নজর বিডি
আপডেট : রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

ডুমুরিয়ায় দুটি খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, ফেরত ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

ডুমুরিয়ায় দুটি খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, ফেরত ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়ম ও অপরিকল্পিত কাজের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনের কথা বলা হলেও খাল খননের পরও অনেক এলাকায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। খালের পাড়ে রোপণ করা গাছের চারাও এখন পানির নিচে রয়েছে। কোথাও কোথাও খনন করা মাটিরও কোনো অস্তিত্ব নেই।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ডুমুরিয়ার বিলডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ‘সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃখনন’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ টাকা। ফলে অব্যয়িত প্রায় ৩৮ লাখ ২৪ হাজার ১৭৬ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা।


সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় ভদ্রা নদীর নষ্ট হয়ে যাওয়া স্লুইস গেটের সামনে খনন করা মাটির তেমন অস্তিত্ব নেই। সেখানে নামমাত্র একটি বেড়িবাঁধ দেওয়া হয়েছে। বাঁধের দক্ষিণ পাশেও পানি জমে রয়েছে। মাঝের বাঁধে রোপণ করা চারাগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে।


অন্যদিকে ডুমুরিয়া-ফুলতলা এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা। এ সমস্যা নিরসনে ‘কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিলডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন’ প্রকল্প নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা। অব্যয়িত ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, খাল খননের শুরু থেকেই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫ থেকে ৭ ফুট গভীর খাল থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি তুলে খালের পাড়েই ফেলে রাখা হয়েছে। পরে সঠিকভাবে মাটি ব্যবস্থাপনা না করায় অনেক স্থানে খালের পাড়ে মাটির অস্তিত্বও নেই।


ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন বলেন, ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান।


ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি একটি মিটিংয়ে থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারেননি।


খুলনা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, ডুমুরিয়ার দুটি খাল খনন প্রকল্পে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী অবশিষ্ট অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে জমা দিয়েছে।


তবে প্রকল্প দুটির কাজের মান, জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তব সুফল এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

বিষয় : ডুমুরিয়ায় দুটি খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, ফেরত ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডুমুরিয়ায় দুটি খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ, ফেরত ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়ম ও অপরিকল্পিত কাজের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনের কথা বলা হলেও খাল খননের পরও অনেক এলাকায় কাঙ্ক্ষিত সুফল মেলেনি। খালের পাড়ে রোপণ করা গাছের চারাও এখন পানির নিচে রয়েছে। কোথাও কোথাও খনন করা মাটিরও কোনো অস্তিত্ব নেই।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ডুমুরিয়ার বিলডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ‘সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃখনন’ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ টাকা। ফলে অব্যয়িত প্রায় ৩৮ লাখ ২৪ হাজার ১৭৬ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা।


সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় ভদ্রা নদীর নষ্ট হয়ে যাওয়া স্লুইস গেটের সামনে খনন করা মাটির তেমন অস্তিত্ব নেই। সেখানে নামমাত্র একটি বেড়িবাঁধ দেওয়া হয়েছে। বাঁধের দক্ষিণ পাশেও পানি জমে রয়েছে। মাঝের বাঁধে রোপণ করা চারাগুলোও পানিতে তলিয়ে গেছে।


অন্যদিকে ডুমুরিয়া-ফুলতলা এলাকার অন্যতম বড় সমস্যা বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা। এ সমস্যা নিরসনে ‘কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিলডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন’ প্রকল্প নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা। অব্যয়িত ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, খাল খননের শুরু থেকেই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ৫ থেকে ৭ ফুট গভীর খাল থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি তুলে খালের পাড়েই ফেলে রাখা হয়েছে। পরে সঠিকভাবে মাটি ব্যবস্থাপনা না করায় অনেক স্থানে খালের পাড়ে মাটির অস্তিত্বও নেই।


ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন বলেন, ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান।


ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি একটি মিটিংয়ে থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে পারেননি।


খুলনা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম বলেন, ডুমুরিয়ার দুটি খাল খনন প্রকল্পে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী অবশিষ্ট অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে জমা দিয়েছে।


তবে প্রকল্প দুটির কাজের মান, জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তব সুফল এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত