নজর বিডি
আপডেট : শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে খানাখন্দ, ডুমুরিয়া-চুকনগরে চরম জনদুর্ভোগ

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে খানাখন্দ, ডুমুরিয়া-চুকনগরে চরম জনদুর্ভোগ

দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভোমরা স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান সড়ক খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা নতুন রাস্তা বাজার ও চুকনগর বাজারসংলগ্ন বিস্তীর্ণ অংশ এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কের পিচ ও সুরকি উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে যানজট, ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।


সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর হয়ে সাতক্ষীরাগামী ব্যস্ত এই মহাসড়কে পণ্যবাহী ভারী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে খানাখন্দ পার হতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে গর্তগুলো অনেকটা মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।


‘নিয়মিত ট্যাক্স দিয়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়’

সড়কের বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পথচারী ও স্থানীয় যানচালকরা। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী আবদুল গনি গাজী ও মো. ফরহাদ সরদার বলেন, “টিপনা নতুন রাস্তা বাজার ও চুকনগরের অংশ দিয়ে চলাচল করাই এখন কষ্টকর। কোনো গাড়ি গর্তে পড়লে চাকা থেকে কাদাপানি ছিটকে পথচারীদের গায়ে এসে পড়ে। এছাড়া মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক উল্টে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।”


তারা বলেন, “আমরা নিয়মিত সরকারি ট্যাক্স-টোল দিই। অথচ চলাচলের উপযোগী একটি সড়ক পাব না—এটা মেনে নেওয়া কঠিন। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারে।”


জনপ্রতিনিধির ক্ষোভ

মহাসড়কের বেহাল দশা ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন।


তিনি বলেন, “খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক শুধু ডুমুরিয়ার নয়, গোটা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিপনা নতুন রাস্তা বাজার ও চুকনগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় সড়কের এমন বেহাল দশা দুঃখজনক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে।”


তিনি আরও বলেন, “খানাখন্দের কারণে প্রায়ই যানবাহন বিকল হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মাঝে মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে ইট-বালু ফেলা হলেও বৃষ্টিতে তা ধুয়ে গিয়ে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাই সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি টেকসই কার্পেটিং ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।”


দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস সওজের

সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের টিপনা নতুন রাস্তা ও চুকনগর অংশের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর বিষয়ে তারা অবগত রয়েছেন।


তিনি বলেন, “অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল ও আবহাওয়াজনিত কারণে সড়কের কিছু স্থানে বিটুমিন উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করেছে।”


নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, “সড়কটি নিরাপদ রাখতে জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাটের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও টেন্ডার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ করে স্থায়ী সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”


টেকসই সমাধানের দাবি

স্থানীয়দের মতে, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের এই অংশের বেহাল দশা শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাকেই ব্যাহত করছে না, এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের চাপ, অতিরিক্ত ওজনের পণ্য পরিবহন এবং সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।


দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—


জরুরি মেরামত: বিপজ্জনক গর্তগুলো দ্রুত পাথর ও বিটুমিন দিয়ে ভরাট করা।

উন্নত পানিনিষ্কাশন: বাজারসংলগ্ন এলাকায় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে বৃষ্টির পানি সড়কে জমে না থাকে।

ওভারলোডিং নিয়ন্ত্রণ: পণ্যবাহী ট্রাকে নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

স্থায়ী সংস্কার: সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি টেকসইভাবে সড়ক পুনর্নির্মাণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগও অনেকাংশে কমবে।

বিষয় : খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে খানাখন্দ, ডুমুরিয়া-চুকনগরে চরম জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে খানাখন্দ, ডুমুরিয়া-চুকনগরে চরম জনদুর্ভোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভোমরা স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান সড়ক খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা নতুন রাস্তা বাজার ও চুকনগর বাজারসংলগ্ন বিস্তীর্ণ অংশ এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কের পিচ ও সুরকি উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে যানজট, ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।


সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনা জিরো পয়েন্ট থেকে চুকনগর হয়ে সাতক্ষীরাগামী ব্যস্ত এই মহাসড়কে পণ্যবাহী ভারী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে খানাখন্দ পার হতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে গর্তগুলো অনেকটা মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।


‘নিয়মিত ট্যাক্স দিয়েও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়’

সড়কের বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পথচারী ও স্থানীয় যানচালকরা। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী আবদুল গনি গাজী ও মো. ফরহাদ সরদার বলেন, “টিপনা নতুন রাস্তা বাজার ও চুকনগরের অংশ দিয়ে চলাচল করাই এখন কষ্টকর। কোনো গাড়ি গর্তে পড়লে চাকা থেকে কাদাপানি ছিটকে পথচারীদের গায়ে এসে পড়ে। এছাড়া মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক উল্টে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।”


তারা বলেন, “আমরা নিয়মিত সরকারি ট্যাক্স-টোল দিই। অথচ চলাচলের উপযোগী একটি সড়ক পাব না—এটা মেনে নেওয়া কঠিন। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারে।”


জনপ্রতিনিধির ক্ষোভ

মহাসড়কের বেহাল দশা ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন।


তিনি বলেন, “খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক শুধু ডুমুরিয়ার নয়, গোটা দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিপনা নতুন রাস্তা বাজার ও চুকনগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় সড়কের এমন বেহাল দশা দুঃখজনক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে।”


তিনি আরও বলেন, “খানাখন্দের কারণে প্রায়ই যানবাহন বিকল হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মাঝে মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে ইট-বালু ফেলা হলেও বৃষ্টিতে তা ধুয়ে গিয়ে আবারও আগের অবস্থায় ফিরে আসে। তাই সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি টেকসই কার্পেটিং ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।”


দ্রুত সংস্কারের আশ্বাস সওজের

সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান মাসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের টিপনা নতুন রাস্তা ও চুকনগর অংশের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর বিষয়ে তারা অবগত রয়েছেন।


তিনি বলেন, “অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল ও আবহাওয়াজনিত কারণে সড়কের কিছু স্থানে বিটুমিন উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করেছে।”


নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, “সড়কটি নিরাপদ রাখতে জরুরি ভিত্তিতে গর্ত ভরাটের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও টেন্ডার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ করে স্থায়ী সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”


টেকসই সমাধানের দাবি

স্থানীয়দের মতে, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের এই অংশের বেহাল দশা শুধু যাতায়াত ব্যবস্থাকেই ব্যাহত করছে না, এর প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের চাপ, অতিরিক্ত ওজনের পণ্য পরিবহন এবং সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।


দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয়রা জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—


জরুরি মেরামত: বিপজ্জনক গর্তগুলো দ্রুত পাথর ও বিটুমিন দিয়ে ভরাট করা।

উন্নত পানিনিষ্কাশন: বাজারসংলগ্ন এলাকায় কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে বৃষ্টির পানি সড়কে জমে না থাকে।

ওভারলোডিং নিয়ন্ত্রণ: পণ্যবাহী ট্রাকে নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

স্থায়ী সংস্কার: সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি টেকসইভাবে সড়ক পুনর্নির্মাণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগও অনেকাংশে কমবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত