রাজধানীর উত্তরায় ‘পিস্তল বাবু’ নামে এক কথিত অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি উত্তরা মডেল টাউনের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পথচারীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিচ্ছে। তবে ‘পিস্তল বাবু’ নামে কথিত ওই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় এবং তার সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো নিশ্চিত করেনি।
গত ২৭ আগস্ট সকাল পৌনে ১০টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ সড়কের কাঠের ব্রিজ এলাকায় দুই লাখ এক হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। নূর নাফি ডেভেলপারস লিমিটেডের সহকারী হিসাবরক্ষক সাদিম আহমেদ সুজনের অভিযোগ, অফিস থেকে টাকা নিয়ে রিকশাযোগে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের জনতা ব্যাংকে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার রিকশার গতিরোধ করে।
তার দাবি, এ সময় এক ব্যক্তি পিস্তল বের করে গুলি করার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘পিস্তল বাবু’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন সহযোগী ছিল বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
ঘটনার পর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন বলে জানা গেছে।
নূর নাফি ডেভেলপারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনির হোসেন ও হিসাবরক্ষক সাদিম আহমেদ সুজন জানান, ঘটনার পর থেকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চলাচল নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। উত্তরা ৩, ৫, ৭, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর সেক্টর, লেক ড্রাইভ রোড, সোনারগাঁও জনপথ, বিএনএস সেন্টার, রবীন্দ্র সরণি ও জসিম উদ্দিন অ্যাভিনিউ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, উত্তরায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ৯ আগস্ট সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ জুন উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর থেকে নগদের ডিস্ট্রিবিউটরের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২০২৩ সালের ৯ মার্চ উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের টাকা বহনকারী গাড়ি থেকে ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাও আলোচনায় আসে।
তবে এসব ঘটনার সঙ্গে ‘পিস্তল বাবু’ নামে কথিত ব্যক্তির কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালিদ মুনসুর বলেন, ‘পিস্তল বাবু’ নামে কথিত ব্যক্তির নামটি তাদের কাছে নতুন। তিনি বলেন, এক রিকশাযাত্রীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা পুলিশ শুনেছে। তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। কারণ, ভুক্তভোগীর কাছে থাকা দুটি দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উত্তরার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে অস্ত্রধারী ছিনতাইকারী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর উত্তরায় ‘পিস্তল বাবু’ নামে এক কথিত অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীকে ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ওই ব্যক্তি ও তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি উত্তরা মডেল টাউনের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পথচারীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিচ্ছে। তবে ‘পিস্তল বাবু’ নামে কথিত ওই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় এবং তার সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো নিশ্চিত করেনি।
গত ২৭ আগস্ট সকাল পৌনে ১০টার দিকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপদ সড়কের কাঠের ব্রিজ এলাকায় দুই লাখ এক হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। নূর নাফি ডেভেলপারস লিমিটেডের সহকারী হিসাবরক্ষক সাদিম আহমেদ সুজনের অভিযোগ, অফিস থেকে টাকা নিয়ে রিকশাযোগে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের জনতা ব্যাংকে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার রিকশার গতিরোধ করে।
তার দাবি, এ সময় এক ব্যক্তি পিস্তল বের করে গুলি করার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘পিস্তল বাবু’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন সহযোগী ছিল বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
ঘটনার পর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেন বলে জানা গেছে।
নূর নাফি ডেভেলপারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনির হোসেন ও হিসাবরক্ষক সাদিম আহমেদ সুজন জানান, ঘটনার পর থেকে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চলাচল নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। উত্তরা ৩, ৫, ৭, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর সেক্টর, লেক ড্রাইভ রোড, সোনারগাঁও জনপথ, বিএনএস সেন্টার, রবীন্দ্র সরণি ও জসিম উদ্দিন অ্যাভিনিউ এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, উত্তরায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ৯ আগস্ট সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ জুন উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর থেকে নগদের ডিস্ট্রিবিউটরের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২০২৩ সালের ৯ মার্চ উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের টাকা বহনকারী গাড়ি থেকে ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাও আলোচনায় আসে।
তবে এসব ঘটনার সঙ্গে ‘পিস্তল বাবু’ নামে কথিত ব্যক্তির কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালিদ মুনসুর বলেন, ‘পিস্তল বাবু’ নামে কথিত ব্যক্তির নামটি তাদের কাছে নতুন। তিনি বলেন, এক রিকশাযাত্রীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা পুলিশ শুনেছে। তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কিছুটা সন্দেহ রয়েছে। কারণ, ভুক্তভোগীর কাছে থাকা দুটি দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, উত্তরার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে অস্ত্রধারী ছিনতাইকারী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন