নজর বিডি
প্রকাশ : শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

এসএসসি-২০২৫ এ উপজেলার শীর্ষস্থান অর্জন করলেন: ফারহানা ফরহাদ

এসএসসি-২০২৫ এ উপজেলার শীর্ষস্থান অর্জন করলেন: ফারহানা ফরহাদ
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় এসএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ফারহানা ফরহাদ। কঠিন বাস্তবতা এবং পারিবারিক বেদনাকে পাশ কাটিয়ে সে প্রমাণ করেছে, প্রত্যয় আর মেধা থাকলে কোনো বাধাই দমিয়ে রাখতে পারে না। মুকসুদপুর পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা ফরহাদ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১২২২ নম্বর পেয়ে পুরো উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেছে। তার এই অর্জন কেবল ব্যক্তি কিংবা পারিবারিক পর্যায়ে নয়—সমগ্র মুকসুদপুরবাসীর জন্য গর্বের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। উপজেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও ফলাফলে প্রশংসনীয় অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি মুকসুদপুর সাবের মিয়া জসীমুদ্দীন (এস,জে) মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর ১৯৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৮৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৩৪ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। শুধু মাত্র ১০ জন অকৃতকার্য হয়েছে। এই সফলতা প্রতিষ্ঠানটির পড়াশোনার মান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাগ্রতার প্রমাণ বহন করে। ফারহানা ফরহাদের জীবন কাহিনী অনেকটা ব্যতিক্রম। তার মা হালিমা খানম ছিলেন ১নং টেংরাখোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ফারহানা ফরহাদের জীবনের শুরুতেই আসে কঠিন এক বাস্তবতা। ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল, তার জন্মের সময়েই মা হালিমা খানম মৃত্যুবরণ করেন। হালিমা খানম ছিলেন ১নং টেংরাখোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক এবং নিজেও ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। ফারহানা মায়ের সেই মেধার উত্তরাধিকারী হয়ে আজ সকলের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। মা হারা শিশুর বেড়ে ওঠা, একাকী সংগ্রাম এবং সীমিত পরিবেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এই যাত্রা কোনো সাধারণ কাহিনী নয়। বাবা গোলাম ফরহাদ রিপন, একজন সৎ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী, মেয়ের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছেন। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “মেয়ের জন্মের দিনই তার মা চলে যায়। আজ সে যেভাবে নিজের কৃতিত্বে সবার মুখ উজ্জ্বল করেছে, তা আমাকে গর্বিত করেছে। তবে তার মা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।” ফারহানার এই সাফল্য শুধু একটি ভালো ফলাফলের ঘটনা নয়, এটি একটি প্রতীক—সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও ভালোবাসার প্রতীক। তার এই অর্জন প্রমাণ করেছে, মেয়েরা যদি সুযোগ পায় ও পরিবার পাশে থাকে, তবে তারা যে কোনো উচ্চতা ছুঁতে পারে। স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সবাই তার কৃতিত্বের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। ফারহানার পিতা গোলাম ফরহাদ রিপন মুকসুদপুর সদর বাজারের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।ছোটবেলা থেকেই তার মেয়ে অত্যন্ত মেধাবী, মেয়ের এই কৃতিত্বে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার মেয়ের জন্মের সময়ই তার মা মারা যান। আজ তার এই ভালো রেজাল্ট আমাকে গর্বিত করেছে। তবে তার মা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।” ফারহানার সাফল্য শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো মুকসুদপুরের জন্য এক অনুপ্রেরণা। স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা তার এই অর্জনের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।দেশ এবং জাতির কল্যানে ফারহানা ভূমিকা রাখবেন বলে সবার প্রত্যাশা।  

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


এসএসসি-২০২৫ এ উপজেলার শীর্ষস্থান অর্জন করলেন: ফারহানা ফরহাদ

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৫

featured Image
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলায় এসএসসি-২০২৫ পরীক্ষায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন ফারহানা ফরহাদ। কঠিন বাস্তবতা এবং পারিবারিক বেদনাকে পাশ কাটিয়ে সে প্রমাণ করেছে, প্রত্যয় আর মেধা থাকলে কোনো বাধাই দমিয়ে রাখতে পারে না। মুকসুদপুর পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারহানা ফরহাদ এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ১২২২ নম্বর পেয়ে পুরো উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেছে। তার এই অর্জন কেবল ব্যক্তি কিংবা পারিবারিক পর্যায়ে নয়—সমগ্র মুকসুদপুরবাসীর জন্য গর্বের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। উপজেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যেও ফলাফলে প্রশংসনীয় অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি মুকসুদপুর সাবের মিয়া জসীমুদ্দীন (এস,জে) মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর ১৯৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ১৮৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ৩৪ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। শুধু মাত্র ১০ জন অকৃতকার্য হয়েছে। এই সফলতা প্রতিষ্ঠানটির পড়াশোনার মান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাগ্রতার প্রমাণ বহন করে। ফারহানা ফরহাদের জীবন কাহিনী অনেকটা ব্যতিক্রম। তার মা হালিমা খানম ছিলেন ১নং টেংরাখোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ফারহানা ফরহাদের জীবনের শুরুতেই আসে কঠিন এক বাস্তবতা। ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল, তার জন্মের সময়েই মা হালিমা খানম মৃত্যুবরণ করেন। হালিমা খানম ছিলেন ১নং টেংরাখোলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক এবং নিজেও ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। ফারহানা মায়ের সেই মেধার উত্তরাধিকারী হয়ে আজ সকলের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে। মা হারা শিশুর বেড়ে ওঠা, একাকী সংগ্রাম এবং সীমিত পরিবেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার এই যাত্রা কোনো সাধারণ কাহিনী নয়। বাবা গোলাম ফরহাদ রিপন, একজন সৎ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী, মেয়ের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছেন। সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “মেয়ের জন্মের দিনই তার মা চলে যায়। আজ সে যেভাবে নিজের কৃতিত্বে সবার মুখ উজ্জ্বল করেছে, তা আমাকে গর্বিত করেছে। তবে তার মা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।” ফারহানার এই সাফল্য শুধু একটি ভালো ফলাফলের ঘটনা নয়, এটি একটি প্রতীক—সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও ভালোবাসার প্রতীক। তার এই অর্জন প্রমাণ করেছে, মেয়েরা যদি সুযোগ পায় ও পরিবার পাশে থাকে, তবে তারা যে কোনো উচ্চতা ছুঁতে পারে। স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সবাই তার কৃতিত্বের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন। ফারহানার পিতা গোলাম ফরহাদ রিপন মুকসুদপুর সদর বাজারের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী।ছোটবেলা থেকেই তার মেয়ে অত্যন্ত মেধাবী, মেয়ের এই কৃতিত্বে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার মেয়ের জন্মের সময়ই তার মা মারা যান। আজ তার এই ভালো রেজাল্ট আমাকে গর্বিত করেছে। তবে তার মা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।” ফারহানার সাফল্য শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো মুকসুদপুরের জন্য এক অনুপ্রেরণা। স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা তার এই অর্জনের প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।দেশ এবং জাতির কল্যানে ফারহানা ভূমিকা রাখবেন বলে সবার প্রত্যাশা।  

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত