নজর বিডি
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

নির্বাচনের পূর্বে শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী

নির্বাচনের পূর্বে শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী

বাংলাদেশঃ লালমনিরহাট


আজ মঙ্গলবার লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল “রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি।” এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর বক্তব্যের মূল পয়েন্টসমূহ:

১. বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ:

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে "ফ্যাসিস্ট" আখ্যায়িত করে বলেন,

“২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমন করতে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়।”

তিনি দাবি করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে হত্যা, গুম, হামলা ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে বিএনপিসহ সব বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জীবন বিপর্যস্ত করে দিয়েছে সরকার।
তাঁর কথায়,

“ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দৃশ্যমান বিচার নির্বাচনের আগেই হতে হবে।”

২. খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ:

তিনি অভিযোগ করেন,

“দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী রেখে তাঁকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল সরকার। অসুস্থ অবস্থায় সঠিক চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করেও কিছু করা যায়নি।”

৩. রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা:

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের জন্য বিএনপির প্রণীত ৩১ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো—

  • দেশের সব শ্রেণির প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন।

তিনি বলেন, ৩১ দফার মধ্যে রয়েছে:

  • এক ব্যক্তি পরপর দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

  • রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা।

  • সংসদের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে এমপিদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ।

  • আস্থা ভোট, সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল ও নিরাপত্তা বিল ছাড়া বাকি বিষয়ে এমপিদের নিজস্ব অবস্থান রাখতে পারা।

৪. ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও জনসম্পৃক্ততা:

তিনি জানান, এই ৩১ দফাকে জনসম্পৃক্ত করতে দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, মতবিনিময় সভা, প্রচারপত্র ও বুকলেট বিতরণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং তা আরও বিস্তৃত হবে।

“এক ব্যক্তির শাসন থাকবে না, রাষ্ট্রকাঠামো হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার উপযোগী।”

প্রশিক্ষণ কর্মশালার অংশগ্রহণ ও আয়োজকরা:

এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলার বিএনপির নেতারা, জেলার পাঁচটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ৪৫টি ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা।
এছাড়া পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেন সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বিএনপির সাবেক তিন সংসদ সদস্য—রাশেদা বেগম, নেওয়াজ হালিমা এবং শাম্মি আখতার।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


নির্বাচনের পূর্বে শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশঃ লালমনিরহাট


আজ মঙ্গলবার লালমনিরহাট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল “রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি।” এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর বক্তব্যের মূল পয়েন্টসমূহ:

১. বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ:

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে "ফ্যাসিস্ট" আখ্যায়িত করে বলেন,

“২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমন করতে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। এতে বহু মানুষ হতাহত হয়।”

তিনি দাবি করেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে হত্যা, গুম, হামলা ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে বিএনপিসহ সব বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের জীবন বিপর্যস্ত করে দিয়েছে সরকার।
তাঁর কথায়,

“ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দৃশ্যমান বিচার নির্বাচনের আগেই হতে হবে।”

২. খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ:

তিনি অভিযোগ করেন,

“দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী রেখে তাঁকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল সরকার। অসুস্থ অবস্থায় সঠিক চিকিৎসার জন্য অনেক চেষ্টা করেও কিছু করা যায়নি।”

৩. রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা:

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের জন্য বিএনপির প্রণীত ৩১ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো—

  • দেশের সব শ্রেণির প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন।

তিনি বলেন, ৩১ দফার মধ্যে রয়েছে:

  • এক ব্যক্তি পরপর দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

  • রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা।

  • সংসদের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে এমপিদের স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ।

  • আস্থা ভোট, সংবিধান সংশোধন, অর্থবিল ও নিরাপত্তা বিল ছাড়া বাকি বিষয়ে এমপিদের নিজস্ব অবস্থান রাখতে পারা।

৪. ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও জনসম্পৃক্ততা:

তিনি জানান, এই ৩১ দফাকে জনসম্পৃক্ত করতে দেশের প্রতিটি জেলা ও বিভাগে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, মতবিনিময় সভা, প্রচারপত্র ও বুকলেট বিতরণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং তা আরও বিস্তৃত হবে।

“এক ব্যক্তির শাসন থাকবে না, রাষ্ট্রকাঠামো হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার উপযোগী।”

প্রশিক্ষণ কর্মশালার অংশগ্রহণ ও আয়োজকরা:

এই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলার বিএনপির নেতারা, জেলার পাঁচটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ৪৫টি ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা।
এছাড়া পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেন সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বিএনপির সাবেক তিন সংসদ সদস্য—রাশেদা বেগম, নেওয়াজ হালিমা এবং শাম্মি আখতার।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত