আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকদের ধারণা ছিল—হয়তো ক্যানসার বা বড় কোনো টিউমার। তবে সিটি স্ক্যান রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকরাও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। কারণ, পেটের ভেতরে টিউমার নয়—পাওয়া যায় প্রায় ৫৬ বছর আগের একটি মৃত ভ্রূণ।
বিরল এই ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাজিলে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধার নাম ড্যানিয়েলা ভেরা। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তিনি ১৯৬৮ সাল থেকে নিজের অজান্তেই এই মৃত ভ্রূণটি শরীরের ভেতর বহন করে আসছিলেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’, যা সাধারণভাবে পরিচিত ‘স্টোন বেবি’ নামে। বিশেষজ্ঞরা জানান, জরায়ুর বাইরে কোনো ভ্রূণ মারা গেলে এবং শরীর যদি সেটিকে বের করতে বা শোষণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন সংক্রমণ থেকে বাঁচতে শরীর নিজেই এক ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ সময় ভ্রূণের চারপাশে ধীরে ধীরে ক্যালসিয়ামের শক্ত আবরণ তৈরি হয়, যা একসময় সেটিকে পাথরের মতো শক্ত করে তোলে।
ফলে মৃত ভ্রূণটি বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত শরীরের ভেতরে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যেতে পারে, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ৩০০টিরও কম লিথোপেডিয়ন ঘটনার রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ড্যানিয়েলা ভেরার শরীরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গত বছরের ১৪ মার্চ ওই ‘স্টোন বেবি’ অপসারণ করা হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অস্ত্রোপচারের পরদিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই ঘটনা মানবদেহের জটিলতা ও অদ্ভুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক বিরল উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি সময়মতো চিকিৎসা পরীক্ষা ও গর্ভকালীন জটিলতা শনাক্তের গুরুত্বও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলেন ৮১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসকদের ধারণা ছিল—হয়তো ক্যানসার বা বড় কোনো টিউমার। তবে সিটি স্ক্যান রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর চিকিৎসকরাও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। কারণ, পেটের ভেতরে টিউমার নয়—পাওয়া যায় প্রায় ৫৬ বছর আগের একটি মৃত ভ্রূণ।
বিরল এই ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাজিলে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধার নাম ড্যানিয়েলা ভেরা। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তিনি ১৯৬৮ সাল থেকে নিজের অজান্তেই এই মৃত ভ্রূণটি শরীরের ভেতর বহন করে আসছিলেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’, যা সাধারণভাবে পরিচিত ‘স্টোন বেবি’ নামে। বিশেষজ্ঞরা জানান, জরায়ুর বাইরে কোনো ভ্রূণ মারা গেলে এবং শরীর যদি সেটিকে বের করতে বা শোষণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন সংক্রমণ থেকে বাঁচতে শরীর নিজেই এক ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এ সময় ভ্রূণের চারপাশে ধীরে ধীরে ক্যালসিয়ামের শক্ত আবরণ তৈরি হয়, যা একসময় সেটিকে পাথরের মতো শক্ত করে তোলে।
ফলে মৃত ভ্রূণটি বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত শরীরের ভেতরে সুপ্ত অবস্থায় থেকে যেতে পারে, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ৩০০টিরও কম লিথোপেডিয়ন ঘটনার রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ড্যানিয়েলা ভেরার শরীরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গত বছরের ১৪ মার্চ ওই ‘স্টোন বেবি’ অপসারণ করা হয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, অস্ত্রোপচারের পরদিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
চিকিৎসকরা বলছেন, এই ঘটনা মানবদেহের জটিলতা ও অদ্ভুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এক বিরল উদাহরণ। একই সঙ্গে এটি সময়মতো চিকিৎসা পরীক্ষা ও গর্ভকালীন জটিলতা শনাক্তের গুরুত্বও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন