উত্তরার আব্দুল্লাহপুর স্লুইস গেটের পাশ দিয়ে বয়ে চলা কালো, দুর্গন্ধময় জলধারাটিকে আজ অনেকেই কেবল একটি ড্রেন বা খাল হিসেবে দেখেন। কিন্তু ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা; এটি কোনো ড্রেন নয়, বরং উত্তরার প্রাণ, আমাদের ঐতিহ্যের অংশ ‘কনাই নদ’।
একসময় এই নদ দিয়াবাড়ি, বাউনিয়া ও আলোকদি হয়ে তুরাগের বুকে মিশে পুরো অঞ্চলকে সজীব করে রাখত। ১৭৬৫ সালের রেনেলের মানচিত্রে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদ সিএস জরিপে ১২ কিলোমিটার হিসেবে চিহ্নিত হলেও, আজ তা সংকুচিত হয়ে মাত্র ২ কিলোমিটারের একটি মৃতপ্রায় জলধারায় পরিণত হয়েছে। এটি কেবল একটি নদীর মৃত্যু নয়, বরং আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও ইতিহাসের এক করুণ পরিণতি।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ভরাট, অবৈধ দখল এবং বছরের পর বছর গৃহস্থালির বর্জ্য ও স্যুয়ারেজের সরাসরি সংযোগের ফলে কনাই নদ আজ বিষাক্ত নর্দমায় রূপ নিয়েছে। এক সময়ের উত্তর ঢাকার জীবনরেখাটি আজ নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় আর্তনাদ করছে।
তবে এখনো আশার আলো পুরোপুরি নিভে যায়নি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান, খননকাজ এবং ‘ব্লু নেটওয়ার্ক’ প্রকল্পের মাধ্যমে কনাই নদকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সর্বস্তরের নাগরিকের অংশগ্রহণ। আমাদের মনে রাখতে হবে, নদ-নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ করা এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আসুন, আমরা অঙ্গীকার করি—উন্নয়নের নামে প্রকৃতিকে হত্যা নয়, বরং প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়েই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করব। আমরা বিশ্বাস করি, সমন্বিত প্রচেষ্টায় কনাই নদ একদিন তার হারানো যৌবন ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে পাবে, আর উত্তরা ফিরে পাবে তার ঐতিহ্যবাহী জলজ রূপ।
বিষয় : নজরবিডি সংবাদ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
উত্তরার আব্দুল্লাহপুর স্লুইস গেটের পাশ দিয়ে বয়ে চলা কালো, দুর্গন্ধময় জলধারাটিকে আজ অনেকেই কেবল একটি ড্রেন বা খাল হিসেবে দেখেন। কিন্তু ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা; এটি কোনো ড্রেন নয়, বরং উত্তরার প্রাণ, আমাদের ঐতিহ্যের অংশ ‘কনাই নদ’।
একসময় এই নদ দিয়াবাড়ি, বাউনিয়া ও আলোকদি হয়ে তুরাগের বুকে মিশে পুরো অঞ্চলকে সজীব করে রাখত। ১৭৬৫ সালের রেনেলের মানচিত্রে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদ সিএস জরিপে ১২ কিলোমিটার হিসেবে চিহ্নিত হলেও, আজ তা সংকুচিত হয়ে মাত্র ২ কিলোমিটারের একটি মৃতপ্রায় জলধারায় পরিণত হয়েছে। এটি কেবল একটি নদীর মৃত্যু নয়, বরং আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও ইতিহাসের এক করুণ পরিণতি।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ভরাট, অবৈধ দখল এবং বছরের পর বছর গৃহস্থালির বর্জ্য ও স্যুয়ারেজের সরাসরি সংযোগের ফলে কনাই নদ আজ বিষাক্ত নর্দমায় রূপ নিয়েছে। এক সময়ের উত্তর ঢাকার জীবনরেখাটি আজ নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় আর্তনাদ করছে।
তবে এখনো আশার আলো পুরোপুরি নিভে যায়নি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান, খননকাজ এবং ‘ব্লু নেটওয়ার্ক’ প্রকল্পের মাধ্যমে কনাই নদকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সর্বস্তরের নাগরিকের অংশগ্রহণ। আমাদের মনে রাখতে হবে, নদ-নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ করা এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আসুন, আমরা অঙ্গীকার করি—উন্নয়নের নামে প্রকৃতিকে হত্যা নয়, বরং প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়েই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করব। আমরা বিশ্বাস করি, সমন্বিত প্রচেষ্টায় কনাই নদ একদিন তার হারানো যৌবন ও স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে পাবে, আর উত্তরা ফিরে পাবে তার ঐতিহ্যবাহী জলজ রূপ।

আপনার মতামত লিখুন