জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেল চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে বাড়তি এই ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রে শুধু অর্থের বিনিময়ে না দিয়ে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট শর্ত জুড়ে দিতে পারে ভারত। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) বা ঋণ সহায়তায় বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এসব প্রকল্পের অনেকগুলোর কাজ থমকে যায়। এখন বাড়তি ডিজেল সরবরাহের বিনিময়ে আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত করার শর্ত দিতে পারে নয়াদিল্লি।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দ্য হিন্দুকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাংলাদেশকে ডিজেল দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভারত নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে।
ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেলের অনুরোধ বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। আর এই পরিস্থিতিকে বাংলাদেশে ভারতের অর্থায়নে চলা স্থবির প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি।
ভারতের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছে, বাংলাদেশের বাড়তি ডিজেল চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভারতের অর্থায়নে চলা যেসব অবকাঠামো প্রকল্প বর্তমানে আটকে আছে, সেগুলোর অগ্রগতির সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের বিষয়টি সমন্বয় করা হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ভারতের এলওসির আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর মোট মূল্য ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এসব প্রকল্পের মধ্যে সড়ক, রেল, সেচ, নৌপথ ও বন্দর অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে।
তবে এসব প্রকল্পের বেশিরভাগের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ভারতে অর্থায়নে বাংলাদেশে নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৫টি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, আটটির কাজ চলমান এবং আরও ১১টি প্রকল্প বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এসব প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ভারতের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বাড়ছে কি না, সেটিও নয়াদিল্লিকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের বন্দর, যোগাযোগব্যবস্থা ও শিল্প অবকাঠামোয় চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দেশটিতে চীনের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে ভারতের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ভারতের একটি সূত্র বলেছে, বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব গুছিয়ে নেওয়ার পর দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো অনুধাবন করে কাজ করবে বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে ভারতের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের সহযোগিতা একতরফাভাবে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেল চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে বাড়তি এই ডিজেল সরবরাহের ক্ষেত্রে শুধু অর্থের বিনিময়ে না দিয়ে নিজেদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট শর্ত জুড়ে দিতে পারে ভারত। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) বা ঋণ সহায়তায় বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এসব প্রকল্পের অনেকগুলোর কাজ থমকে যায়। এখন বাড়তি ডিজেল সরবরাহের বিনিময়ে আটকে থাকা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত করার শর্ত দিতে পারে নয়াদিল্লি।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দ্য হিন্দুকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাংলাদেশকে ডিজেল দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভারত নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছে।
ভারতের কাছে বাড়তি ডিজেলের অনুরোধ বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। আর এই পরিস্থিতিকে বাংলাদেশে ভারতের অর্থায়নে চলা স্থবির প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি।
ভারতের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছে, বাংলাদেশের বাড়তি ডিজেল চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ভারতের অর্থায়নে চলা যেসব অবকাঠামো প্রকল্প বর্তমানে আটকে আছে, সেগুলোর অগ্রগতির সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের বিষয়টি সমন্বয় করা হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ভারতের এলওসির আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর মোট মূল্য ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এসব প্রকল্পের মধ্যে সড়ক, রেল, সেচ, নৌপথ ও বন্দর অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে।
তবে এসব প্রকল্পের বেশিরভাগের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ভারতে অর্থায়নে বাংলাদেশে নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১৫টি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, আটটির কাজ চলমান এবং আরও ১১টি প্রকল্প বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এসব প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ভারতের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বাড়ছে কি না, সেটিও নয়াদিল্লিকে বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের বন্দর, যোগাযোগব্যবস্থা ও শিল্প অবকাঠামোয় চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি দেশটিতে চীনের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে ভারতের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ভারতের একটি সূত্র বলেছে, বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব গুছিয়ে নেওয়ার পর দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো অনুধাবন করে কাজ করবে বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে ভারতের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের সহযোগিতা একতরফাভাবে দেওয়া হবে না।

আপনার মতামত লিখুন