নজর বিডি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের বড় গ্যাস আবিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের বড় গ্যাস আবিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই বিশাল একটি প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতের সন্ধান পেয়েছে ইরান। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে আবিষ্কৃত নতুন গ্যাসক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বা ২১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকনেজাদ বলেন, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য। অর্থাৎ মোট মজুতের প্রায় ৭২ থেকে ৭৩ শতাংশ গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

ইরানের তেলমন্ত্রী জানান, নতুন গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস তুলনামূলকভাবে ‘সুইট গ্যাস’, অর্থাৎ এতে সালফারজাতীয় ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা কম। ফলে গ্যাসক্ষেত্রটি উন্নয়ন ও পরিচালনার ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। এই গ্যাসক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস কনডেনসেটও রয়েছে, যার মূল্য কয়েক হাজার কোটি ডলার হতে পারে।

পাকনেজাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি ধাপের প্রায় ১৫ বছরের উৎপাদনের সমান। তবে নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের জ্বালানি খাত ইতোমধ্যে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। সংঘাত শুরুর পর দেশটির দৈনিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও কিছু সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তবু শীত মৌসুমে গ্যাস সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের নতুন এই আবিষ্কার দেশটির দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করলেও যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও বিনিয়োগ-প্রযুক্তির সংকটের কারণে দ্রুত উৎপাদনে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিষয় : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের বড় গ্যাস আবিষ্কার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ইরানের বড় গ্যাস আবিষ্কার

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যেই বিশাল একটি প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতের সন্ধান পেয়েছে ইরান। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে আবিষ্কৃত নতুন গ্যাসক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বা ২১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকনেজাদ বলেন, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনযোগ্য। অর্থাৎ মোট মজুতের প্রায় ৭২ থেকে ৭৩ শতাংশ গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হবে।

ইরানের তেলমন্ত্রী জানান, নতুন গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস তুলনামূলকভাবে ‘সুইট গ্যাস’, অর্থাৎ এতে সালফারজাতীয় ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা কম। ফলে গ্যাসক্ষেত্রটি উন্নয়ন ও পরিচালনার ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। এই গ্যাসক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস কনডেনসেটও রয়েছে, যার মূল্য কয়েক হাজার কোটি ডলার হতে পারে।

পাকনেজাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি ধাপের প্রায় ১৫ বছরের উৎপাদনের সমান। তবে নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

চলমান যুদ্ধের কারণে ইরানের জ্বালানি খাত ইতোমধ্যে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। সংঘাত শুরুর পর দেশটির দৈনিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও কিছু সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, তবু শীত মৌসুমে গ্যাস সংকটের আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের নতুন এই আবিষ্কার দেশটির দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করলেও যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও বিনিয়োগ-প্রযুক্তির সংকটের কারণে দ্রুত উৎপাদনে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত