নজর বিডি
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন নৌবাহিনীর নতুন যুদ্ধজাহাজে ট্রাম্পের বড় নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ

মার্কিন নৌবাহিনীর নতুন যুদ্ধজাহাজে ট্রাম্পের বড় নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন প্রজন্মের Gerald R. Ford শ্রেণির বিমানবাহী রণতরীর নির্মাণে বড় ধরনের নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, শ্রেণিটির চতুর্থ জাহাজ USS Doris Miller-এ আধুনিক Electromagnetic Aircraft Launch System (EMALS) বাদ দিয়ে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থায় ফিরে যাবে মার্কিন নৌবাহিনী।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনে মার্কিন করদাতাদের শত শত কোটি ডলার অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে EMALS-কে অতিরিক্ত ব্যয়বহুল ও জটিল বলে সমালোচনা করে আসছেন।

২০০৯ সালে মার্কিন নৌবাহিনী EMALS নির্বাচন করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল—

  • রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো
  • দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় কমানো
  • বিমান উৎক্ষেপণের সময় বিমানের ওপর শারীরিক চাপ কমানো
  • প্রচলিত স্টিম ক্যাটাপল্টের তুলনায় আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা

শুরুর দিকে EMALS ব্যবস্থায় নানা প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলেও পরবর্তী সময়ে এটি হাজার হাজার বিমান উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত USS Gerald R. Ford-এ ৩৬,৮৬৩টি EMALS উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছিল বলে পেন্টাগনের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

Doris Miller-এ পরিবর্তনের প্রভাব

Ford শ্রেণির চতুর্থ জাহাজ Doris Miller-এর কিল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নৌবাহিনীর কাছে জাহাজটি হস্তান্তরের সম্ভাব্য সময় ২০৩৪ সালের শুরু।

প্রযুক্তি নির্মাতা General Atomics জানিয়েছে, জাহাজটির উৎপাদন ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ায় এখন EMALS বাদ দিলে ব্যয়, সময়সূচি ও অন্যান্য ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিদেশে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সুযোগও

ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা জাতীয় নিরাপত্তা স্মারকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশি শিপইয়ার্ডে মার্কিন নৌবাহিনীর কিছু জাহাজ নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

যেসব বিদেশি জাহাজ নির্মাতা মার্কিন শিপইয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেছে, তারা সাময়িকভাবে নিজেদের মূল দেশের শিপইয়ার্ডে সর্বোচ্চ দুটি জাহাজ নির্মাণ করতে পারবে। দ্রুত জাহাজ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হবে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার Hanwha Group যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জাহাজ নির্মাতা Austal-এর মার্কিন কার্যক্রম সর্বোচ্চ ১.২ বিলিয়ন ডলারে কেনার প্রস্তাব দিয়েছে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের নির্দেশনায় পঞ্চম মার্কিন নৌ শিপইয়ার্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যার লক্ষ্য সাবমেরিন ও বিমানবাহী রণতরীর মেরামত সক্ষমতা বাড়ানো।

বিষয় : মার্কিন নৌবাহিনীর নতুন যুদ্ধজাহাজে ট্রাম্পের বড় নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মার্কিন নৌবাহিনীর নতুন যুদ্ধজাহাজে ট্রাম্পের বড় নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন প্রজন্মের Gerald R. Ford শ্রেণির বিমানবাহী রণতরীর নির্মাণে বড় ধরনের নকশা পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, শ্রেণিটির চতুর্থ জাহাজ USS Doris Miller-এ আধুনিক Electromagnetic Aircraft Launch System (EMALS) বাদ দিয়ে পুরোনো স্টিম ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থায় ফিরে যাবে মার্কিন নৌবাহিনী।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তনে মার্কিন করদাতাদের শত শত কোটি ডলার অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে EMALS-কে অতিরিক্ত ব্যয়বহুল ও জটিল বলে সমালোচনা করে আসছেন।

২০০৯ সালে মার্কিন নৌবাহিনী EMALS নির্বাচন করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল—

  • রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো
  • দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয় কমানো
  • বিমান উৎক্ষেপণের সময় বিমানের ওপর শারীরিক চাপ কমানো
  • প্রচলিত স্টিম ক্যাটাপল্টের তুলনায় আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা

শুরুর দিকে EMALS ব্যবস্থায় নানা প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলেও পরবর্তী সময়ে এটি হাজার হাজার বিমান উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত USS Gerald R. Ford-এ ৩৬,৮৬৩টি EMALS উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছিল বলে পেন্টাগনের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

Doris Miller-এ পরিবর্তনের প্রভাব

Ford শ্রেণির চতুর্থ জাহাজ Doris Miller-এর কিল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নৌবাহিনীর কাছে জাহাজটি হস্তান্তরের সম্ভাব্য সময় ২০৩৪ সালের শুরু।

প্রযুক্তি নির্মাতা General Atomics জানিয়েছে, জাহাজটির উৎপাদন ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ায় এখন EMALS বাদ দিলে ব্যয়, সময়সূচি ও অন্যান্য ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিদেশে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সুযোগও

ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা জাতীয় নিরাপত্তা স্মারকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত রয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশি শিপইয়ার্ডে মার্কিন নৌবাহিনীর কিছু জাহাজ নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

যেসব বিদেশি জাহাজ নির্মাতা মার্কিন শিপইয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেছে, তারা সাময়িকভাবে নিজেদের মূল দেশের শিপইয়ার্ডে সর্বোচ্চ দুটি জাহাজ নির্মাণ করতে পারবে। দ্রুত জাহাজ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা মার্কিন নৌবাহিনীর সক্ষমতার ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হবে।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার Hanwha Group যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা খাতে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জাহাজ নির্মাতা Austal-এর মার্কিন কার্যক্রম সর্বোচ্চ ১.২ বিলিয়ন ডলারে কেনার প্রস্তাব দিয়েছে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের নির্দেশনায় পঞ্চম মার্কিন নৌ শিপইয়ার্ড প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যার লক্ষ্য সাবমেরিন ও বিমানবাহী রণতরীর মেরামত সক্ষমতা বাড়ানো।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত