আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মানবাধিকার ও অপরাধ বিশ্লেষক; উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি পারস্পরিক মর্যাদা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনস্তক্ষেপ। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অপ্রতিসম ক্ষমতা কাঠামোর প্রভাব বহন করছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর ভারতের কিছু অবস্থান ঢাকায় নতুন করে ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
লেখকের মতে, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান এবং রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৬ দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশ সরকার এ ঘটনায় কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে একে সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখেছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরস্ত্র নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয়। ‘নন-লেথাল’ নীতি ঘোষণার পরও গুলি ও নির্যাতনের অভিযোগ অব্যাহত থাকায় মানবাধিকার প্রশ্নটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি বড় সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ ভারতকে সড়ক, রেল ও নৌপথে বিভিন্ন ট্রানজিট সুবিধা দিলেও নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যের জন্য শিলিগুড়ি করিডোর ব্যবহারের সুযোগ এখনো সীমিত। লেখক এটিকে অপ্রতিসম সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিস্তা চুক্তি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা, অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়ে অগ্রগতি না হওয়া এবং বর্ষায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি বাংলাদেশের জনমনে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। লেখকের মতে, কার্যকর তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশে অশুল্ক বাধা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। লেখক মনে করেন, ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়তে এ বিষয়ে অগ্রগতি জরুরি।
লেখকের অভিমত, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক টেকসই করতে হলে পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা, আন্তর্জাতিক আইন মান্য করা এবং সমতার ভিত্তিতে সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় অবিশ্বাস ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভবিষ্যতেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মানবাধিকার ও অপরাধ বিশ্লেষক; উপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি পারস্পরিক মর্যাদা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনস্তক্ষেপ। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অপ্রতিসম ক্ষমতা কাঠামোর প্রভাব বহন করছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর ভারতের কিছু অবস্থান ঢাকায় নতুন করে ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
লেখকের মতে, ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিকভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান এবং রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্ট ২০২৬ দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
বাংলাদেশ সরকার এ ঘটনায় কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়ে একে সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখেছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরস্ত্র নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয়। ‘নন-লেথাল’ নীতি ঘোষণার পরও গুলি ও নির্যাতনের অভিযোগ অব্যাহত থাকায় মানবাধিকার প্রশ্নটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি বড় সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ ভারতকে সড়ক, রেল ও নৌপথে বিভিন্ন ট্রানজিট সুবিধা দিলেও নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যের জন্য শিলিগুড়ি করিডোর ব্যবহারের সুযোগ এখনো সীমিত। লেখক এটিকে অপ্রতিসম সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিস্তা চুক্তি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা, অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়ে অগ্রগতি না হওয়া এবং বর্ষায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি বাংলাদেশের জনমনে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। লেখকের মতে, কার্যকর তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশে অশুল্ক বাধা নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। লেখক মনে করেন, ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়তে এ বিষয়ে অগ্রগতি জরুরি।
লেখকের অভিমত, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক টেকসই করতে হলে পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা, আন্তর্জাতিক আইন মান্য করা এবং সমতার ভিত্তিতে সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় অবিশ্বাস ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভবিষ্যতেও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে

আপনার মতামত লিখুন