পুরো অংশটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই চিকিৎসকদের পরামর্শে নিয়মিত কেমোথেরাপি চলছিল তার। ইলিয়াস কাঞ্চন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং জনপ্রিয় অভিনেতা। তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ সিনেমাটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়েছিল, যা আজও অক্ষুণ্ণ। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সরকারের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হয়েছেন। প্রিয় অভিনেতার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।

আপনার মতামত লিখুন