নজর বিডি

মহান বিজয় দিবস আজ

মহান বিজয় দিবস আজ

বাংলাদেশ

বিজয়ের খবর [caption id="attachment_17413" align="aligncenter" width="300"] জাতীয় পতাকা[/caption]   রক্ত, ত্যাগ আর অদম্য সাহসের ইতিহাসে আজ বিজয়ের দিন... গাজী মো: নিয়ামুল ইসলাম (স্টাফ রিপোর্টার)
আজ ১৬ ডিসেম্বর—বাঙালি জাতির চিরগৌরবের দিন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয়েছিল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও চূড়ান্ত বিজয়। যুদ্ধজয়ের অপরিসীম আনন্দের পাশাপাশি অগণিত শহীদের আত্মত্যাগের স্মৃতি আর বেদনা নিয়ে জাতি আজ উদ্‌যাপন করছে মহান বিজয় দিবসের ৫৫তম বার্ষিকী। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল হাতে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকায় মুখর হয়ে ওঠে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বিজয় দিবস পালন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধা নিবেদন, কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শোষণ থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হয়। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও ন্যায্য অধিকার দমন করতে থাকে। এর প্রতিবাদে শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলন ধাপে ধাপে রূপ নেয় স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনে। বাঙালির এই সংগ্রাম চিরতরে দমন করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালায়। ট্যাংক, কামান ও মেশিনগান নিয়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া সেই বর্বরতা মানব ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হয়ে আছে। রক্তের বিনিময়ে বিজয় গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলার সাহসী সন্তানরা। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়—জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় গৌরব ও স্বাধীনতার চূড়ান্ত সাফল্যের প্রতীক। স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে হলে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়—অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাণীতে বিজয় দিবসকে জাতীয় ঐক্যের নতুন সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, অতীতে স্বৈরাচার ও অপশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্ষুণ্ন হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই যাত্রা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দিবসের কর্মসূচি বিজয় দিবসের সূচনা হয়েছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে। সরকারি-বেসরকারি সব ভবনে উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। রয়েছে কুচকাওয়াজসহ নানা আনুষ্ঠানিক আয়োজন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিজ নিজ কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে। কপিরাইট © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


মহান বিজয় দিবস আজ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

বাংলাদেশ

বিজয়ের খবর [caption id="attachment_17413" align="aligncenter" width="300"] জাতীয় পতাকা[/caption]   রক্ত, ত্যাগ আর অদম্য সাহসের ইতিহাসে আজ বিজয়ের দিন... গাজী মো: নিয়ামুল ইসলাম (স্টাফ রিপোর্টার)
আজ ১৬ ডিসেম্বর—বাঙালি জাতির চিরগৌরবের দিন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে অর্জিত হয়েছিল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও চূড়ান্ত বিজয়। যুদ্ধজয়ের অপরিসীম আনন্দের পাশাপাশি অগণিত শহীদের আত্মত্যাগের স্মৃতি আর বেদনা নিয়ে জাতি আজ উদ্‌যাপন করছে মহান বিজয় দিবসের ৫৫তম বার্ষিকী। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল নামে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল হাতে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকায় মুখর হয়ে ওঠে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বিজয় দিবস পালন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধা নিবেদন, কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শোষণ থেকে স্বাধীনতার সংগ্রাম ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হয়। পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও ন্যায্য অধিকার দমন করতে থাকে। এর প্রতিবাদে শুরু হওয়া ভাষা আন্দোলন ধাপে ধাপে রূপ নেয় স্বাধিকার ও স্বাধীনতার আন্দোলনে। বাঙালির এই সংগ্রাম চিরতরে দমন করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালায়। ট্যাংক, কামান ও মেশিনগান নিয়ে ঘুমন্ত মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া সেই বর্বরতা মানব ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হয়ে আছে। রক্তের বিনিময়ে বিজয় গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলার সাহসী সন্তানরা। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর বিপুল ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর আসে চূড়ান্ত বিজয়—জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার বাণী মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণীতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় গৌরব ও স্বাধীনতার চূড়ান্ত সাফল্যের প্রতীক। স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে হলে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়—অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর বাণীতে বিজয় দিবসকে জাতীয় ঐক্যের নতুন সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, অতীতে স্বৈরাচার ও অপশাসনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্ষুণ্ন হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই যাত্রা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দিবসের কর্মসূচি বিজয় দিবসের সূচনা হয়েছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে। সরকারি-বেসরকারি সব ভবনে উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। রয়েছে কুচকাওয়াজসহ নানা আনুষ্ঠানিক আয়োজন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নিজ নিজ কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করছে। কপিরাইট © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত