জাতীয় পতাকা[/caption]
নজরবিডি বিশেষ প্রতিবেদন,
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় দায়ের মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে অবৈধভাবে ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে দুজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত ফিলিপ স্নাল এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।
[caption id="attachment_17218" align="aligncenter" width="240"]
বিজ্ঞাপন[/caption]
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফিলিপ স্নাল কার নির্দেশে ও কী উদ্দেশ্যে আসামিদের সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা করেন—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁকে আটক করা গেলে ওসমান হাদির ওপর হামলার নেপথ্যে কারা জড়িত, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে ফিলিপ স্নালের নির্দেশেই হামলাকারীদের দেশত্যাগে সহায়তা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন সঞ্জয় চিসিম ও সিবিয়ন দিও। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় তাঁরা এ তথ্য দেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাঁদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে তাঁদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
বিচারকের অনুমতি নিয়ে সঞ্জয় ও সিবিয়ন আদালতে জানান, ফিলিপ নামের একজনের হয়ে তাঁরা সীমান্ত পারাপারের কাজ করেছেন। তাঁরা ফিলিপকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং তাঁর পরিচয় ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। এসব বিষয়ে তাঁরা তদন্ত কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তথ্য দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
[caption id="attachment_16664" align="aligncenter" width="300"]
বিজ্ঞাপন[/caption]
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ফয়সালের বাবা–মা, স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীসহ গ্রেপ্তার সহযোগীরা ওসমান হাদির ওপর হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন কি না। তবে ঘটনার পর তাঁরা বিভিন্নভাবে ফয়সালকে পালাতে সহায়তা করেছেন—এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ফয়সালের বাবা–মা ইতোমধ্যে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ছেলেকে পালাতে এবং অস্ত্র লুকাতে সহায়তা করেন বলেও স্বীকারোক্তি রয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট রোডে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে আসা দুজন ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গুলি চালানো ব্যক্তিকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ হিসেবে শনাক্ত করেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ।
গুলির ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া–হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান বলে জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার আগে ও পরে তাঁদের ভূমিকা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ, হামলায় সংশ্লিষ্টতা, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন এবং নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে সব বিষয়ই উঠে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার সঞ্জয় চিসিম ও সিবিয়ন দিওকে গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহম্মেদ তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার দুই আসামি প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগীদের অবৈধভাবে ভারতে পালাতে সহায়তা করেছেন—এমন সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রযুক্তিগত তথ্য পুলিশের হাতে রয়েছে। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সিবিয়ন দিও হালুয়াঘাট–ধোবাউড়া এলাকার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জুয়েল আড়ংয়ের ভাগনে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ ও মালামাল পারাপারের একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন।
উল্লেখ্য, পুলিশ গত রোববার শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে তাঁদের আটকের তথ্য জানালেও চার দিন পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। 
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
জাতীয় পতাকা[/caption]
নজরবিডি বিশেষ প্রতিবেদন,
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলির ঘটনায় দায়ের মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে অবৈধভাবে ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগে দুজনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত ফিলিপ স্নাল এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।
[caption id="attachment_17218" align="aligncenter" width="240"]
বিজ্ঞাপন[/caption]
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফিলিপ স্নাল কার নির্দেশে ও কী উদ্দেশ্যে আসামিদের সীমান্ত পারাপারের ব্যবস্থা করেন—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁকে আটক করা গেলে ওসমান হাদির ওপর হামলার নেপথ্যে কারা জড়িত, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে ফিলিপ স্নালের নির্দেশেই হামলাকারীদের দেশত্যাগে সহায়তা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন সঞ্জয় চিসিম ও সিবিয়ন দিও। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় তাঁরা এ তথ্য দেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাঁদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে তাঁদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
বিচারকের অনুমতি নিয়ে সঞ্জয় ও সিবিয়ন আদালতে জানান, ফিলিপ নামের একজনের হয়ে তাঁরা সীমান্ত পারাপারের কাজ করেছেন। তাঁরা ফিলিপকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং তাঁর পরিচয় ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। এসব বিষয়ে তাঁরা তদন্ত কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তথ্য দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
[caption id="attachment_16664" align="aligncenter" width="300"]
বিজ্ঞাপন[/caption]
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ফয়সালের বাবা–মা, স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীসহ গ্রেপ্তার সহযোগীরা ওসমান হাদির ওপর হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে আগে থেকেই জানতেন কি না। তবে ঘটনার পর তাঁরা বিভিন্নভাবে ফয়সালকে পালাতে সহায়তা করেছেন—এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে ফয়সালের বাবা–মা ইতোমধ্যে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। ফয়সালের বাবা হুমায়ুন কবির ছেলেকে পালাতে এবং অস্ত্র লুকাতে সহায়তা করেন বলেও স্বীকারোক্তি রয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট রোডে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে আসা দুজন ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গুলি চালানো ব্যক্তিকে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ হিসেবে শনাক্ত করেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিলেন আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ।
গুলির ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া–হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান বলে জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি। ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার আগে ও পরে তাঁদের ভূমিকা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ, হামলায় সংশ্লিষ্টতা, সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেন এবং নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে সব বিষয়ই উঠে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার সঞ্জয় চিসিম ও সিবিয়ন দিওকে গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির মতিঝিল জোনাল টিমের পরিদর্শক ফয়সাল আহম্মেদ তাঁদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার দুই আসামি প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগীদের অবৈধভাবে ভারতে পালাতে সহায়তা করেছেন—এমন সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রযুক্তিগত তথ্য পুলিশের হাতে রয়েছে। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সিবিয়ন দিও হালুয়াঘাট–ধোবাউড়া এলাকার আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জুয়েল আড়ংয়ের ভাগনে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষ ও মালামাল পারাপারের একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন।
উল্লেখ্য, পুলিশ গত রোববার শেরপুরের নালিতাবাড়ী থেকে তাঁদের আটকের তথ্য জানালেও চার দিন পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। 
আপনার মতামত লিখুন