অর্থনীতি
বাজেট ২০২৫-২৬
বাড়েনি করমুক্ত আয়সীমা
স্টাফ রিপোর্টার: গাজী মো: নিয়ামুল ইসলাম ঢাকা
২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত বার্ষিক আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকাতেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে অনেকের জন্য হতাশাজনক। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি দেখালেও, বাস্তবতা বলছে—দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে।
তবে আশার কথা হলো, ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
নতুন কর কাঠামো: ধনীদের জন্য বড় ধাক্কা
এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ আয়স্তরের ওপর নতুন একটি ৩০ শতাংশ করহার প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন থেকে বার্ষিক আয় সাড়ে ৩৮ লাখ টাকার বেশি হলে, অতিরিক্ত অংশের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।
কর স্তরের বিস্তারিত (সাধারণ করদাতার জন্য):
- প্রথম ৩.৫ লাখ টাকা: করমুক্ত
- পরের ১ লাখ টাকা: ৫%
- পরবর্তী ৪ লাখ টাকা: ১০%
- এরপর ৫ লাখ টাকা: ১৫%
- আরও ৫ লাখ টাকা: ২০%
- ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত: ২৫%
- অতিরিক্ত আয়: ৩০%
বিশেষ শ্রেণির কর ছাড়
- নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা: করমুক্ত আয় ৪ লাখ টাকা
- তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতা: করমুক্ত আয় ৪.৭৫ লাখ টাকা
- গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা: করমুক্ত আয় ৫ লাখ টাকা
- ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধারা: ২০২৬–২৭ থেকে করমুক্ত আয় ৫.২৫ লাখ টাকা
- প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবকরা: প্রতি সন্তানের জন্য করমুক্ত সীমা বাড়বে ৫০ হাজার টাকা করে
ন্যূনতম কর: সবার জন্য বাধ্যতামূলক
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, করযোগ্য আয় থাকলে সবার জন্য ন্যূনতম ১,০০০ টাকা কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক। আগে শহরভেদে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা ন্যূনতম কর দিতে হতো।
মূল্যস্ফীতি বনাম আয়: বাস্তবতা কঠিন
বর্তমানে গড় মূল্যস্ফীতি ১০% ছাড়িয়েছে, কিন্তু মজুরি বেড়েছে কেবল ৮–৯%। এই ব্যবধান সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কর ছাড় না বাড়ানোয় অনেক করদাতার ওপর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।
আপনার মতামত লিখুন