ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়া ঐতিহাসিক গণভোটে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে বিপুল জনরায় এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোট। এর ফলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আওতায় সংবিধানের ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হলো।
গণভোটে জনগণের এই সম্মতির ফলে বাংলাদেশের প্রচলিত শাসনব্যবস্থায় পাঁচটি প্রধান পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, ১. ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা হচ্ছে। এখন থেকে একক কোনো ব্যক্তি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতিকে বাড়তি কিছু ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র আধিপত্য কমিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
২. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘উচ্চকক্ষ’ ও ‘নিম্নকক্ষ’ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তিত হচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে থাকবে নিম্নকক্ষ। অন্যদিকে, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হবে উচ্চকক্ষ। এতে যে কোনো আইন পাসের আগে তা দুবার যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে।
৩. ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন: সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ শিথিল করা হচ্ছে। এর ফলে সংসদ সদস্যরা কেবল দলের আজ্ঞাবহ না থেকে নিজ এলাকার জনগণের স্বার্থে এবং নিজের বিবেকের তাড়নায় সংসদে স্বাধীনভাবে কথা বলতে ও ভোট দিতে পারবেন।
৪. নিয়োগে স্বচ্ছতা ও আমলামুক্তি: নির্বাচন কমিশন ও দুদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আর সরকারি প্রভাব খাটানো যাবে না। একটি নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি বা সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
৫. শক্তিশালী মৌলিক অধিকার: বাকস্বাধীনতা এবং ইন্টারনেটে মানুষের অধিকার সংবিধানে আরও দৃঢ়ভাবে সুরক্ষিত হবে। কোনো সরকারই বিশেষ আইন করে হুট করে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে অঙ্গীকার করেছিল, এই গণভোট তারই প্রতিফলন। ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে যে 'জুলাই জাতীয় সনদ' তৈরি করেছিল, তার সাংবিধানিক ৪৮টি প্রস্তাবই এখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতিগত পরিবর্তনের পথে পা রাখল, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করবে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গতকাল অনুষ্ঠিত হওয়া ঐতিহাসিক গণভোটে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে তাদের রায় দিয়েছে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে বিপুল জনরায় এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোট। এর ফলে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আওতায় সংবিধানের ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হলো।
গণভোটে জনগণের এই সম্মতির ফলে বাংলাদেশের প্রচলিত শাসনব্যবস্থায় পাঁচটি প্রধান পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে, ১. ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা হচ্ছে। এখন থেকে একক কোনো ব্যক্তি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতিকে বাড়তি কিছু ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র আধিপত্য কমিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
২. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘উচ্চকক্ষ’ ও ‘নিম্নকক্ষ’ বিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তিত হচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে থাকবে নিম্নকক্ষ। অন্যদিকে, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হবে উচ্চকক্ষ। এতে যে কোনো আইন পাসের আগে তা দুবার যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে।
৩. ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন: সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ শিথিল করা হচ্ছে। এর ফলে সংসদ সদস্যরা কেবল দলের আজ্ঞাবহ না থেকে নিজ এলাকার জনগণের স্বার্থে এবং নিজের বিবেকের তাড়নায় সংসদে স্বাধীনভাবে কথা বলতে ও ভোট দিতে পারবেন।
৪. নিয়োগে স্বচ্ছতা ও আমলামুক্তি: নির্বাচন কমিশন ও দুদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আর সরকারি প্রভাব খাটানো যাবে না। একটি নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি বা সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
৫. শক্তিশালী মৌলিক অধিকার: বাকস্বাধীনতা এবং ইন্টারনেটে মানুষের অধিকার সংবিধানে আরও দৃঢ়ভাবে সুরক্ষিত হবে। কোনো সরকারই বিশেষ আইন করে হুট করে মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে অঙ্গীকার করেছিল, এই গণভোট তারই প্রতিফলন। ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে যে 'জুলাই জাতীয় সনদ' তৈরি করেছিল, তার সাংবিধানিক ৪৮টি প্রস্তাবই এখন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতিগত পরিবর্তনের পথে পা রাখল, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করবে।

আপনার মতামত লিখুন