নজর বিডি

দায়িত্ব পালনকালে অপমানের শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্য: আইজিপি 

দায়িত্ব পালনকালে অপমানের শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্য: আইজিপি 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পুলিশ সদস্যদের প্রতি দুর্ব্যবহার বেড়েছে, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

 

ঢাকা, ২০ নভেম্বর, ২০২০:

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের পুলিশ সদস্যরা হয়রানি ও অপমানের শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি এমন পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে পুলিশকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, "পুলিশ দেশের কল্যাণ, মানুষের নিরাপত্তা এবং জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের সঙ্গে কিছু লোক দুর্ব্যবহার করছে—সর্বশেষ ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় এমন ঘটনা দেখা গেছে।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা, জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের প্রতি এমন আচরণ সত্যিই হতাশাজনক।

ডিএমপি কমিশনারের আহ্বান

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধনকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ. মো. সাজ্জাত আলীও একই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন।

তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, "পুলিশ যখন কোনো একটি অরাজকতা ঠেকানো বা প্রতিহতের চেষ্টা করছিল, তখন আমার অফিসারদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।"

ডিএমপি কমিশনার রাজপথে এমন আচরণকারী ব্যক্তিদের অনুরোধ করে বলেন, "আমরা আপনাদের সঙ্গে রাস্তায় কোনো ক্ল্যাশে, কোনো সংঘাতে জড়িত হওয়ার জন্য নয়। আমরা আপনাদের সেবা দিতে চাই। আপনারা যে কাজটি করতে চাচ্ছেন সেটি করলে সমাজে, ঢাকা শহরে, দেশে একটা অরাজকতাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হবে।"

তিনি পুলিশ সদস্যদের মনোবল রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ৫ আগস্টের (গণঅভ্যুত্থানের পরে) পর ৮০ বছরের বৃদ্ধ লোককেও বাঁশের লাঠি নিয়ে মহল্লার মধ্যে পাহারা দিতে হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, "আমার অফিসারদের মনোবল যদি ভেঙে যায়, তাহলে আপনাদের আবার এই বাঁশের লাঠি নিয়ে রাস্তায় নেমে বাড়িঘরের পাহারা দিতে হবে।"

প্রেক্ষাপট: জুলাই গণঅভ্যুত্থান

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে প্রায় ১৪০০ ছাত্র-জনতা নিহত হন। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, এর বেশিরভাগেরই প্রাণ গেছে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে। তৎকালীন সরকারের অনুগত কতিপয় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বিক্ষোভ দমনে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেন, যার ফলস্বরূপ পুরো পুলিশ বাহিনী জনতার মুখোমুখি হয়ে যায়। গণঅভ্যুত্থনের পর দমন-পীড়নে অতি উৎসাহী অনেক পুলিশ কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণের শিকার হয় অনেক পুলিশ স্থাপনা।

৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পুলিশ ছিল কার্যত নিষ্ক্রিয়। বর্তমানে নানা সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় করার এবং তাদের মনোবল ফেরানোর চেষ্টা চলছে, যার অংশ হিসেবে পুলিশের মনোগ্রামে পরিবর্তন ও নতুন পোশাক আনা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


দায়িত্ব পালনকালে অপমানের শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্য: আইজিপি 

প্রকাশের তারিখ : ২০ নভেম্বর ২০২৫

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পুলিশ সদস্যদের প্রতি দুর্ব্যবহার বেড়েছে, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

 

ঢাকা, ২০ নভেম্বর, ২০২০:

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের পুলিশ সদস্যরা হয়রানি ও অপমানের শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি এমন পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এ ধরনের পরিস্থিতিতে সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে পুলিশকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, "পুলিশ দেশের কল্যাণ, মানুষের নিরাপত্তা এবং জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের সঙ্গে কিছু লোক দুর্ব্যবহার করছে—সর্বশেষ ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় এমন ঘটনা দেখা গেছে।"

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা, জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের প্রতি এমন আচরণ সত্যিই হতাশাজনক।

ডিএমপি কমিশনারের আহ্বান

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধনকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ. মো. সাজ্জাত আলীও একই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন।

তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, "পুলিশ যখন কোনো একটি অরাজকতা ঠেকানো বা প্রতিহতের চেষ্টা করছিল, তখন আমার অফিসারদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।"

ডিএমপি কমিশনার রাজপথে এমন আচরণকারী ব্যক্তিদের অনুরোধ করে বলেন, "আমরা আপনাদের সঙ্গে রাস্তায় কোনো ক্ল্যাশে, কোনো সংঘাতে জড়িত হওয়ার জন্য নয়। আমরা আপনাদের সেবা দিতে চাই। আপনারা যে কাজটি করতে চাচ্ছেন সেটি করলে সমাজে, ঢাকা শহরে, দেশে একটা অরাজকতাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হবে।"

তিনি পুলিশ সদস্যদের মনোবল রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ৫ আগস্টের (গণঅভ্যুত্থানের পরে) পর ৮০ বছরের বৃদ্ধ লোককেও বাঁশের লাঠি নিয়ে মহল্লার মধ্যে পাহারা দিতে হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, "আমার অফিসারদের মনোবল যদি ভেঙে যায়, তাহলে আপনাদের আবার এই বাঁশের লাঠি নিয়ে রাস্তায় নেমে বাড়িঘরের পাহারা দিতে হবে।"

প্রেক্ষাপট: জুলাই গণঅভ্যুত্থান

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে প্রায় ১৪০০ ছাত্র-জনতা নিহত হন। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে, এর বেশিরভাগেরই প্রাণ গেছে পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে। তৎকালীন সরকারের অনুগত কতিপয় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বিক্ষোভ দমনে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেন, যার ফলস্বরূপ পুরো পুলিশ বাহিনী জনতার মুখোমুখি হয়ে যায়। গণঅভ্যুত্থনের পর দমন-পীড়নে অতি উৎসাহী অনেক পুলিশ কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান এবং বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণের শিকার হয় অনেক পুলিশ স্থাপনা।

৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পুলিশ ছিল কার্যত নিষ্ক্রিয়। বর্তমানে নানা সংস্কার উদ্যোগ নিয়ে পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় করার এবং তাদের মনোবল ফেরানোর চেষ্টা চলছে, যার অংশ হিসেবে পুলিশের মনোগ্রামে পরিবর্তন ও নতুন পোশাক আনা হয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত