নজর বিডি

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত কার্নির

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত কার্নির

দীর্ঘদিনের মিত্র কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাণিজ্য চুক্তিতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার কিছু পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মার্কিন পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।


শনিবার (২২ আগস্ট) মধ্যরাতের পর থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে কাঠের হকি স্টিকসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। নতুন শুল্কের আওতায় পড়া পণ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির মাত্র ৫ শতাংশের কিছু বেশি।


শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কানাডার আলোচনাকারীদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কার্নি বলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কানাডার প্রতিনিধিরা দেশের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা কানাডার কাছে অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। একই সঙ্গে এসব পরিবর্তন ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।


কার্নি আরও বলেন, নতুন মার্কিন শুল্কের জবাবে কানাডা ‘ডলার ফর ডলার’ ভিত্তিতে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।


এর আগে কয়েক দিনের আলোচনায় দুই দেশ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল রয়টার্স। সম্ভাব্য চুক্তিতে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির ওপর শুল্ক কমানোর পাশাপাশি কানাডার মদের দোকানে আবারও মার্কিন মদ বিক্রির সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় ছিল।


তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, কানাডা আগে সম্মত হওয়া শর্তে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বের একটি সুযোগ হারানো।


ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ করলে কানাডা বড় রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে সুবিধাজনক শুল্ক কাঠামো পেত। তবে কানাডা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও সফটউড কাঠসহ বিভিন্ন পণ্যে আরও ছাড় চেয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।


ওই কর্মকর্তা জানান, নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে আর কোনো আলোচনা নির্ধারিত নেই।


এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা ওয়াইন, আসবাবপত্র, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক, মাছ ধরার সরঞ্জাম ও হকি সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।


বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শুল্ক কানাডার কিছু ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে কর্মসংস্থান কমার পাশাপাশি কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, কাঠ ও গাড়ি খাতের ওপর আগে থেকেই মার্কিন শুল্ক রয়েছে। গত ১৮ মাসে এসব খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়লেও এর প্রভাব এখন পর্যন্ত মূলত সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর মধ্যেই সীমিত রয়েছে।


নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটি ওয়াশিংটনে কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঁ ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের মধ্যে টানা তিন দিনের আলোচনার পর আসে।


বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে শুল্ক আরোপ ও পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি উত্তর আমেরিকার দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (USMCA) নবায়ন নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: রইটার্স।

বিষয় : কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত কার্নির

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত কার্নির

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিনের মিত্র কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাণিজ্য চুক্তিতে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার কিছু পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে মার্কিন পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।


শনিবার (২২ আগস্ট) মধ্যরাতের পর থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যে নতুন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে কাঠের হকি স্টিকসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। নতুন শুল্কের আওতায় পড়া পণ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির মাত্র ৫ শতাংশের কিছু বেশি।


শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কানাডার আলোচনাকারীদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


কার্নি বলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কানাডার প্রতিনিধিরা দেশের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা কানাডার কাছে অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। একই সঙ্গে এসব পরিবর্তন ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।


কার্নি আরও বলেন, নতুন মার্কিন শুল্কের জবাবে কানাডা ‘ডলার ফর ডলার’ ভিত্তিতে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।


এর আগে কয়েক দিনের আলোচনায় দুই দেশ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল রয়টার্স। সম্ভাব্য চুক্তিতে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির ওপর শুল্ক কমানোর পাশাপাশি কানাডার মদের দোকানে আবারও মার্কিন মদ বিক্রির সুযোগ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় ছিল।


তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, কানাডা আগে সম্মত হওয়া শর্তে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তার ভাষায়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বের একটি সুযোগ হারানো।


ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ করলে কানাডা বড় রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে সুবিধাজনক শুল্ক কাঠামো পেত। তবে কানাডা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও সফটউড কাঠসহ বিভিন্ন পণ্যে আরও ছাড় চেয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।


ওই কর্মকর্তা জানান, নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে আর কোনো আলোচনা নির্ধারিত নেই।


এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা ওয়াইন, আসবাবপত্র, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক, মাছ ধরার সরঞ্জাম ও হকি সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।


বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন শুল্ক কানাডার কিছু ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। এর ফলে কর্মসংস্থান কমার পাশাপাশি কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, কাঠ ও গাড়ি খাতের ওপর আগে থেকেই মার্কিন শুল্ক রয়েছে। গত ১৮ মাসে এসব খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়লেও এর প্রভাব এখন পর্যন্ত মূলত সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর মধ্যেই সীমিত রয়েছে।


নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটি ওয়াশিংটনে কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাঁ ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের মধ্যে টানা তিন দিনের আলোচনার পর আসে।


বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে শুল্ক আরোপ ও পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি উত্তর আমেরিকার দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (USMCA) নবায়ন নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: রইটার্স।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত