নজর বিডি

সীমানা জটিলতায় স্থগিত পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোট, বাকি ২৯৮ আসনে কার্যক্রম চলমান

সীমানা জটিলতায় স্থগিত পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোট, বাকি ২৯৮ আসনে কার্যক্রম চলমান

বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন 


পাবনা প্রতিনিধি   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসকে ঘিরে সৃষ্ট আইনি জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে গণভোট ও নির্বাচন কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এই দুটি আসনে কোনো কার্যক্রম চালানো হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন। এর আগে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ওই গেজেটে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো অংশ নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা চূড়ান্ত করা হয়। এই পুনর্বিন্যাসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার আবু সাঈদ হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে ১৮ ডিসেম্বর রায় দেন আদালত। হাইকোর্টের ওই রায়ে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন আগের সীমানা অনুযায়ী পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশনার পর নির্বাচন কমিশন ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে পুরো সাঁথিয়া উপজেলা, বেড়া পৌরসভা এবং বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ আসন দেখানো হয়। আর বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়। তবে হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং নির্বাচন কমিশন পৃথকভাবে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ৫ জানুয়ারি এসব আবেদনের শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনের ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির সংশ্লিষ্ট অংশ স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, লিভ টু আপিল দায়ের না করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এর ফলে কার্যত নির্বাচন কমিশনের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেট পুনরায় কার্যকর হয়ে যায়। সে অনুযায়ী সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা বহাল থাকে। এই সীমানা জটিলতার কারণে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোট সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। তবে কমিশন জানিয়েছে, বাকি ২৯৮টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থীদের করা আপিলের শুনানি শনিবার থেকে শুরু করবে ইসি। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। তিনশ আসনে মোট আড়াই হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আদালত আমাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে এ মুহূর্তে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। তাই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই দুটি আসনে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে কমিশন বিরত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


সীমানা জটিলতায় স্থগিত পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোট, বাকি ২৯৮ আসনে কার্যক্রম চলমান

প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন 


পাবনা প্রতিনিধি   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসকে ঘিরে সৃষ্ট আইনি জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে গণভোট ও নির্বাচন কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এই দুটি আসনে কোনো কার্যক্রম চালানো হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন। এর আগে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ওই গেজেটে সাঁথিয়া উপজেলার পুরো অংশ নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা চূড়ান্ত করা হয়। এই পুনর্বিন্যাসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেড়া উপজেলার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম এবং সাঁথিয়া উপজেলার আবু সাঈদ হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে ১৮ ডিসেম্বর রায় দেন আদালত। হাইকোর্টের ওই রায়ে পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসন আগের সীমানা অনুযায়ী পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশনার পর নির্বাচন কমিশন ২৪ ডিসেম্বর সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে পুরো সাঁথিয়া উপজেলা, বেড়া পৌরসভা এবং বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া, নতুন ভারেংগা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ আসন দেখানো হয়। আর বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচটি ইউনিয়ন এবং পুরো সুজানগর উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়। তবে হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং নির্বাচন কমিশন পৃথকভাবে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ৫ জানুয়ারি এসব আবেদনের শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনের ২৪ ডিসেম্বরের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির সংশ্লিষ্ট অংশ স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, লিভ টু আপিল দায়ের না করা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। এর ফলে কার্যত নির্বাচন কমিশনের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেট পুনরায় কার্যকর হয়ে যায়। সে অনুযায়ী সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলা নিয়ে পাবনা-২ আসনের সীমানা বহাল থাকে। এই সীমানা জটিলতার কারণে আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোট সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। তবে কমিশন জানিয়েছে, বাকি ২৯৮টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থীদের করা আপিলের শুনানি শনিবার থেকে শুরু করবে ইসি। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। তিনশ আসনে মোট আড়াই হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আদালত আমাদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে এ মুহূর্তে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না। তাই আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই দুটি আসনে সব ধরনের কার্যক্রম থেকে কমিশন বিরত রয়েছে।

নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত