আদালতে ভাঙচুর ও বিচারকের ওপর হামলার প্রতিবাদ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এমপি বুলবুল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, ২য় আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাস কামরায় ভাঙচুর এবং বিচারকদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।
সোমবার (১০ আগস্ট) তিনি আদালত চত্বরে গিয়ে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, ২য় আদালতের বিচারক মো. উজ্জল মাহমুদের এজলাস ও খাস কামরা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং আদালতের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে অবগত হন।
এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। আসামিপক্ষের কয়েকজন সমর্থকের অভিযোগ, এজলাস কক্ষে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে বিচারক মো. উজ্জল মাহমুদ এমন মন্তব্য করেন, যা তারা ‘সরকারবিরোধী’ ও ‘কটূক্তিমূলক’ বলে দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরে বিচারকের খাস কামরা ও এজলাস কক্ষের দরজা-জানালার কাঁচ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ভাঙচুরের চিহ্নও দেখা যায়।
ঘটনার পর একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিচারক মো. উজ্জল মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও অপসারণের দাবি জানানো হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আবু হাসিব ঘটনাটিকে আদালত প্রাঙ্গণে ‘মব সৃষ্টির’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আদালত চত্বর ও এজলাস কক্ষে কয়েক দফায় যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ, বিচারকের বক্তব্যের সত্যতা এবং ভাঙচুর ও হামলার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি উঠেছে। আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো বিচারকের আচরণ নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। আদালত চত্বরে হট্টগোল, ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
পরিদর্শনকালে এমপি মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাস কামরায় হামলা, ভাঙচুর এবং বিচারকদের সঙ্গে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, “আদালত হচ্ছে ন্যায়বিচারের পবিত্র স্থান। আদালতের এজলাসে ভাঙচুর এবং বিচারকদের খাস কামরায় হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের পরিচয় বা প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয় এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এমপি বুলবুল আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, হামলা বা ভাঙচুরের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।”

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬
আদালতে ভাঙচুর ও বিচারকের ওপর হামলার প্রতিবাদ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এমপি বুলবুল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, ২য় আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাস কামরায় ভাঙচুর এবং বিচারকদের ওপর হামলার অভিযোগের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল।
সোমবার (১০ আগস্ট) তিনি আদালত চত্বরে গিয়ে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, ২য় আদালতের বিচারক মো. উজ্জল মাহমুদের এজলাস ও খাস কামরা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং আদালতের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে অবগত হন।
এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। আসামিপক্ষের কয়েকজন সমর্থকের অভিযোগ, এজলাস কক্ষে বিদ্যুৎ না থাকা নিয়ে বিচারক মো. উজ্জল মাহমুদ এমন মন্তব্য করেন, যা তারা ‘সরকারবিরোধী’ ও ‘কটূক্তিমূলক’ বলে দাবি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরে বিচারকের খাস কামরা ও এজলাস কক্ষের দরজা-জানালার কাঁচ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে আদালত সংশ্লিষ্টরা জানান। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে ভাঙচুরের চিহ্নও দেখা যায়।
ঘটনার পর একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিচারক মো. উজ্জল মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও অপসারণের দাবি জানানো হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আবু হাসিব ঘটনাটিকে আদালত প্রাঙ্গণে ‘মব সৃষ্টির’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আদালত চত্বর ও এজলাস কক্ষে কয়েক দফায় যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ, বিচারকের বক্তব্যের সত্যতা এবং ভাঙচুর ও হামলার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি উঠেছে। আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো বিচারকের আচরণ নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। আদালত চত্বরে হট্টগোল, ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
পরিদর্শনকালে এমপি মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল আদালতের এজলাস ও বিচারকের খাস কামরায় হামলা, ভাঙচুর এবং বিচারকদের সঙ্গে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, “আদালত হচ্ছে ন্যায়বিচারের পবিত্র স্থান। আদালতের এজলাসে ভাঙচুর এবং বিচারকদের খাস কামরায় হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের পরিচয় বা প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয় এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এমপি বুলবুল আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখতে হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, হামলা বা ভাঙচুরের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।”

আপনার মতামত লিখুন