তারেক রহমান-কে বাংলাদেশের ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন শফিকুর রহমান।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনে তারেক রহমানের আগমনের পর এক বিবৃতিতে এ অভিনন্দন জানান তিনি।
ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা দিতে সন্ধ্যায় জামায়াত আমিরের বাসায় যান তারেক রহমান। সেখানে ফুল দিয়ে তাকে অভিবাদন জানান শফিকুর রহমান। পরে তারা শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও চলমান জাতীয় পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
বিবৃতিতে বিএনপির চেয়ারম্যানের এই আগমনকে জাতীয় রাজনীতির জন্য ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “তারেক রহমানের এই আগমনকে আমি স্বাগত জানাই। আমি প্রত্যাশা রাখি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।”
একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিকল্প নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে মিলে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে।
বৈঠকের আলোচনার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিরোধী দলের কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো হামলা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমি এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো নাগরিকই যেন ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন।”
ভবিষ্যৎ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, জাতীয় স্বার্থে নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়া হবে। তবে আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আপসহীন থাকার কথাও জানান তিনি।
জামায়াত আমির আরও বলেন, “সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজে আমাদের সমর্থন থাকবে, কিন্তু যেখানে জবাবদিহিতা প্রয়োজন হবে, সেখানে আমরা সোচ্চার থাকবো। আমাদের উদ্দেশ্য সংঘাত নয়, সংশোধন; বাধা দেওয়া নয়, বরং পর্যবেক্ষণ।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ এমন একটি সংসদ প্রত্যাশা করে—যা ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে এবং স্থিতিশীলতার সঙ্গে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।
আপনার মতামত লিখুন