বিশেষ প্রতিবেদক | nazarbd
মানবতাবিরোধী অপরাধে পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হলেও আরও তিনটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে গুমের দুই মামলায় ফরমাল চার্জ গৃহীত হয়েছে এবং শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষায় রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ বছরের জুলাই মাসে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্য—‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছি’—বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে। ট্রাইব্যুনাল ওই মামলায় তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়।
গত ৮ অক্টোবর বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, গোপন আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রীসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দুটি ফরমাল চার্জ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের কিছু বিপথগামী সদস্যের টিএফআই সেল ও বিভিন্ন গোপন বন্দিশালায় ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তি, সাংবাদিক, ব্লগারদের ওপর নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, হাজারো অভিযোগের মধ্যে যেগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে সেগুলো নিয়ে এবার চার্জ দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল চার্জ গ্রহণের পর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
১৭ নভেম্বর এই দুই মামলার কয়েকজন আসামি সেনা কর্মকর্তা আদালতে হাজির হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৩ নভেম্বর।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সংগঠনের নেতা আজিজুল হক ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। এতে মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়, তাদের মধ্যে রয়েছেন—
শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, শেখ ফজলে নূর তাপস, হাছান মাহমুদ, হাজি সেলিম, সালমান এফ রহমান, শামীম ওসমান, তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক দুই আইজিপি, র্যাব–ডিএমপি কর্মকর্তারা, শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, তুরিন আফরোজ, ইমরান এইচ সরকারসহ আরও অনেকে।
এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫
বিশেষ প্রতিবেদক | nazarbd
মানবতাবিরোধী অপরাধে পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হলেও আরও তিনটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে গুমের দুই মামলায় ফরমাল চার্জ গৃহীত হয়েছে এবং শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষায় রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ বছরের জুলাই মাসে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্য—‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়েছি’—বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে। ট্রাইব্যুনাল ওই মামলায় তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়।
গত ৮ অক্টোবর বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সংঘটিত গুম, গোপন আটক, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রীসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে দুটি ফরমাল চার্জ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগে র্যাব ও ডিজিএফআইয়ের কিছু বিপথগামী সদস্যের টিএফআই সেল ও বিভিন্ন গোপন বন্দিশালায় ভিন্নমতাবলম্বী ব্যক্তি, সাংবাদিক, ব্লগারদের ওপর নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, হাজারো অভিযোগের মধ্যে যেগুলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে সেগুলো নিয়ে এবার চার্জ দাখিল করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল চার্জ গ্রহণের পর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
১৭ নভেম্বর এই দুই মামলার কয়েকজন আসামি সেনা কর্মকর্তা আদালতে হাজির হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। পরবর্তী শুনানির তারিখ ২৩ নভেম্বর।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে সংগঠনের নেতা আজিজুল হক ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। এতে মোট ২১ জনকে আসামি করা হয়, তাদের মধ্যে রয়েছেন—
শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, শেখ ফজলে নূর তাপস, হাছান মাহমুদ, হাজি সেলিম, সালমান এফ রহমান, শামীম ওসমান, তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক দুই আইজিপি, র্যাব–ডিএমপি কর্মকর্তারা, শাহরিয়ার কবির, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, তুরিন আফরোজ, ইমরান এইচ সরকারসহ আরও অনেকে।
এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

আপনার মতামত লিখুন