ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের ঝড়। রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে জেলা শহরগুলো পর্যন্ত, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সবাই এক কণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্বর এই হামলার বিরুদ্ধে।
বিশ্বব্যাপী ‘No School, No Work’ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, ব্র্যাক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নেন। সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্য এলাকায় নটর ডেম, ঢাকা কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ঢল নামে।
ঢাকার শাহবাগ, বায়তুল মোকাররম, মহাখালী, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন দল কর্মসূচি পালন করে।
শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন:
“তুমি কে, আমি কে – ফিলিস্তিন, ফিলিস্তিন”,
“স্টপ জেনোসাইড ইন গাজা”,
“বয়কট ইসরায়েলি পণ্য”।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।
মার্কিন দূতাবাস এলাকায়ও অবস্থান নেন প্রতিবাদকারীরা। নিরাপত্তার স্বার্থে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা মানবপ্রাচীর গঠন করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। দূতাবাস এলাকায় যান চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ে।
ঢাকার বাইরেও—চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনীসহ প্রায় প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গাজায় ইসরায়েলের দখলদার বাহিনীর অবিলম্বে হামলা বন্ধের দাবি জানান সাধারণ জনগণ।
বাংলাদেশ সরকার গাজার বেসামরিক জনগণের ওপর চালানো ইসরায়েলের বিমান হামলা, মানবিক সহায়তা বন্ধ এবং শিশু ও নারীদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে,
“ইসরায়েল বারবার আন্তর্জাতিক অনুরোধকে উপেক্ষা করেছে এবং বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে তার অটল সমর্থন। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও আলোচনার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসারও তাগিদ দিয়েছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ এপ্রিল ২০২৫
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের ঝড়। রাজধানীর রাজপথ থেকে শুরু করে জেলা শহরগুলো পর্যন্ত, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সবাই এক কণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্বর এই হামলার বিরুদ্ধে।
বিশ্বব্যাপী ‘No School, No Work’ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, ব্র্যাক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি-বেসরকারি বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশ নেন। সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্য এলাকায় নটর ডেম, ঢাকা কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ঢল নামে।
ঢাকার শাহবাগ, বায়তুল মোকাররম, মহাখালী, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বিশাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন দল কর্মসূচি পালন করে।
শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন:
“তুমি কে, আমি কে – ফিলিস্তিন, ফিলিস্তিন”,
“স্টপ জেনোসাইড ইন গাজা”,
“বয়কট ইসরায়েলি পণ্য”।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়।
মার্কিন দূতাবাস এলাকায়ও অবস্থান নেন প্রতিবাদকারীরা। নিরাপত্তার স্বার্থে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা মানবপ্রাচীর গঠন করে পরিস্থিতি সামাল দেয়। দূতাবাস এলাকায় যান চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে পড়ে।
ঢাকার বাইরেও—চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনীসহ প্রায় প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গাজায় ইসরায়েলের দখলদার বাহিনীর অবিলম্বে হামলা বন্ধের দাবি জানান সাধারণ জনগণ।
বাংলাদেশ সরকার গাজার বেসামরিক জনগণের ওপর চালানো ইসরায়েলের বিমান হামলা, মানবিক সহায়তা বন্ধ এবং শিশু ও নারীদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে,
“ইসরায়েল বারবার আন্তর্জাতিক অনুরোধকে উপেক্ষা করেছে এবং বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।”
বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করেছে, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে তার অটল সমর্থন। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও আলোচনার প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসারও তাগিদ দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন