সাদা ও গোলাপি রঙের রাশি রাশি পদ্ম, সবুজ পাতার মাঝে মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত—উভয় সময়েই এই বিলের দৃশ্য হয়ে ওঠে অভাবনীয় মোহনীয়। আর তাই প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন বিলের সৌন্দর্য উপভোগে।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় মুজোর ঘুটার এই বিলটিতে। শুরুতে পাকা রাস্তা, তারপর মেঠো পথ পেরিয়ে বিলপাড়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের প্রান্তে বাড়ির মাঝ দিয়ে মাছের ঘেরের আইল ধরে পৌঁছানো যায় বিলের কিনারে। স্থানীয় মাছচাষি নিউটন মন্ডল ছোট একটি ডিঙি নৌকায় বিলের মধ্যে মাছ ধরছিলেন। সেই নৌকা বিলে ঢুকতেই চোখজুড়ানো পদ্মফুলের সমারোহ যেন হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ফুলগুলো কারও কারও মতো পুরোদমে ফুটে আছে, আবার কিছু অভিমানে গুটিয়ে রেখেছে নিজেকে। বিলের চারপাশে সবুজ আর মাঝখানে রঙিন পদ্মফুল—এ যেন প্রকৃতির আপন করে তোলা এক নিপুণ শিল্পকর্ম।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম জানান, “বর্ষাকালে পদ্ম ফুটতে শুরু করে, তবে শরতের দিকে বেশি দেখা যায়। কেউ এই ফুল চাষ করে না। এটি পুরোপুরি প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো পদ্মবিল।” তিনি বলেন, “আগে বিলের পরিধি ছিল অনেক বড়, এখন কিছু জায়গায় চাষাবাদ হওয়ায় আকারে কমে গেছে।”
তবে বিলের সৌন্দর্যে কিছু প্রতিবন্ধকতাও আছে। পর্যাপ্ত যাতায়াত ব্যবস্থা নেই, নৌকা খুব ছোট, কচুরিপানা আর আগাছার দাপটে বিলের কিছু অংশ ঝোপঝাড়ে ঢাকা। দর্শনার্থীরা বলছেন, সরকারি বা স্থানীয় উদ্যোগে যদি বিলটি সংরক্ষণ ও পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়, তাহলে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।
পদ্মবিলের সৌন্দর্য থেকে শুধু আনন্দই নয়, জীবিকার উপায়ও খুঁজে পেয়েছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, “প্রতিদিন সকালবেলা দুই ঘণ্টা সময় দিয়ে পদ্মফুল, পদ্মপাতা আর চাক তুলে বাজারে বিক্রি করি।” দামও খুব বেশি নয়—দশটি ফুলের একটি আঁটি ১৫ টাকা, ছয়টি পদ্ম চাক ১০ টাকা এবং প্রতিটি পদ্ম পাতা ৬ টাকা করে বিক্রি হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, “পদ্ম ফুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি ভেষজ গুণেও সমৃদ্ধ। এর ডাঁটা খাওয়া যায়, যা শরীরের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণসহ নানা রোগ নিরাময়ে উপকারী।”
ডাকাতিয়ার বিলে ফুটে থাকা এই প্রাকৃতিক পদ্মবাগান আজ শুধু ডুমুরিয়া নয়, খুলনার প্রাকৃতিক ঐতিহ্য হয়ে উঠছে। একটু যত্ন আর পরিকল্পিত উদ্যোগই পারে এই অপার সৌন্দর্যকে আরও স্থায়ী ও জনপ্রিয় করতে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৫
সাদা ও গোলাপি রঙের রাশি রাশি পদ্ম, সবুজ পাতার মাঝে মাথা নুইয়ে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত—উভয় সময়েই এই বিলের দৃশ্য হয়ে ওঠে অভাবনীয় মোহনীয়। আর তাই প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন বিলের সৌন্দর্য উপভোগে।

উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পৌঁছাতে হয় মুজোর ঘুটার এই বিলটিতে। শুরুতে পাকা রাস্তা, তারপর মেঠো পথ পেরিয়ে বিলপাড়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের প্রান্তে বাড়ির মাঝ দিয়ে মাছের ঘেরের আইল ধরে পৌঁছানো যায় বিলের কিনারে। স্থানীয় মাছচাষি নিউটন মন্ডল ছোট একটি ডিঙি নৌকায় বিলের মধ্যে মাছ ধরছিলেন। সেই নৌকা বিলে ঢুকতেই চোখজুড়ানো পদ্মফুলের সমারোহ যেন হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ফুলগুলো কারও কারও মতো পুরোদমে ফুটে আছে, আবার কিছু অভিমানে গুটিয়ে রেখেছে নিজেকে। বিলের চারপাশে সবুজ আর মাঝখানে রঙিন পদ্মফুল—এ যেন প্রকৃতির আপন করে তোলা এক নিপুণ শিল্পকর্ম।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম জানান, “বর্ষাকালে পদ্ম ফুটতে শুরু করে, তবে শরতের দিকে বেশি দেখা যায়। কেউ এই ফুল চাষ করে না। এটি পুরোপুরি প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো পদ্মবিল।” তিনি বলেন, “আগে বিলের পরিধি ছিল অনেক বড়, এখন কিছু জায়গায় চাষাবাদ হওয়ায় আকারে কমে গেছে।”
তবে বিলের সৌন্দর্যে কিছু প্রতিবন্ধকতাও আছে। পর্যাপ্ত যাতায়াত ব্যবস্থা নেই, নৌকা খুব ছোট, কচুরিপানা আর আগাছার দাপটে বিলের কিছু অংশ ঝোপঝাড়ে ঢাকা। দর্শনার্থীরা বলছেন, সরকারি বা স্থানীয় উদ্যোগে যদি বিলটি সংরক্ষণ ও পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়, তাহলে এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।
পদ্মবিলের সৌন্দর্য থেকে শুধু আনন্দই নয়, জীবিকার উপায়ও খুঁজে পেয়েছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, “প্রতিদিন সকালবেলা দুই ঘণ্টা সময় দিয়ে পদ্মফুল, পদ্মপাতা আর চাক তুলে বাজারে বিক্রি করি।” দামও খুব বেশি নয়—দশটি ফুলের একটি আঁটি ১৫ টাকা, ছয়টি পদ্ম চাক ১০ টাকা এবং প্রতিটি পদ্ম পাতা ৬ টাকা করে বিক্রি হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন, “পদ্ম ফুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি ভেষজ গুণেও সমৃদ্ধ। এর ডাঁটা খাওয়া যায়, যা শরীরের ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণসহ নানা রোগ নিরাময়ে উপকারী।”
ডাকাতিয়ার বিলে ফুটে থাকা এই প্রাকৃতিক পদ্মবাগান আজ শুধু ডুমুরিয়া নয়, খুলনার প্রাকৃতিক ঐতিহ্য হয়ে উঠছে। একটু যত্ন আর পরিকল্পিত উদ্যোগই পারে এই অপার সৌন্দর্যকে আরও স্থায়ী ও জনপ্রিয় করতে।

আপনার মতামত লিখুন