নজর বিডি

ছাত্র-জনতার ঐক্যে পতন শেখ হাসিনা সরকারের: মাহফুজ আলম

ছাত্র-জনতার ঐক্যে পতন শেখ হাসিনা সরকারের: মাহফুজ আলম

ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৫:
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতনের লক্ষ্যে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান স্মরণ করেছেন অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

সোমবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘জুলাই আমাদের সবার’ শিরোনামে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই অবদানগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ছাত্র ও তরুণদের সম্মিলিত ভূমিকা

মাহফুজ আলম লেখেন,

“দলীয় বা আদর্শিক বিরোধের জেরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কারও অবদান অস্বীকার করা উচিত নয়।”

তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির “জনশক্তি ও কো-অর্ডিনেশন” দিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিবিরের কর্মীরা এই আন্দোলনকে শুধু এগিয়ে নিয়েই যাননি, বরং কিছু ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায় “ফ্যাসিস্ট বাহিনীকে প্রতিরোধ” করেছে, বিভিন্ন প্রতিরোধ স্পটে লড়াই করেছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করেছে।

ছাত্রশক্তি মাঠপর্যায়ে ও সিভিল সোসাইটি, কালচারাল সার্কেলে থেকে আন্দোলনকে সমন্বয় করেছে এবং আস্থা তৈরি করেছে।

ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মীরা দেশে-জুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন এবং তাদের পূর্ববর্তী কোটা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

বামধারার ছাত্র সংগঠন যেমন ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ, ছাত্র ফেডারেশন ও অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠন মাঠে ও মতাদর্শিক বয়ানে অবস্থান ধরে রেখেছে। বাম সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোও জুলাইয়ের শেষ দিকে রাজপথে নেমে জনসাধারণের মধ্যে সাহস জুগিয়েছে।

মাদ্রাসা ও ধর্মীয় ছাত্রদের অংশগ্রহণ

আলেম ও মাদ্রাসার ছাত্রদের সরব অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন,

“রাজপথে তারা দীর্ঘসময় ধরে প্রতিরোধ চালিয়ে গেছেন, যাত্রাবাড়ী তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”

শ্রমজীবী মানুষ ও নারীদের ভূমিকা

প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, প্রাইভেট শিক্ষার্থী, এবং নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ভূমিকাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যা দেন।

নারীরা রাজপথে নেমে আহতদের সহযোগিতা করেছেন। মায়েরা ও বোনেরা কারফিউর সময়েও সাহসের সাথে রাস্তায় থেকে আন্দোলনকে প্রাণবন্ত রেখেছেন।

স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে প্রতিরোধ স্পটগুলোতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নীরবে হলেও কার্যকরভাবে অভ্যুত্থানকে সহায়তা করেছে।

বিদ্রোহী ছাত্রলীগ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি

ছাত্রলীগের একটি অংশ বিদ্রোহ করে অভ্যুত্থানে যোগ দেয় বলে উল্লেখ করেন মাহফুজ। পাশাপাশি, উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণি জুলাইয়ের শেষদিকে রাস্তায় নেমে আন্দোলনকে আরও ব্যাপকতা দিয়েছে।

প্রবাসী ও পেশাজীবীদের অবদান

প্রবাসী শ্রমিক, চাকরিজীবী ও পেশাজীবীরা আন্তর্জাতিক পরিসরে এই অভ্যুত্থানকে তুলে ধরেছেন। কবি, সাহিত্যিক, পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল, সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার এবং র‍্যাপাররা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন ও অনুপ্রাণিত করেছেন।

সমাপ্তিতে প্রশ্ন

স্ট্যাটাসের শেষে মাহফুজ আলম প্রশ্ন ছুড়ে দেন—

“জনগণের লড়াইয়ের কার কোন অবদান অস্বীকার করবেন?”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ছাত্র-জনতার ঐক্যে পতন শেখ হাসিনা সরকারের: মাহফুজ আলম

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৫

featured Image

ঢাকা, ৫ আগস্ট ২০২৫:
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতনের লক্ষ্যে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান স্মরণ করেছেন অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

সোমবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘জুলাই আমাদের সবার’ শিরোনামে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই অবদানগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

ছাত্র ও তরুণদের সম্মিলিত ভূমিকা

মাহফুজ আলম লেখেন,

“দলীয় বা আদর্শিক বিরোধের জেরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কারও অবদান অস্বীকার করা উচিত নয়।”

তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামী ছাত্রশিবির “জনশক্তি ও কো-অর্ডিনেশন” দিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিবিরের কর্মীরা এই আন্দোলনকে শুধু এগিয়ে নিয়েই যাননি, বরং কিছু ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা ও অন্যান্য এলাকায় “ফ্যাসিস্ট বাহিনীকে প্রতিরোধ” করেছে, বিভিন্ন প্রতিরোধ স্পটে লড়াই করেছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করেছে।

ছাত্রশক্তি মাঠপর্যায়ে ও সিভিল সোসাইটি, কালচারাল সার্কেলে থেকে আন্দোলনকে সমন্বয় করেছে এবং আস্থা তৈরি করেছে।

ছাত্র অধিকার পরিষদের কর্মীরা দেশে-জুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন এবং তাদের পূর্ববর্তী কোটা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

বামধারার ছাত্র সংগঠন যেমন ছাত্র ইউনিয়নের একাংশ, ছাত্র ফেডারেশন ও অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠন মাঠে ও মতাদর্শিক বয়ানে অবস্থান ধরে রেখেছে। বাম সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোও জুলাইয়ের শেষ দিকে রাজপথে নেমে জনসাধারণের মধ্যে সাহস জুগিয়েছে।

মাদ্রাসা ও ধর্মীয় ছাত্রদের অংশগ্রহণ

আলেম ও মাদ্রাসার ছাত্রদের সরব অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেন,

“রাজপথে তারা দীর্ঘসময় ধরে প্রতিরোধ চালিয়ে গেছেন, যাত্রাবাড়ী তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।”

শ্রমজীবী মানুষ ও নারীদের ভূমিকা

প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, প্রাইভেট শিক্ষার্থী, এবং নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ভূমিকাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যা দেন।

নারীরা রাজপথে নেমে আহতদের সহযোগিতা করেছেন। মায়েরা ও বোনেরা কারফিউর সময়েও সাহসের সাথে রাস্তায় থেকে আন্দোলনকে প্রাণবন্ত রেখেছেন।

স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে প্রতিরোধ স্পটগুলোতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নীরবে হলেও কার্যকরভাবে অভ্যুত্থানকে সহায়তা করেছে।

বিদ্রোহী ছাত্রলীগ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি

ছাত্রলীগের একটি অংশ বিদ্রোহ করে অভ্যুত্থানে যোগ দেয় বলে উল্লেখ করেন মাহফুজ। পাশাপাশি, উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণি জুলাইয়ের শেষদিকে রাস্তায় নেমে আন্দোলনকে আরও ব্যাপকতা দিয়েছে।

প্রবাসী ও পেশাজীবীদের অবদান

প্রবাসী শ্রমিক, চাকরিজীবী ও পেশাজীবীরা আন্তর্জাতিক পরিসরে এই অভ্যুত্থানকে তুলে ধরেছেন। কবি, সাহিত্যিক, পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল, সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার এবং র‍্যাপাররা জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন ও অনুপ্রাণিত করেছেন।

সমাপ্তিতে প্রশ্ন

স্ট্যাটাসের শেষে মাহফুজ আলম প্রশ্ন ছুড়ে দেন—

“জনগণের লড়াইয়ের কার কোন অবদান অস্বীকার করবেন?”


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত