নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা, সমন্বয়হীনতা, গোপন চুক্তি ও অদৃশ্য ক্ষমতার জালে বিতর্কে অধ্যাপক ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কি ফুরিয়ে এলো? এই প্রশ্ন এখন কেবল রাজনৈতিক মহলে নয়, সাধারণ মানুষের আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, অপরদিকে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও সমন্বয়হীনতা—সব মিলিয়ে সরকার পরিচালনায় ক্রমবর্ধমান ব্যর্থতা এবং আস্থার সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) এক আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপকে পরবর্তী সরকার কী পরিমাণ বৈধতা দেবে, তা এখনই চিন্তা করতে হবে।” তিনি বলেন, “সংস্কার কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতের সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এখন এক্সিট পলিসি ও অর্জনের স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার সময় এসেছে।”
গত ১১ মাসে খুন, ধর্ষণ, মব সন্ত্রাস ও দলবদ্ধ সহিংসতার একের পর এক ঘটনায় ভীত দেশের মানুষ। রাজধানীর মিটফোর্ড, খুলনা, চাঁদপুর, মাদারীপুরে নৃশংস ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে মব-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৮৩ জন। গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৮৯ জন, যার মধ্যে ঢাকায়ই নিহত ৪৫ জন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩৩০টি, যার মধ্যে ৬৬টি দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ২২টি ধর্ষণের পর হত্যা।
মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে বহু শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় সরকারের সমন্বয়হীন ও ধীর প্রতিক্রিয়া জনমনে হতাশা তৈরি করেছে। এই ঘটনায় যেমন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি জনবহুল এলাকায় সামরিক মহড়ার যৌক্তিকতা নিয়েও বিতর্ক ছড়িয়েছে।
ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন, চট্টগ্রাম বন্দর চুক্তি, স্টারলিংক অনুমোদন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এনডিএ (নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট), এলএনজি ও কৃষিপণ্য আমদানির বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জাতিসংঘের সঙ্গে রাখাইনে করিডোর ইস্যুতে একদিকে সরকার অস্বীকার করলেও, মানবাধিকার অফিস চালু হওয়ায় সংশয় দূর হয়নি। ইসলামি দলগুলো থেকে শুরু করে বিএনপি, এনসিপি পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছে।
সিপিডি ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, সরকারের অভ্যন্তরে ‘অদৃশ্য সরকার’ কাজ করছে। বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ কার্যকর না হওয়া এবং সরকারের ভেতর মতপার্থক্য তার বড় প্রমাণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নারী পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক, পাঠ্যবই পর্যালোচনা কমিটি গঠনের পর বাতিল, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ইস্যুতে সরকারের দুর্বল অবস্থান এবং গোপন চুক্তিগুলোতে এই ‘অদৃশ্য সরকারের’ প্রভাব স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য ছিল নির্বাচন আয়োজন। কিন্তু ১১ মাসেও সে লক্ষ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনের প্রস্তুতির কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। ইউনূস সাহেব একেক সময় একেক ধরনের সংস্কারের কথা বলছেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে কি না, সেটাও এখন অনিশ্চিত।”
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বলছেন, বিচারকরা এখন ভীত ও সংকোচে কাজ করছেন। জামিন, রায় বা আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয় তাদের কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে। ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “বিচারপতিরা ভাবেন—আমি কী করলে কে আমার বিরুদ্ধে কথা বলবে। এটা বিচারব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।”
‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এনসিপি ও সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলো এখন একের পর এক কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে। দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং লবিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। কিছু সদস্য বহিষ্কৃত হলেও পুরো দলকাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, “সরকার এনসিপিকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। বিগত সময়ে এমন অনেক কিংস পার্টি গড়ে উঠেছিল, আবার মিশেও গেছে।”
বিএনপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন না হলে অন্তর্বর্তী সরকার আরও বিতর্কিত হয়ে পড়বে এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে।
বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “১৭ বছর ধরে চলা দুর্নীতি এখনো চলছে। নির্বাচন যদি বিলম্বিত হয়, তাহলে নতুন সংকট তৈরি হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকাংশে ২০০৭ সালের ‘এক-এগারো’ সরকারের মতোই। সংস্কারের নামে গোপন এজেন্ডা, বিরোধী কণ্ঠ দমন, নির্বাচনী অনিশ্চয়তা—এসবই এক ধরনের পুনরাবৃত্তি। তখন যেভাবে গণআন্দোলন হয়েছিল, এখনো সেই আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।
১১ মাস আগে গণঅভ্যুত্থানে যে প্রত্যাশার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, সেই আস্থা এখন চরম পরীক্ষার মুখে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সমন্বয়হীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাচনী অগ্রগতির অভাবে দেশ আবারো এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৫
নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা, সমন্বয়হীনতা, গোপন চুক্তি ও অদৃশ্য ক্ষমতার জালে বিতর্কে অধ্যাপক ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কি ফুরিয়ে এলো? এই প্রশ্ন এখন কেবল রাজনৈতিক মহলে নয়, সাধারণ মানুষের আলোচনাতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, অপরদিকে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ও সমন্বয়হীনতা—সব মিলিয়ে সরকার পরিচালনায় ক্রমবর্ধমান ব্যর্থতা এবং আস্থার সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) এক আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপকে পরবর্তী সরকার কী পরিমাণ বৈধতা দেবে, তা এখনই চিন্তা করতে হবে।” তিনি বলেন, “সংস্কার কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতের সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এখন এক্সিট পলিসি ও অর্জনের স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার সময় এসেছে।”
গত ১১ মাসে খুন, ধর্ষণ, মব সন্ত্রাস ও দলবদ্ধ সহিংসতার একের পর এক ঘটনায় ভীত দেশের মানুষ। রাজধানীর মিটফোর্ড, খুলনা, চাঁদপুর, মাদারীপুরে নৃশংস ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে মব-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৮৩ জন। গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৮৯ জন, যার মধ্যে ঢাকায়ই নিহত ৪৫ জন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩৩০টি, যার মধ্যে ৬৬টি দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং ২২টি ধর্ষণের পর হত্যা।
মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে বহু শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় সরকারের সমন্বয়হীন ও ধীর প্রতিক্রিয়া জনমনে হতাশা তৈরি করেছে। এই ঘটনায় যেমন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি জনবহুল এলাকায় সামরিক মহড়ার যৌক্তিকতা নিয়েও বিতর্ক ছড়িয়েছে।
ঢাকায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন, চট্টগ্রাম বন্দর চুক্তি, স্টারলিংক অনুমোদন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এনডিএ (নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট), এলএনজি ও কৃষিপণ্য আমদানির বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
জাতিসংঘের সঙ্গে রাখাইনে করিডোর ইস্যুতে একদিকে সরকার অস্বীকার করলেও, মানবাধিকার অফিস চালু হওয়ায় সংশয় দূর হয়নি। ইসলামি দলগুলো থেকে শুরু করে বিএনপি, এনসিপি পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছে।
সিপিডি ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, সরকারের অভ্যন্তরে ‘অদৃশ্য সরকার’ কাজ করছে। বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ কার্যকর না হওয়া এবং সরকারের ভেতর মতপার্থক্য তার বড় প্রমাণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নারী পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক, পাঠ্যবই পর্যালোচনা কমিটি গঠনের পর বাতিল, সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ইস্যুতে সরকারের দুর্বল অবস্থান এবং গোপন চুক্তিগুলোতে এই ‘অদৃশ্য সরকারের’ প্রভাব স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্য ছিল নির্বাচন আয়োজন। কিন্তু ১১ মাসেও সে লক্ষ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনের প্রস্তুতির কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। ইউনূস সাহেব একেক সময় একেক ধরনের সংস্কারের কথা বলছেন। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে কি না, সেটাও এখন অনিশ্চিত।”
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বলছেন, বিচারকরা এখন ভীত ও সংকোচে কাজ করছেন। জামিন, রায় বা আদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয় তাদের কাজের গতি কমিয়ে দিয়েছে। ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, “বিচারপতিরা ভাবেন—আমি কী করলে কে আমার বিরুদ্ধে কথা বলবে। এটা বিচারব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।”
‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন’ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এনসিপি ও সংশ্লিষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলো এখন একের পর এক কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে। দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং লবিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। কিছু সদস্য বহিষ্কৃত হলেও পুরো দলকাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, “সরকার এনসিপিকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। বিগত সময়ে এমন অনেক কিংস পার্টি গড়ে উঠেছিল, আবার মিশেও গেছে।”
বিএনপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচন না হলে অন্তর্বর্তী সরকার আরও বিতর্কিত হয়ে পড়বে এবং দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে।
বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “১৭ বছর ধরে চলা দুর্নীতি এখনো চলছে। নির্বাচন যদি বিলম্বিত হয়, তাহলে নতুন সংকট তৈরি হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অনেকাংশে ২০০৭ সালের ‘এক-এগারো’ সরকারের মতোই। সংস্কারের নামে গোপন এজেন্ডা, বিরোধী কণ্ঠ দমন, নির্বাচনী অনিশ্চয়তা—এসবই এক ধরনের পুনরাবৃত্তি। তখন যেভাবে গণআন্দোলন হয়েছিল, এখনো সেই আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে।
১১ মাস আগে গণঅভ্যুত্থানে যে প্রত্যাশার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছিল, সেই আস্থা এখন চরম পরীক্ষার মুখে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সমন্বয়হীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নির্বাচনী অগ্রগতির অভাবে দেশ আবারো এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন