গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। পূর্বে ইতালি যাওয়ার শীর্ষে থাকলেও ২০২৬ সালে এসে সাগরপথে গ্রীসে অবৈধ প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিরা প্রথম স্থান দখল করেছে, যা একটি নতুন এবং উদ্বেগজনক রেকর্ড।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পালিত হচ্ছে 'আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস'। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—"প্রতারণার ফাঁদে বন্দি"।
ফ্রন্টেক্স ও ব্র্যাকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৪ হাজার ২৪৯ জন বাংলাদেশি বিপজ্জনক সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুট ব্যবহার করে ইতালিতে প্রবেশ করেছেন। একই সময়ে লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে গ্রীসে গিয়েছেন ৩ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি। অবৈধপথে অভিবাসনের এই চেষ্টায় লিবিয়ার ক্যাম্পে নির্যাতন, পরিবারের কাছ থেকে ২৫-৩০ লাখ টাকা জিম্মি আদায় এবং সাগরে ভেসে প্রাণহানির মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এ বছরের মার্চেই লিবিয়া থেকে গ্রীস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ১২ জনসহ অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন।
বর্তমানে মানবপাচারের ধরণ বদলেছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম) ও ভুয়া ওয়েবসাইটের লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে:
চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিদের কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার 'স্ক্যাম সেন্টারে' নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট কেড়েনি সহ সশস্ত্র জিম্মি করে অনলাইন সাইবার জালিয়াতিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিভিন্ন কারিগরি বা নিরাপত্তার কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশিদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে।
দুবাই, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে বিউটি পার্লার বা গৃহকর্মীর প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ডান্স ক্লাব ও যৌন পেশায় বাধ্য করা হচ্ছে।
টেকনাফ ও সমুদ্র উপকূল থেকে প্রলোভন ও অপহরণের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়ায় লোক পাচারের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্প্রতি 'মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করেছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, হাজার হাজার মামলা বর্তমানে বিচারাধীন এবং তদন্তের ধীরগতির কারণে অপরাধীরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল নতুন আইন করাই যথেষ্ট নয়; মানবপাচার প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত নজরদারি, পাচারকারীদের মূল চক্র ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। পূর্বে ইতালি যাওয়ার শীর্ষে থাকলেও ২০২৬ সালে এসে সাগরপথে গ্রীসে অবৈধ প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিরা প্রথম স্থান দখল করেছে, যা একটি নতুন এবং উদ্বেগজনক রেকর্ড।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পালিত হচ্ছে 'আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস'। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—"প্রতারণার ফাঁদে বন্দি"।
ফ্রন্টেক্স ও ব্র্যাকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৪ হাজার ২৪৯ জন বাংলাদেশি বিপজ্জনক সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুট ব্যবহার করে ইতালিতে প্রবেশ করেছেন। একই সময়ে লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে গ্রীসে গিয়েছেন ৩ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি। অবৈধপথে অভিবাসনের এই চেষ্টায় লিবিয়ার ক্যাম্পে নির্যাতন, পরিবারের কাছ থেকে ২৫-৩০ লাখ টাকা জিম্মি আদায় এবং সাগরে ভেসে প্রাণহানির মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। এ বছরের মার্চেই লিবিয়া থেকে গ্রীস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের ১২ জনসহ অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন।
বর্তমানে মানবপাচারের ধরণ বদলেছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম) ও ভুয়া ওয়েবসাইটের লোভনীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে:
চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিদের কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার 'স্ক্যাম সেন্টারে' নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট কেড়েনি সহ সশস্ত্র জিম্মি করে অনলাইন সাইবার জালিয়াতিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
বিভিন্ন কারিগরি বা নিরাপত্তার কাজের প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশিদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে।
দুবাই, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে বিউটি পার্লার বা গৃহকর্মীর প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ডান্স ক্লাব ও যৌন পেশায় বাধ্য করা হচ্ছে।
টেকনাফ ও সমুদ্র উপকূল থেকে প্রলোভন ও অপহরণের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়ায় লোক পাচারের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্প্রতি 'মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করেছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, হাজার হাজার মামলা বর্তমানে বিচারাধীন এবং তদন্তের ধীরগতির কারণে অপরাধীরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল নতুন আইন করাই যথেষ্ট নয়; মানবপাচার প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত নজরদারি, পাচারকারীদের মূল চক্র ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন