নজর বিডি
আপডেট : শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

দুয়ারীপাড়ায় ওয়াকফ প্লট মালিকদের বিক্ষোভ, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

দুয়ারীপাড়ায় ওয়াকফ প্লট মালিকদের বিক্ষোভ, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ স্টেটের প্লট মালিকরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, দালাল ও ভূমিদখলকারীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত জমি বরাদ্দ ও দখলচেষ্টার অভিযোগ তুলে শনিবার এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।


প্লট মালিক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ৪৮ একর জমি নিয়ে গঠিত সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ সম্পত্তিতে বৈধ মোতাওয়াল্লি হিসেবে আবুল কালাম আনসারী জামাল দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা ও জমির আইনগত অবস্থান উপেক্ষা করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন নামে-বেনামে এবং বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পত্তি বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।


মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে আদালতে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে ভবন নির্মাণ, জমির কাঠামোগত পরিবর্তন, প্লট দখল এবং বিক্রির তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এতে প্রকৃত প্লট মালিক ও ওয়াকফ সম্পত্তির স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।


প্লট মালিকদের ভাষ্য, এ ভূমি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল মামলা নং ১৫২১/২০২১ চলমান রয়েছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দখল ও অবস্থান অপরিবর্তিত রাখতে আদালত স্থিতাবস্থা বা Status Quo বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জমিতে নির্মাণ, দখল বা কোনো ধরনের পরিবর্তন করা হলে তা তদন্তের দাবি জানান তারা।


মানববন্ধনে ড্যাফোডিল মান্নান ও মোক্তার হোসেন নামে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমিতে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও তোলা হয়। প্লট মালিকরা জানান, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ ও বিভিন্ন পর্যায়ে নোটিশ দেওয়া হলেও তাদের অভিযোগ অনুযায়ী কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।


এদিকে ইমন নামে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন মানববন্ধনকারীরা। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ স্টেটের প্রায় ৯০ কাঠা জমি বিভিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতি জটিল করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


প্লট মালিকদের আরও দাবি, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ভবনে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা নং ৬২/২০২৪-এর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় কেউ জোরপূর্বক জমি দখল, নির্মাণকাজ, প্লট হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করলে তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।


একই সঙ্গে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কীভাবে বিতর্কিত ওয়াকফ সম্পত্তিতে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দিয়েছে, তা তদন্তের দাবি জানান তারা। বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।


প্লট মালিকরা বলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ভূমির দখল বা কাঠামোগত পরিবর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রকৃত মালিকানা, ওয়াকফ সম্পত্তির আইনগত অবস্থান এবং আদালতের আদেশ যাচাই করে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।


মানববন্ধন থেকে ভূমি দখল, অবৈধ নির্মাণ ও কথিত দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।


তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের আদেশ এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

বিষয় : দুয়ারীপাড়ায় ওয়াকফ প্লট মালিকদের বিক্ষোভ, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুয়ারীপাড়ায় ওয়াকফ প্লট মালিকদের বিক্ষোভ, আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ স্টেটের প্লট মালিকরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী, দালাল ও ভূমিদখলকারীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত জমি বরাদ্দ ও দখলচেষ্টার অভিযোগ তুলে শনিবার এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।


প্লট মালিক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ৪৮ একর জমি নিয়ে গঠিত সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ সম্পত্তিতে বৈধ মোতাওয়াল্লি হিসেবে আবুল কালাম আনসারী জামাল দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা ও জমির আইনগত অবস্থান উপেক্ষা করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন নামে-বেনামে এবং বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পত্তি বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।


মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে আদালতে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে ভবন নির্মাণ, জমির কাঠামোগত পরিবর্তন, প্লট দখল এবং বিক্রির তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এতে প্রকৃত প্লট মালিক ও ওয়াকফ সম্পত্তির স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।


প্লট মালিকদের ভাষ্য, এ ভূমি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল মামলা নং ১৫২১/২০২১ চলমান রয়েছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দখল ও অবস্থান অপরিবর্তিত রাখতে আদালত স্থিতাবস্থা বা Status Quo বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জমিতে নির্মাণ, দখল বা কোনো ধরনের পরিবর্তন করা হলে তা তদন্তের দাবি জানান তারা।


মানববন্ধনে ড্যাফোডিল মান্নান ও মোক্তার হোসেন নামে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমিতে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগও তোলা হয়। প্লট মালিকরা জানান, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ ও বিভিন্ন পর্যায়ে নোটিশ দেওয়া হলেও তাদের অভিযোগ অনুযায়ী কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।


এদিকে ইমন নামে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন মানববন্ধনকারীরা। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ওয়াকফ স্টেটের প্রায় ৯০ কাঠা জমি বিভিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতি জটিল করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


প্লট মালিকদের আরও দাবি, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় বিভিন্ন ভবনে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা নং ৬২/২০২৪-এর বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় কেউ জোরপূর্বক জমি দখল, নির্মাণকাজ, প্লট হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করলে তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।


একই সঙ্গে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কীভাবে বিতর্কিত ওয়াকফ সম্পত্তিতে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ দিয়েছে, তা তদন্তের দাবি জানান তারা। বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।


প্লট মালিকরা বলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে ভূমির দখল বা কাঠামোগত পরিবর্তনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি প্রকৃত মালিকানা, ওয়াকফ সম্পত্তির আইনগত অবস্থান এবং আদালতের আদেশ যাচাই করে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।


মানববন্ধন থেকে ভূমি দখল, অবৈধ নির্মাণ ও কথিত দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।


তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, আদালতের আদেশ এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত