নজর বিডি
আপডেট : সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

১৩ অস্ত্র, ৩০০ গুলি’ থাকার তথ্য, অভিযান শেষে মিলল ২ গ্যাস লাইটার

১৩ অস্ত্র, ৩০০ গুলি’ থাকার তথ্য, অভিযান শেষে মিলল ২ গ্যাস লাইটার

রাজধানীর ভাষানটেকের একটি বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গুলি থাকার তথ্য পেয়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে অভিযান শেষে কথিত অস্ত্র ও গুলির পরিবর্তে পিস্তলসদৃশ দুটি গ্যাস লাইটার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো তথ্যের উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট একটি বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবির কাছে ভাষানটেকের একটি বাসায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকার তথ্য পাঠানো হয়। বার্তায় নির্দিষ্ট ঠিকানা, অস্ত্রের সংখ্যা এবং কোথায় সেগুলো রাখা হয়েছে— সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়।


বার্তায় নিজেকে ‘মো. আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তার কাছে ১৩টি অবৈধ অস্ত্র, ৩০০ রাউন্ড গুলি ও ২৪টি ম্যাগাজিন রয়েছে। এসব অস্ত্র রাজধানীর ভাষানটেক এলাকার ১৬০/বি, ৩-ই উত্তর ভাষানটেকের একটি ফ্ল্যাটে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।


বার্তায় আরও বলা হয়, একটি আলমারিতে কাপড়ের নিচে লাল কস্টেপ দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় আটটি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও ২০০ রাউন্ড গুলি রয়েছে। বাকি পাঁচটি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও ১০০ রাউন্ড গুলি নিজ কক্ষের আলমারিতে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।


তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভাষানটেকের বাগানবাড়ি এলাকার ১৬০/বি নম্বর ‘বিলাস ভবনে’ যৌথ অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-৪ ও ভাষানটেক থানা পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি ডিবির সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


অভিযানে ভবনটির চতুর্থ তলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সার্জেন্ট অহিদুল হকের ই/৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। তবে বার্তায় উল্লেখ করা ১৩টি অস্ত্র, ৩০০ রাউন্ড গুলি বা ২৪টি ম্যাগাজিনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তল্লাশিতে কেবল পিস্তলসদৃশ দুটি গ্যাস লাইটার উদ্ধার করা হয়। পরে কোনো অবৈধ বা সন্দেহজনক বস্তু না পাওয়ায় ‘শূন্য জব্দ তালিকা’ দিয়ে অভিযান শেষ করা হয়।


ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে র‍্যাব, পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রাকিব খাঁন বলেন, একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভাষানটেকের একটি বাসায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকার তথ্য পাওয়ার পর ডিবির একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যদেরও পাওয়া যায়। পরে যৌথভাবে তল্লাশি চালানো হলেও সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।


তিনি বলেন, একই ব্যক্তি ডিবি, পুলিশ ও র‍্যাবকে একই বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তবে কেন একই সময়ে তিনটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। বিদেশি নম্বরটির প্রকৃত ব্যবহারকারী এবং বার্তা পাঠানোর উদ্দেশ্য শনাক্তে অনুসন্ধান চলছে।


র‍্যাব-৪ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা অস্ত্র না পাওয়ায় শূন্য জব্দ তালিকা করা হয়।


এদিকে, হোয়াটসঅ্যাপে নিজেকে ‘মো. আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ’ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে ওই বার্তা পাঠিয়েছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শত্রুতাবশত কাউকে ফাঁসানো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না— এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বিষয় : ১৩ অস্ত্র, ৩০০ গুলি’ থাকার তথ্য, অভিযান শেষে মিলল ২ গ্যাস লাইটার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


১৩ অস্ত্র, ৩০০ গুলি’ থাকার তথ্য, অভিযান শেষে মিলল ২ গ্যাস লাইটার

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজধানীর ভাষানটেকের একটি বাসায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গুলি থাকার তথ্য পেয়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে অভিযান শেষে কথিত অস্ত্র ও গুলির পরিবর্তে পিস্তলসদৃশ দুটি গ্যাস লাইটার উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো তথ্যের উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ আগস্ট একটি বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পুলিশ, র‍্যাব ও ডিবির কাছে ভাষানটেকের একটি বাসায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকার তথ্য পাঠানো হয়। বার্তায় নির্দিষ্ট ঠিকানা, অস্ত্রের সংখ্যা এবং কোথায় সেগুলো রাখা হয়েছে— সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়।


বার্তায় নিজেকে ‘মো. আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ’ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তার কাছে ১৩টি অবৈধ অস্ত্র, ৩০০ রাউন্ড গুলি ও ২৪টি ম্যাগাজিন রয়েছে। এসব অস্ত্র রাজধানীর ভাষানটেক এলাকার ১৬০/বি, ৩-ই উত্তর ভাষানটেকের একটি ফ্ল্যাটে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।


বার্তায় আরও বলা হয়, একটি আলমারিতে কাপড়ের নিচে লাল কস্টেপ দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় আটটি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও ২০০ রাউন্ড গুলি রয়েছে। বাকি পাঁচটি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও ১০০ রাউন্ড গুলি নিজ কক্ষের আলমারিতে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।


তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ আগস্ট বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভাষানটেকের বাগানবাড়ি এলাকার ১৬০/বি নম্বর ‘বিলাস ভবনে’ যৌথ অভিযান চালানো হয়। র‍্যাব-৪ ও ভাষানটেক থানা পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি ডিবির সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।


অভিযানে ভবনটির চতুর্থ তলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সার্জেন্ট অহিদুল হকের ই/৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। তবে বার্তায় উল্লেখ করা ১৩টি অস্ত্র, ৩০০ রাউন্ড গুলি বা ২৪টি ম্যাগাজিনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তল্লাশিতে কেবল পিস্তলসদৃশ দুটি গ্যাস লাইটার উদ্ধার করা হয়। পরে কোনো অবৈধ বা সন্দেহজনক বস্তু না পাওয়ায় ‘শূন্য জব্দ তালিকা’ দিয়ে অভিযান শেষ করা হয়।


ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে র‍্যাব, পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তল্লাশি চালিয়ে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রাকিব খাঁন বলেন, একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভাষানটেকের একটি বাসায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকার তথ্য পাওয়ার পর ডিবির একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যদেরও পাওয়া যায়। পরে যৌথভাবে তল্লাশি চালানো হলেও সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।


তিনি বলেন, একই ব্যক্তি ডিবি, পুলিশ ও র‍্যাবকে একই বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তবে কেন একই সময়ে তিনটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। বিদেশি নম্বরটির প্রকৃত ব্যবহারকারী এবং বার্তা পাঠানোর উদ্দেশ্য শনাক্তে অনুসন্ধান চলছে।


র‍্যাব-৪ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা অস্ত্র না পাওয়ায় শূন্য জব্দ তালিকা করা হয়।


এদিকে, হোয়াটসঅ্যাপে নিজেকে ‘মো. আবদুল্লাহ আল-আমিন শুভ’ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে ওই বার্তা পাঠিয়েছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শত্রুতাবশত কাউকে ফাঁসানো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না— এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত