নজর বিডি

শতভাগ পাসের নামে অমানবিকতা: পাস করেও টিসি শিক্ষার্থীদের

শতভাগ পাসের নামে অমানবিকতা: পাস করেও টিসি শিক্ষার্থীদের

নজরবিডি | শিক্ষা সংবাদ

দেশের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে নিজেদের তৈরি করা ‘অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন পদ্ধতি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ৩৩ নম্বরের বেশি পেয়ে উত্তীর্ণ হলেও, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মানদণ্ডে পর্যাপ্ত নম্বর না পাওয়ায় তাদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ নম্বর না পেলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকে না। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন,

“তারা এমনভাবে বাছাই করেন যে ৫৫ শতাংশের নিচে নম্বর পেলে শিক্ষার্থীকে রাখা হয় না। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সে পাস করেছে, কিন্তু আপনার বিবেচনায় খারাপ করেছে—এই কারণে আপনি তাকে টিসি দিয়ে দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত অমানবিক ও দায়িত্বহীন আচরণ।”

অধ্যাপক এহসানুল কবির আরও বলেন,

“কোনো শিক্ষার্থী কম নম্বর পেলে সেটি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়। অথচ সেই দায় শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া—শতভাগ পাসের হার বজায় রাখার অভিপ্রায়; এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি জানান, সামনে থেকে এমন আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“আমরা বিষয়গুলো দেখব, আমাদের হাতে যতটুকু ক্ষমতা আছে তা প্রয়োগ করা হবে। এ ধরনের আচরণ আর সহ্য করা হবে না।”

শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান মনে করেন, শতভাগ পাসের নামে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফলে শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

“পার্সেন্টেজে কিছু আসে যায় না। শতভাগ পাস দেখানোর প্রতিযোগিতার মধ্যে পিষ্ট হচ্ছে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা। এই প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে রাখা হবে না।”

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


শতভাগ পাসের নামে অমানবিকতা: পাস করেও টিসি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

নজরবিডি | শিক্ষা সংবাদ

দেশের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে নিজেদের তৈরি করা ‘অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন পদ্ধতি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ৩৩ নম্বরের বেশি পেয়ে উত্তীর্ণ হলেও, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মানদণ্ডে পর্যাপ্ত নম্বর না পাওয়ায় তাদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানে ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ নম্বর না পেলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকে না। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন,

“তারা এমনভাবে বাছাই করেন যে ৫৫ শতাংশের নিচে নম্বর পেলে শিক্ষার্থীকে রাখা হয় না। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সে পাস করেছে, কিন্তু আপনার বিবেচনায় খারাপ করেছে—এই কারণে আপনি তাকে টিসি দিয়ে দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত অমানবিক ও দায়িত্বহীন আচরণ।”

অধ্যাপক এহসানুল কবির আরও বলেন,

“কোনো শিক্ষার্থী কম নম্বর পেলে সেটি ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়। অথচ সেই দায় শিক্ষার্থীর ওপর চাপিয়ে দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া—শতভাগ পাসের হার বজায় রাখার অভিপ্রায়; এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি জানান, সামনে থেকে এমন আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“আমরা বিষয়গুলো দেখব, আমাদের হাতে যতটুকু ক্ষমতা আছে তা প্রয়োগ করা হবে। এ ধরনের আচরণ আর সহ্য করা হবে না।”

শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান মনে করেন, শতভাগ পাসের নামে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফলে শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

“পার্সেন্টেজে কিছু আসে যায় না। শতভাগ পাস দেখানোর প্রতিযোগিতার মধ্যে পিষ্ট হচ্ছে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা। এই প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে রাখা হবে না।”


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত