কিডনি রোগ নিঃশব্দ ঘাতকের মতো শরীরে বাসা বাঁধে, যা সময়মতো শনাক্ত না হলে মারাত্মক জটিলতায় রূপ নিতে পারে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও নেফ্রাইটিস—এই তিনটি প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সৃষ্টি করে, যা শেষ পর্যন্ত কিডনি বিকল হওয়ার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
দুই ধরনের কিডনি রোগ
টিবি হাসপাতালের উপপরিচালক
ডা. আয়েশা আক্তার গণমাধ্যমে বলেন, কিডনি রোগকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—
1️.
একিউট কিডনি ইনজুরি (AKI): হঠাৎ করে কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে একে একিউট কিডনি ইনজুরি বলা হয়।
2️.
ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD): দীর্ঘদিন ধরে কিডনির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট হলে এটিকে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
কিডনি সমস্যার লক্ষণ
- প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া
- প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া, রঙ পরিবর্তন বা দুর্গন্ধ হওয়া
- কোমর বা তলপেটে ব্যথা অনুভব করা
- হাত-পা ও মুখ ফুলে যাওয়া
- ত্বকে চুলকানি হওয়া
- অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা বমি বমি ভাব
- প্রস্রাবে ফেনা দেখা দেওয়া বা লালচে রঙ হয়ে যাওয়া
- মাংসপেশিতে টান অনুভব করা
কিডনি সুস্থ রাখতে করণীয়
✔ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
✔ পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা
✔ অতিরিক্ত লবণ ও প্রসেসড ফুড পরিহার করা
✔ ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিত্যাগ করা
✔ নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা
✔ বছরে অন্তত একবার কিডনি ফাংশন পরীক্ষা করানো
সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন
কিডনি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। যেকোনো সমস্যা শুরুতেই শনাক্ত করা গেলে বিপজ্জনক পরিণতি এড়ানো সম্ভব। শরীরে উপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আপনার মতামত লিখুন