রাজনৈতিক ম্যান্ডেট ও পর্যাপ্ত ক্ষমতার অভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তবে এই দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার শুধু ‘খারাপ’ কাজ করেনি, বরং অর্থনীতিকে গভীর সংকট থেকে টেনে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন,
"দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি ছিল গভীর সংকটে। ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব প্রশাসনসহ প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল এবং চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য নেতিবাচক অবস্থায় ছিল। এসব কারণে নতুন সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দিতেই আমাদের বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে। আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। প্রথমে আমাদের রিপেয়ার (মেরামত) করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম (সংস্কার)।"
তিনি আরও বলেন, "অনেকে জানতে চান দেড় বছরে সরকার কী করেছে? কিন্তু এক দিনে সব পরিবর্তন হয় না। আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না। অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাব। আমাদের স্ট্রেন্থ (শক্তি) ছিল না, ম্যান্ডেটও ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।"
ব্যাংক খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল আইনের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। আইন সংস্কার করা ছাড়া শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে বড় কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। যে কারণে সংকটকালীন কিছু ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের অর্থসহায়তা দিতে হয়েছে।
পাশাপাশি দেশের জ্বালানি খাতের ঘাটতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়নি, অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো এই ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। একই সাথে দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার পরও দেশের অনেক শিল্প এখনো বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারেনি। বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেন।
উল্লেখ্য, আইবিএ-এর এই ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ এবং ডিবিএ—এই চারটি প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সমাবর্তন ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বিষয় : নজরবিডি নিউজ সালেহউদ্দিন আহমেদ, অন্তর্বর্তী সরকার, অর্থনৈতিক সংস্কার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আইবিএ সমাবর্তন, ব্যাংক খাত, দেশের অর্থনীতি, সমাবর্তন বক্তৃতা, জাতীয় সংবাদ Salehuddin Ahmed, Interim Government, Economic Reforms, Dhaka University, IBA Convocation, Banking Sector, Bangladesh Economy, Convocation Speech, National News

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
রাজনৈতিক ম্যান্ডেট ও পর্যাপ্ত ক্ষমতার অভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
তবে এই দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকার শুধু ‘খারাপ’ কাজ করেনি, বরং অর্থনীতিকে গভীর সংকট থেকে টেনে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন,
"দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি ছিল গভীর সংকটে। ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব প্রশাসনসহ প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে গিয়েছিল এবং চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য নেতিবাচক অবস্থায় ছিল। এসব কারণে নতুন সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দিতেই আমাদের বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে। আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। প্রথমে আমাদের রিপেয়ার (মেরামত) করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম (সংস্কার)।"
তিনি আরও বলেন, "অনেকে জানতে চান দেড় বছরে সরকার কী করেছে? কিন্তু এক দিনে সব পরিবর্তন হয় না। আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না। অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের অভাব। আমাদের স্ট্রেন্থ (শক্তি) ছিল না, ম্যান্ডেটও ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।"
ব্যাংক খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল আইনের কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে। আইন সংস্কার করা ছাড়া শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে বড় কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। যে কারণে সংকটকালীন কিছু ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের অর্থসহায়তা দিতে হয়েছে।
পাশাপাশি দেশের জ্বালানি খাতের ঘাটতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়নি, অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো এই ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। একই সাথে দীর্ঘদিন বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার পরও দেশের অনেক শিল্প এখনো বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারেনি। বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেন।
উল্লেখ্য, আইবিএ-এর এই ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ এবং ডিবিএ—এই চারটি প্রোগ্রামের মোট ৩৬৫ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সমাবর্তন ডিগ্রি প্রদান করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন