নজর বিডি

‘স্বাভাবিক’ বললেও বাস্তবে অস্বাভাবিক; পাম্পে পাম্পে তেলের হাহাকার

‘স্বাভাবিক’ বললেও বাস্তবে অস্বাভাবিক; পাম্পে পাম্পে তেলের হাহাকার

জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়া হলেও ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহে চলছে ‘অলিখিত রেশনিং’। সম্প্রতি পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি জানিয়েছিল, গতকাল অর্থাৎ শনিবারের (২৮ মার্চ) মধ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।


জ্বালানি সংকট

জ্বালানি তেল সরবরাহে সরকারিভাবে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র এখনো নাজুক। রাজধানীর অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে চলছে ‘অলিখিত রেশনিং’। কোথাও তেল নেই, আবার কোথাও থাকলেও দেওয়া হচ্ছে সীমিত আকারে। ফলে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে সাধারণ গ্রাহকদের।

গত ১৫ মার্চ থেকে রেশনিং তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও পাম্প মালিকদের অভিযোগ, ডিপো থেকে চাহিদামাফিক তেল মিলছে না। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৩-৪ গাড়ি তেল পাওয়া গেলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে মাত্র এক গাড়ি। রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর ও মাজার রোড এলাকার বেশ কিছু পাম্প ঘুরে দেখা গেছে ডেনসো ফিলিং স্টেশন: বাইকপ্রতি ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। সাহিল ও এসপি ফিলিং স্টেশন: তেলের সরবরাহ না থাকায় পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন: এখানে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বিপরীত পাশের পিডব্লিউ ফিলিং স্টেশন ছিল তেলশূন্য।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং দেশে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিপিসি সরবরাহ ঠিক রাখতে ১১টি দেশের সঙ্গে সরাসরি ক্রয়ের আলোচনা করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দেশ থেকে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। ফলে ডিপো থেকে সরবরাহ কমিয়ে ‘কৃচ্ছতা সাধন’ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেক পাম্প মালিক তেল মজুত করে রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এটি ঠেকাতে সরকার প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে তেলের পরিমাপ, চালান ও দৈনিক বিক্রির হিসাব মনিটর করবেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন মনে করেন, শুধু সরবরাহ বাড়িয়ে এই সংকট সামাল দেওয়া কঠিন। তিনি বলেন “সরকারের উচিত সরকারি গাড়ি ব্যবহার কমানো, অফিসগুলোতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা এবং স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করা।”

পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের শঙ্কা—মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তেলের এই ‘অস্বাভাবিক’ দশা কাটবে কি না।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


‘স্বাভাবিক’ বললেও বাস্তবে অস্বাভাবিক; পাম্পে পাম্পে তেলের হাহাকার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়া হলেও ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহে চলছে ‘অলিখিত রেশনিং’। সম্প্রতি পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি জানিয়েছিল, গতকাল অর্থাৎ শনিবারের (২৮ মার্চ) মধ্যে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।


জ্বালানি সংকট

জ্বালানি তেল সরবরাহে সরকারিভাবে রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র এখনো নাজুক। রাজধানীর অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে চলছে ‘অলিখিত রেশনিং’। কোথাও তেল নেই, আবার কোথাও থাকলেও দেওয়া হচ্ছে সীমিত আকারে। ফলে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে সাধারণ গ্রাহকদের।

গত ১৫ মার্চ থেকে রেশনিং তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও পাম্প মালিকদের অভিযোগ, ডিপো থেকে চাহিদামাফিক তেল মিলছে না। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ৩-৪ গাড়ি তেল পাওয়া গেলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে মাত্র এক গাড়ি। রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর ও মাজার রোড এলাকার বেশ কিছু পাম্প ঘুরে দেখা গেছে ডেনসো ফিলিং স্টেশন: বাইকপ্রতি ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। সাহিল ও এসপি ফিলিং স্টেশন: তেলের সরবরাহ না থাকায় পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন: এখানে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বিপরীত পাশের পিডব্লিউ ফিলিং স্টেশন ছিল তেলশূন্য।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং দেশে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিপিসি সরবরাহ ঠিক রাখতে ১১টি দেশের সঙ্গে সরাসরি ক্রয়ের আলোচনা করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দেশ থেকে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। ফলে ডিপো থেকে সরবরাহ কমিয়ে ‘কৃচ্ছতা সাধন’ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেক পাম্প মালিক তেল মজুত করে রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এটি ঠেকাতে সরকার প্রতিটি পাম্পে ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে তেলের পরিমাপ, চালান ও দৈনিক বিক্রির হিসাব মনিটর করবেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইজাজ হোসেইন মনে করেন, শুধু সরবরাহ বাড়িয়ে এই সংকট সামাল দেওয়া কঠিন। তিনি বলেন “সরকারের উচিত সরকারি গাড়ি ব্যবহার কমানো, অফিসগুলোতে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা এবং স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করে জ্বালানি সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করা।”

পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে সাধারণ গ্রাহকদের শঙ্কা—মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে তেলের এই ‘অস্বাভাবিক’ দশা কাটবে কি না।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত