নজর বিডি
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

৩০ জুলাই ২০২৪: লাল প্রোফাইল ছবি হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের প্রতীক

৩০ জুলাই ২০২৪: লাল প্রোফাইল ছবি হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের প্রতীক

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ের অন্যতম প্রতীকী দিন ছিল ৩০ জুলাই। রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সরকারি সিদ্ধান্তের বিপরীতে সেদিন দেশের অসংখ্য মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল ছবি লাল রঙে পরিবর্তন করেন। মুখ ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে ছবি প্রকাশের কর্মসূচিতে অংশ নেন আন্দোলনকারীরা।

সেই কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, তারকাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাল রঙের ছবি ও ফ্রেম ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, সরকার সমর্থকদের একটি অংশ কালো রঙের প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি সমর্থন জানান।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহতদের স্মরণে সরকার ৩০ জুলাই এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল। তবে আন্দোলনকারীরা এই রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান করে লাল রংকে প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

একই রাতে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ৩১ জুলাইয়ের জন্য দেশব্যাপী ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা, গুম-খুনের প্রতিবাদ এবং ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি রাজপথেও প্রতিবাদ চলতে থাকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মুখে লাল কাপড় বেঁধে মিছিল ও মানববন্ধন করেন। রাজধানীতে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিবাদী গানের মিছিল এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিশিষ্ট নাগরিকদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়কের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

সে সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ জানান। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।

সেদিন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় ২৬৪টি মামলা দায়ের হয় এবং সারা দেশে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানায়। তবে বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গণহত্যার ঘটনা আড়াল করতেই সরকার জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি সামনে আনছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৩০ জুলাই ২০২৪: লাল প্রোফাইল ছবি হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের প্রতীক

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ের অন্যতম প্রতীকী দিন ছিল ৩০ জুলাই। রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সরকারি সিদ্ধান্তের বিপরীতে সেদিন দেশের অসংখ্য মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রোফাইল ছবি লাল রঙে পরিবর্তন করেন। মুখ ও চোখে লাল কাপড় বেঁধে ছবি প্রকাশের কর্মসূচিতে অংশ নেন আন্দোলনকারীরা।

সেই কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, তারকাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাল রঙের ছবি ও ফ্রেম ব্যবহার করেন। অন্যদিকে, সরকার সমর্থকদের একটি অংশ কালো রঙের প্রোফাইল ছবি ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় শোকের প্রতি সমর্থন জানান।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহতদের স্মরণে সরকার ৩০ জুলাই এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছিল। তবে আন্দোলনকারীরা এই রাষ্ট্রীয় শোক প্রত্যাখ্যান করে লাল রংকে প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

একই রাতে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ৩১ জুলাইয়ের জন্য দেশব্যাপী ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এতে গণহত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা, মামলা, গুম-খুনের প্রতিবাদ এবং ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি রাজপথেও প্রতিবাদ চলতে থাকে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মুখে লাল কাপড় বেঁধে মিছিল ও মানববন্ধন করেন। রাজধানীতে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্রতিবাদী গানের মিছিল এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বিশিষ্ট নাগরিকদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়কের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

সে সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ জানান। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়।

সেদিন পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় ২৬৪টি মামলা দায়ের হয় এবং সারা দেশে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার কথা জানায়। তবে বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গণহত্যার ঘটনা আড়াল করতেই সরকার জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি সামনে আনছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত