ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিকানা ও নম্বর প্লেট ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেলের নম্বর শনাক্তের ভিত্তিতে আব্দুল হান্নান নামে একজনকে ওই মোটরসাইকেলের মালিক দাবি করে আটক করে র্যাব-২। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক আব্দুল হান্নান ওই মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক নন।
তাহলে প্রশ্ন উঠেছে—প্রকৃত মালিক না হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে আটক করা হলো?। অনুসন্ধানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জানা যায়, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় শরীফ ওসমান হাদির ওপর মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলাকারীদের একজন খুব কাছ থেকে হাদির মাথায় গুলি করে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকানা ও হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, নম্বর প্লেট যাচাই এবং আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
অনুসন্ধান বলছে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিল হোন্ডা হর্নেট, নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৬, কিন্তু র্যাব-২ ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৫ নম্বরের সুজুকি জিক্সার এসএফ মডেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে আটক করেছে।
হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরের শেষ ডিজিট ছিল ‘৬’, আটক মোটরসাইকেলের শেষ ডিজিট ‘৫’।
ঢাকা পোস্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হামলার মোটরসাইকেলটি ব্লু/সিলভার, ২৬ মে ২০২৪ সালে রেজিস্ট্রেশনকৃত, এবং হান্নান কখনো এটি চালাননি।
আটককৃত হান্নানের মোটরসাইকেল ছিল অরেঞ্জ-সিলভার সুজুকি জিক্সার, যা তিনি আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন।
ডিজিটাল নম্বর প্লেট নিয়ে বিআরটিএ জানায়, তাদের ইস্যু করা প্লেট সবসময় বাংলায় লেখা থাকে। ইংরেজিতে লেখা প্লেট কোনো অপরাধী ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করতে পারে।
র্যাব জানায়, হান্নানকে ১৩ ডিসেম্বর বিকাল ৪:২০ মিনিটে চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৫:৫০–৬:১২ পর্যন্ত হান্নানের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এই তথ্যের সঙ্গে র্যাবের ঘোষণা মিলছে না।
হান্নানের স্ত্রী পারভিন বলেন, “আমার স্বামী কখনো ওই হোন্ডা হর্নেট চালাননি। সুজুকি জিক্সার এসএফ মোটরসাইকেলটিও তিনি কয়েক মাস আগেই অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন। এখন কেন তাকে আটক করা হলো, বোঝা যাচ্ছে না।”
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৫ নম্বরের মোটরসাইকেলটি আব্দুল হান্নানের হলেও, তিনি এটি কয়েক মাস আগে বিক্রি করেছিলেন। তবে আনুষ্ঠানিক মালিকানা হস্তান্তর হয়নি।
গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর, পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির ওপর দুই আততায়ী মোটরসাইকেল দিয়ে হামলা চালায়। তাদের একজন খুব কাছ থেকে হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে।
হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও অন্যান্য প্রমাণ নিয়ে পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক শামীম হাসান তদন্ত করছেন।
৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার আব্দুল হান্নানের ওপর তিন দিনের রিমান্ড চলছে।
তদন্তে এখন পর্যন্ত তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফয়সাল করিমকে হামলার একজন সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি হাদির নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক, বান্ধবী এবং সহযোগী দাঁতভাঙা কবিসহ কয়েকজনকে র্যাব ও বিজিবি আটক করেছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিকানা ও নম্বর প্লেট ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেলের নম্বর শনাক্তের ভিত্তিতে আব্দুল হান্নান নামে একজনকে ওই মোটরসাইকেলের মালিক দাবি করে আটক করে র্যাব-২। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক আব্দুল হান্নান ওই মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিক নন।
তাহলে প্রশ্ন উঠেছে—প্রকৃত মালিক না হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে আটক করা হলো?। অনুসন্ধানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জানা যায়, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় শরীফ ওসমান হাদির ওপর মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলাকারীদের একজন খুব কাছ থেকে হাদির মাথায় গুলি করে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকানা ও হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
র্যাব ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, নম্বর প্লেট যাচাই এবং আটক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
অনুসন্ধান বলছে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ছিল হোন্ডা হর্নেট, নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৬, কিন্তু র্যাব-২ ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৫ নম্বরের সুজুকি জিক্সার এসএফ মডেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে আটক করেছে।
হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরের শেষ ডিজিট ছিল ‘৬’, আটক মোটরসাইকেলের শেষ ডিজিট ‘৫’।
ঢাকা পোস্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হামলার মোটরসাইকেলটি ব্লু/সিলভার, ২৬ মে ২০২৪ সালে রেজিস্ট্রেশনকৃত, এবং হান্নান কখনো এটি চালাননি।
আটককৃত হান্নানের মোটরসাইকেল ছিল অরেঞ্জ-সিলভার সুজুকি জিক্সার, যা তিনি আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন।
ডিজিটাল নম্বর প্লেট নিয়ে বিআরটিএ জানায়, তাদের ইস্যু করা প্লেট সবসময় বাংলায় লেখা থাকে। ইংরেজিতে লেখা প্লেট কোনো অপরাধী ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করতে পারে।
র্যাব জানায়, হান্নানকে ১৩ ডিসেম্বর বিকাল ৪:২০ মিনিটে চাঁদ উদ্যান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৫:৫০–৬:১২ পর্যন্ত হান্নানের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। এই তথ্যের সঙ্গে র্যাবের ঘোষণা মিলছে না।
হান্নানের স্ত্রী পারভিন বলেন, “আমার স্বামী কখনো ওই হোন্ডা হর্নেট চালাননি। সুজুকি জিক্সার এসএফ মোটরসাইকেলটিও তিনি কয়েক মাস আগেই অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন। এখন কেন তাকে আটক করা হলো, বোঝা যাচ্ছে না।”
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৫ নম্বরের মোটরসাইকেলটি আব্দুল হান্নানের হলেও, তিনি এটি কয়েক মাস আগে বিক্রি করেছিলেন। তবে আনুষ্ঠানিক মালিকানা হস্তান্তর হয়নি।
গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর, পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির ওপর দুই আততায়ী মোটরসাইকেল দিয়ে হামলা চালায়। তাদের একজন খুব কাছ থেকে হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে।
হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও অন্যান্য প্রমাণ নিয়ে পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক শামীম হাসান তদন্ত করছেন।
৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার আব্দুল হান্নানের ওপর তিন দিনের রিমান্ড চলছে।
তদন্তে এখন পর্যন্ত তার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফয়সাল করিমকে হামলার একজন সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তিনি হাদির নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ফয়সালের স্ত্রী, শ্যালক, বান্ধবী এবং সহযোগী দাঁতভাঙা কবিসহ কয়েকজনকে র্যাব ও বিজিবি আটক করেছে।

আপনার মতামত লিখুন