নজর বিডি

দেশের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

দেশের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৫ (বৃহস্পতিবার):

‘বাংলাদেশে নির্বাচন পদ্ধতি: পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক আজ রাজধানীর সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটির আয়োজন করে থিঙ্ক-ট্যাংক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস (CAST)

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স (এসবিই)–এর ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, বর্তমান এফপিটিপি (First Past The Post) পদ্ধতি ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে কার্যকর নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতে বিজেপির উত্থান এবং বাংলাদেশে "ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার"-এর বাস্তবতা তুলে ধরেন।

ড. করিম বলেন, “এফপিটিপি পদ্ধতিতে বিপুল সংখ্যক ভোট কার্যত হারিয়ে যায়, ফলে জনমতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটে না। এ সমস্যা মোকাবেলায় মিক্সড প্রোপোরশনাল সিস্টেম কার্যকর হতে পারে, যেখানে সংসদের অর্ধেক আসনে পিআর (Proportional Representation) এবং বাকি অর্ধেকে এফপিটিপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের বলেন, “দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে এফপিটিপি ব্যবস্থা থেকে আশানুরূপ কিছু পাওয়া যায়নি। তাই নতুন কোনো পদ্ধতি পরখ করে দেখা এখন সময়ের দাবি।” তবে তিনি যোগ করেন, “নৈতিকতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন ছাড়া কেবল নিয়ম পরিবর্তন করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।”

তবে পিআর পদ্ধতি নিয়ে সভায় ভিন্নমতও উঠে আসে। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে পরাজিত বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠী সংসদে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলতে পারে এবং ক্ষতিকর প্রস্তাবনা উত্থাপন করতে পারে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, “দেশে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে একটি সর্বজনীন ঐক্যমত্য সৃষ্টি হলেও, কী পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে—সে বিষয়ে এখনও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে।” তিনি বলেন, “পিআর পদ্ধতির বিরোধিতাকারী বড় একটি দল এই বিরোধিতার সপক্ষে এখনও যথাযথ যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। তাই পরবর্তী নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে নিম্নকক্ষে এফপিটিপি রাখা গেলেও উচ্চকক্ষে পিআর ব্যবস্থা চালু করতেই হবে।”

ড. মুনিম মোবাশ্বির, যিনি বিপ্লবী ছাত্রদের পক্ষ থেকে দুদক সংস্কার কমিশনের প্রতিনিধি, বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের জন্যই জুলাই বিপ্লব ঘটেছে। অথচ একটি বড় দল নির্বাচন ও সংস্কারকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ৭১-এর মতো ২৪-এর বিপ্লবকেও যেন কেউ পুঁজি করতে না পারে। কাউকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে প্রজেক্ট করার রাজনীতি এখন বন্ধ করতে হবে।”

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন:

  • ড. যুবাইর এহসানুল হক, চেয়ারম্যান, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • সাইফুল আলম খান মিলন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

  • অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, প্রেসিডিয়াম সদস্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

  • শাহ আবদুল হালিম, গবেষক ও কলামিস্ট

বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল নয়, জনগণকেও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার বিষয়ে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


দেশের নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৫

featured Image

ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৫ (বৃহস্পতিবার):

‘বাংলাদেশে নির্বাচন পদ্ধতি: পর্যালোচনা ও সুপারিশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক আজ রাজধানীর সিরডাপের এটিএম শামসুল হক মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাটির আয়োজন করে থিঙ্ক-ট্যাংক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস (CAST)

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স (এসবিই)–এর ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। তিনি বলেন, বর্তমান এফপিটিপি (First Past The Post) পদ্ধতি ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে কার্যকর নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতে বিজেপির উত্থান এবং বাংলাদেশে "ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার"-এর বাস্তবতা তুলে ধরেন।

ড. করিম বলেন, “এফপিটিপি পদ্ধতিতে বিপুল সংখ্যক ভোট কার্যত হারিয়ে যায়, ফলে জনমতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটে না। এ সমস্যা মোকাবেলায় মিক্সড প্রোপোরশনাল সিস্টেম কার্যকর হতে পারে, যেখানে সংসদের অর্ধেক আসনে পিআর (Proportional Representation) এবং বাকি অর্ধেকে এফপিটিপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহের বলেন, “দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে এফপিটিপি ব্যবস্থা থেকে আশানুরূপ কিছু পাওয়া যায়নি। তাই নতুন কোনো পদ্ধতি পরখ করে দেখা এখন সময়ের দাবি।” তবে তিনি যোগ করেন, “নৈতিকতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন ছাড়া কেবল নিয়ম পরিবর্তন করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়।”

তবে পিআর পদ্ধতি নিয়ে সভায় ভিন্নমতও উঠে আসে। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে পরাজিত বা ক্ষুদ্র গোষ্ঠী সংসদে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলতে পারে এবং ক্ষতিকর প্রস্তাবনা উত্থাপন করতে পারে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, “দেশে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে একটি সর্বজনীন ঐক্যমত্য সৃষ্টি হলেও, কী পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে—সে বিষয়ে এখনও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে।” তিনি বলেন, “পিআর পদ্ধতির বিরোধিতাকারী বড় একটি দল এই বিরোধিতার সপক্ষে এখনও যথাযথ যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। তাই পরবর্তী নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে নিম্নকক্ষে এফপিটিপি রাখা গেলেও উচ্চকক্ষে পিআর ব্যবস্থা চালু করতেই হবে।”

ড. মুনিম মোবাশ্বির, যিনি বিপ্লবী ছাত্রদের পক্ষ থেকে দুদক সংস্কার কমিশনের প্রতিনিধি, বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের জন্যই জুলাই বিপ্লব ঘটেছে। অথচ একটি বড় দল নির্বাচন ও সংস্কারকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ৭১-এর মতো ২৪-এর বিপ্লবকেও যেন কেউ পুঁজি করতে না পারে। কাউকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে প্রজেক্ট করার রাজনীতি এখন বন্ধ করতে হবে।”

বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন:

  • ড. যুবাইর এহসানুল হক, চেয়ারম্যান, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • সাইফুল আলম খান মিলন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

  • অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, প্রেসিডিয়াম সদস্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

  • শাহ আবদুল হালিম, গবেষক ও কলামিস্ট

বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক দল নয়, জনগণকেও নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার বিষয়ে সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত