ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসেমি রাজ্যের মুসলিমদের এবার গরু কোরবানি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে আর কখনো গরুর মাংস না খাওয়ার জন্যও অনুরোধ করেছেন।
গত রোববার (১৭ মে) বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসেমি বলেন, মুসলিমদের কোরবানির জন্য বিকল্প হিসেবে ছাগল রয়েছে। তাই সবাই যেন ছাগল দিয়েই কোরবানি সম্পন্ন করেন।
মুসলিমরা গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করলে তা প্রকারান্তরে হিন্দু ব্যবসায়ীদেরই বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ফেলবে উল্লেখ করে তিনি বলেন:
"দয়া করে কেউ গরু কোরবানি করবেন না এবং কখনো আর গরুর মাংস খাবেন না। যদি মুসলিমরা গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করে, তবে এটি আমাদের হিন্দু ভাইদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করবে। কারণ হিন্দু পরিবারগুলোই মূলত দুগ্ধ ব্যবসার সাথে জড়িত এবং তারা কোরবানির ঈদে তাদের গরু বিক্রি করেন। তারা জীবনের সব সঞ্চয় একটি গরুর পেছনে ব্যয় করেন। যখন তারা গরুটি বিক্রি করতে পারবেন না, তখন এটি তাদের জন্য অনেক বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে আসবে।"
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে—এখন থেকে অনুমতি ছাড়া রাজ্যের কোথাও গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে না। এর মাধ্যমে কার্যত গরুর মাংসের ওপর এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো গরু জবাই করতে হলে সেটির বয়স অন্তত ১৪ বছর হতে হবে এবং তা শুধুমাত্র সরকার নির্ধারিত কসাইখানায় (স্লটার হাউস) জবাই করা যাবে।
তবে পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বা কসাইখানা এখনো প্রস্তুত নয় বলে জানান ইমাম শফিক কাসেমি। তিনি বলেন, সরকারকে আগে পর্যাপ্ত কসাইখানা তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি তারা এই ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়, তবে গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণা করা উচিত।
ভারতের বর্তমান গরুর মাংস সংক্রান্ত নীতির সমালোচনা করে নাখোদা মসজিদের ইমাম বলেন:
"এখানে দুই রকম নিয়ম চলতে পারে না। একদিকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর মাংস রপ্তানিকারী দেশ। পুরো দেশে ইসলামিক রীতিতে বড় বড় কসাইখানাগুলোতে গরু জবাই হচ্ছে এবং তা থেকে বিলিয়ন ডলার আয় হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ ভারতীয়দের গরু খাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে এবং মুসলিমদের গরুর মাংসের জন্য পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়।"
তিনি দাবি করেন, যদি সরকার কসাইখানার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করে দেশজুড়ে এর জবাই এবং রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হোক।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসেমি রাজ্যের মুসলিমদের এবার গরু কোরবানি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে আর কখনো গরুর মাংস না খাওয়ার জন্যও অনুরোধ করেছেন।
গত রোববার (১৭ মে) বার্তা সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসেমি বলেন, মুসলিমদের কোরবানির জন্য বিকল্প হিসেবে ছাগল রয়েছে। তাই সবাই যেন ছাগল দিয়েই কোরবানি সম্পন্ন করেন।
মুসলিমরা গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করলে তা প্রকারান্তরে হিন্দু ব্যবসায়ীদেরই বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ফেলবে উল্লেখ করে তিনি বলেন:
"দয়া করে কেউ গরু কোরবানি করবেন না এবং কখনো আর গরুর মাংস খাবেন না। যদি মুসলিমরা গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করে, তবে এটি আমাদের হিন্দু ভাইদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করবে। কারণ হিন্দু পরিবারগুলোই মূলত দুগ্ধ ব্যবসার সাথে জড়িত এবং তারা কোরবানির ঈদে তাদের গরু বিক্রি করেন। তারা জীবনের সব সঞ্চয় একটি গরুর পেছনে ব্যয় করেন। যখন তারা গরুটি বিক্রি করতে পারবেন না, তখন এটি তাদের জন্য অনেক বড় অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে আসবে।"
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে—এখন থেকে অনুমতি ছাড়া রাজ্যের কোথাও গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে না। এর মাধ্যমে কার্যত গরুর মাংসের ওপর এক ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো গরু জবাই করতে হলে সেটির বয়স অন্তত ১৪ বছর হতে হবে এবং তা শুধুমাত্র সরকার নির্ধারিত কসাইখানায় (স্লটার হাউস) জবাই করা যাবে।
তবে পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বা কসাইখানা এখনো প্রস্তুত নয় বলে জানান ইমাম শফিক কাসেমি। তিনি বলেন, সরকারকে আগে পর্যাপ্ত কসাইখানা তৈরি করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থা করতে হবে। আর যদি তারা এই ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়, তবে গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণা করা উচিত।
ভারতের বর্তমান গরুর মাংস সংক্রান্ত নীতির সমালোচনা করে নাখোদা মসজিদের ইমাম বলেন:
"এখানে দুই রকম নিয়ম চলতে পারে না। একদিকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গরুর মাংস রপ্তানিকারী দেশ। পুরো দেশে ইসলামিক রীতিতে বড় বড় কসাইখানাগুলোতে গরু জবাই হচ্ছে এবং তা থেকে বিলিয়ন ডলার আয় হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ ভারতীয়দের গরু খাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে এবং মুসলিমদের গরুর মাংসের জন্য পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়।"
তিনি দাবি করেন, যদি সরকার কসাইখানার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করে দেশজুড়ে এর জবাই এবং রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন