নজর বিডি

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতি: পরিবর্তনশীল কৌশল ও ক্ষমতার রিয়েলপলিটিক্স

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতি: পরিবর্তনশীল কৌশল ও ক্ষমতার রিয়েলপলিটিক্স

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ক্ষমতার মেরুকরণ, কৌশলগত পুনর্বিন্যাস এবং 'রিয়েলপলিটিক্স' বা বাস্তববাদী রাজনীতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সুশাসন বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান উল্লেখ করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কোনো একক আদর্শিক ভিত্তির ওপর নয়, বরং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশল ও ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে চালিত হচ্ছে।


বিশ্লেষণে বলা হয়, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত ও অবস্থানের পেছনে এখন আদর্শিক অভিন্নতার চেয়ে 'কৌশলগত আত্মরক্ষা' এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।


নিবন্ধে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির বেশ কয়েকটি মূল দিক তুলে ধরা হয়েছে:


সুশীল উদ্যোগ ও কাঠামোগত রাজনীতি: রাজনৈতিক বিভিন্ন পদ ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সর্বজনগ্রাহ্য ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করা হলেও, বাস্তবে দলগুলোর কাঠামোগত ও কৌশলগত বোঝাপড়াই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।


প্রতীকী প্রতিরোধ ও দর-কষাকষি: রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছোট জোট বা দলগুলো জয়ের সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও স্বতন্ত্র প্রার্থী বা অবস্থান ঘোষণা করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটি হলো ‘প্রতীকী প্রতিরোধ’ (Symbolic Resistance), যার মাধ্যমে দলগুলো নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করে এবং প্রধান দলগুলোর কাছে নিজেদের দর-কষাকষির ক্ষমতা (Bargaining Power) বৃদ্ধি করে।


রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বার্তা: ক্ষমতার সমীকরণ পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে দলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি পুনর্নির্মাণ করে। এর অংশ হিসেবে অতীতে দীর্ঘকালীন মিত্রদের সাথেও কৌশলগত দূরত্ব তৈরি বা আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়ার মতো নজির দেখা যায়।


ধর্মীয় জনশক্তির রাজনৈতিক প্রভাব: কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর বিশাল জনভিত্তি ও সংগঠিত কাঠামোর কারণে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো কৌশলগত কারণেই এসব শক্তির সাথে তোষণ বা সমঝোতার রাজনীতি বজায় রাখতে বাধ্য হয়।


বিশ্লেষকের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন কেন্দ্রিক ঘটনাবলী সামনে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ক্ষমতার এই কৌশলগত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

বিষয় : ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতি: পরিবর্তনশীল কৌশল ও ক্ষমতার রিয়েলপলিটিক্স

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতি: পরিবর্তনশীল কৌশল ও ক্ষমতার রিয়েলপলিটিক্স

প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ক্ষমতার মেরুকরণ, কৌশলগত পুনর্বিন্যাস এবং 'রিয়েলপলিটিক্স' বা বাস্তববাদী রাজনীতির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সুশাসন বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান উল্লেখ করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কোনো একক আদর্শিক ভিত্তির ওপর নয়, বরং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৌশল ও ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে চালিত হচ্ছে।


বিশ্লেষণে বলা হয়, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত ও অবস্থানের পেছনে এখন আদর্শিক অভিন্নতার চেয়ে 'কৌশলগত আত্মরক্ষা' এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।


নিবন্ধে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির বেশ কয়েকটি মূল দিক তুলে ধরা হয়েছে:


সুশীল উদ্যোগ ও কাঠামোগত রাজনীতি: রাজনৈতিক বিভিন্ন পদ ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সর্বজনগ্রাহ্য ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করা হলেও, বাস্তবে দলগুলোর কাঠামোগত ও কৌশলগত বোঝাপড়াই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।


প্রতীকী প্রতিরোধ ও দর-কষাকষি: রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছোট জোট বা দলগুলো জয়ের সুনির্দিষ্ট সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও স্বতন্ত্র প্রার্থী বা অবস্থান ঘোষণা করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটি হলো ‘প্রতীকী প্রতিরোধ’ (Symbolic Resistance), যার মাধ্যমে দলগুলো নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করে এবং প্রধান দলগুলোর কাছে নিজেদের দর-কষাকষির ক্ষমতা (Bargaining Power) বৃদ্ধি করে।


রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং ও আন্তর্জাতিক বার্তা: ক্ষমতার সমীকরণ পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে দলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি পুনর্নির্মাণ করে। এর অংশ হিসেবে অতীতে দীর্ঘকালীন মিত্রদের সাথেও কৌশলগত দূরত্ব তৈরি বা আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়ার মতো নজির দেখা যায়।


ধর্মীয় জনশক্তির রাজনৈতিক প্রভাব: কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর বিশাল জনভিত্তি ও সংগঠিত কাঠামোর কারণে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো কৌশলগত কারণেই এসব শক্তির সাথে তোষণ বা সমঝোতার রাজনীতি বজায় রাখতে বাধ্য হয়।


বিশ্লেষকের মতে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনর্বাসন ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন কেন্দ্রিক ঘটনাবলী সামনে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ক্ষমতার এই কৌশলগত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত