নজর বিডি

বরিশাল বিভাগে বাড়ছে ডেঙ্গু: আক্রান্ত ৬,৫৬০, মৃত্যু ৯

বরিশাল বিভাগে বাড়ছে ডেঙ্গু: আক্রান্ত ৬,৫৬০, মৃত্যু ৯

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরে বিভাগটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৬০ জনে, যার মধ্যে চিকিৎসা চলাকালে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর বরগুনা ডেঙ্গুর হটস্পট থাকলেও এবার সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায়।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ৬টি জেলায় বর্তমানে ৩৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে পিরোজপুরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৭৭ জন এবং ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫৭৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বরিশাল জেলায় আক্রান্ত ১,০৯৬ জন। অন্য জেলাগুলোর মধ্যে বরগুনায় ৮৮৮, পটুয়াখালীতে ৮৮৩ এবং ভোলায় ৩৩৭ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬ হাজার ১৫৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

পিরোজপুর সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ৩ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় অধিকাংশকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মাত্র ১৫ জন চিকিৎসক নিয়ে এত বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

রোগীদের স্বজনরা জানান, স্থানসংকটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনটি দ্রুত চালুর দাবি জানান তারা। পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান জানান, এলাকায় সুপারি ও নারকেল গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানি এবং লোকজনের সচেতনতার অভাবে মশার উপদ্রব বেড়েছে।

গত বছর যেখানে বরগুনায় প্রায় ৭ হাজার আক্রান্ত ও ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে এবার প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ফলে চিত্র বদলে গেছে। চলতি বছর বরগুনায় আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৮৮৮ জন এবং কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম জানান, বৃষ্টির কারণে এডিস মশার বিস্তার বেড়েছে। হাসপাতালে স্যালাইন ও কিটের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এছাড়া ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগে নতুন দু’শাতাধিক চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। ঝালকাঠি ও পিরোজপুর সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে লিফট সংযোজন সম্পন্ন হলে শয্যাসংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পিরোজপুর জেলা পরিষদ ও পৌরসভার উদ্যোগে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন ও সচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করা হয়েছে।

বিষয় : বরিশাল বিভাগে বাড়ছে ডেঙ্গু: আক্রান্ত ৬,৫৬০, মৃত্যু ৯

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বরিশাল বিভাগে বাড়ছে ডেঙ্গু: আক্রান্ত ৬,৫৬০, মৃত্যু ৯

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরে বিভাগটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৫৬০ জনে, যার মধ্যে চিকিৎসা চলাকালে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বছর বরগুনা ডেঙ্গুর হটস্পট থাকলেও এবার সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায়।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ৬টি জেলায় বর্তমানে ৩৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে পিরোজপুরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭৭৭ জন এবং ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫৭৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বরিশাল জেলায় আক্রান্ত ১,০৯৬ জন। অন্য জেলাগুলোর মধ্যে বরগুনায় ৮৮৮, পটুয়াখালীতে ৮৮৩ এবং ভোলায় ৩৩৭ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬ হাজার ১৫৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

পিরোজপুর সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ৩ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় অধিকাংশকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মাত্র ১৫ জন চিকিৎসক নিয়ে এত বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

রোগীদের স্বজনরা জানান, স্থানসংকটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনটি দ্রুত চালুর দাবি জানান তারা। পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান জানান, এলাকায় সুপারি ও নারকেল গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানি এবং লোকজনের সচেতনতার অভাবে মশার উপদ্রব বেড়েছে।

গত বছর যেখানে বরগুনায় প্রায় ৭ হাজার আক্রান্ত ও ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে এবার প্রশাসনের আগাম প্রস্তুতি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ফলে চিত্র বদলে গেছে। চলতি বছর বরগুনায় আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র ৮৮৮ জন এবং কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম জানান, বৃষ্টির কারণে এডিস মশার বিস্তার বেড়েছে। হাসপাতালে স্যালাইন ও কিটের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এছাড়া ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগে নতুন দু’শাতাধিক চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। ঝালকাঠি ও পিরোজপুর সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে লিফট সংযোজন সম্পন্ন হলে শয্যাসংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পিরোজপুর জেলা পরিষদ ও পৌরসভার উদ্যোগে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন ও সচেতনতামূলক প্রচার জোরদার করা হয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত