নজর বিডি

ঈদের ছুটিতেও স্বস্তি নেই শিশু হাসপাতালে: হামের প্রাদুর্ভবে উপচে পড়া ভিড়

ঈদের ছুটিতেও স্বস্তি নেই শিশু হাসপাতালে: হামের প্রাদুর্ভবে উপচে পড়া ভিড়

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ মহামারির রূপ ধারণ করছে। রাজধানীসহ সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। 


ঢাকা শিশু হাসপাতাল

ঈদের ছুটিতে রাজধানী যখন উৎসবের আমেজে মগ্ন, তখন ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। করিডোর জুড়ে শিশুর কান্না, অক্সিজেনের সোঁ সোঁ শব্দ আর উদ্বিগ্ন মা-বাবার আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ থমথমে। সাধারণ রোগের চেয়ে এবার ‘হাম’-এর প্রাদুর্ভাব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে বাধ্য করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করেই হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ২৫ মার্চ পর্যন্তই ২৩ জন শিশু হাম নিয়ে ভর্তি ছিল। অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগ ছড়ানো ঠেকাতে পিআইসিইউ সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত ২ নম্বর ওয়ার্ডটিকে জরুরি ভিত্তিতে ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড’-এ রূপান্তর করা হয়েছে। ১০টি বেড দিয়ে শুরু হলেও রোগীর চাপে বর্তমানে সেখানে ১৪টি বেড করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রিয়াজ মোবারক জানান, হামের কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস ও মেনিনজাইটিসের মতো জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে অনেক শিশুকে আইসিইউ সাপোর্টও দিতে হচ্ছে।

সরকারি ছুটির মধ্যেও প্রতিদিন গড়ে ২০০-এর বেশি শিশু জরুরি বিভাগে সেবা নিতে এসেছে। গত বুধবার এক দিনেই এই সংখ্যা ছিল ৩২২ জন। নরসিংদী, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ভিড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। এদের মধ্যে হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি।

হাসপাতালটি বর্তমানে তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। যেখানে চারজন চিকিৎসকের প্রয়োজন, সেখানে একজনকে দিয়ে শিফট চালাতে হচ্ছে। ১৩০ জন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ায় বর্তমানে মাত্র ৬৫ জন নতুন চিকিৎসক দিয়ে সেবা কার্যক্রম চলছে। এছাড়া সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিনের অনুপস্থিতি এবং নষ্ট ব্রঙ্কোস্কপি মেশিনের কারণে আধুনিক চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।

স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখেও পড়েছে। সরকার থেকে বরাদ্দ বাড়ার বদলে উল্টো ২ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। হাসপাতালের ৪০ শতাংশ রোগী বিনামূল্যে সেবা পেলেও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব কাটছে না। ৩৪০ কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণ প্রকল্প বর্তমানে একনেক ও পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, হামকে সাধারণ ফুসকুড়ি ভেবে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে। দ্রুত আইসোলেশন বেড বৃদ্ধি এবং জনবল নিয়োগ না দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


ঈদের ছুটিতেও স্বস্তি নেই শিশু হাসপাতালে: হামের প্রাদুর্ভবে উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মার্চ ২০২৬

featured Image

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ মহামারির রূপ ধারণ করছে। রাজধানীসহ সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। 


ঢাকা শিশু হাসপাতাল

ঈদের ছুটিতে রাজধানী যখন উৎসবের আমেজে মগ্ন, তখন ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। করিডোর জুড়ে শিশুর কান্না, অক্সিজেনের সোঁ সোঁ শব্দ আর উদ্বিগ্ন মা-বাবার আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ থমথমে। সাধারণ রোগের চেয়ে এবার ‘হাম’-এর প্রাদুর্ভাব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে বাধ্য করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করেই হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ২৫ মার্চ পর্যন্তই ২৩ জন শিশু হাম নিয়ে ভর্তি ছিল। অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগ ছড়ানো ঠেকাতে পিআইসিইউ সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত ২ নম্বর ওয়ার্ডটিকে জরুরি ভিত্তিতে ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড’-এ রূপান্তর করা হয়েছে। ১০টি বেড দিয়ে শুরু হলেও রোগীর চাপে বর্তমানে সেখানে ১৪টি বেড করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রিয়াজ মোবারক জানান, হামের কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস ও মেনিনজাইটিসের মতো জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ফলে অনেক শিশুকে আইসিইউ সাপোর্টও দিতে হচ্ছে।

সরকারি ছুটির মধ্যেও প্রতিদিন গড়ে ২০০-এর বেশি শিশু জরুরি বিভাগে সেবা নিতে এসেছে। গত বুধবার এক দিনেই এই সংখ্যা ছিল ৩২২ জন। নরসিংদী, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের ভিড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। এদের মধ্যে হাম ছাড়াও নিউমোনিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই বেশি।

হাসপাতালটি বর্তমানে তীব্র জনবল সংকটে ভুগছে। যেখানে চারজন চিকিৎসকের প্রয়োজন, সেখানে একজনকে দিয়ে শিফট চালাতে হচ্ছে। ১৩০ জন চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিল হওয়ায় বর্তমানে মাত্র ৬৫ জন নতুন চিকিৎসক দিয়ে সেবা কার্যক্রম চলছে। এছাড়া সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিনের অনুপস্থিতি এবং নষ্ট ব্রঙ্কোস্কপি মেশিনের কারণে আধুনিক চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।

স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখেও পড়েছে। সরকার থেকে বরাদ্দ বাড়ার বদলে উল্টো ২ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। হাসপাতালের ৪০ শতাংশ রোগী বিনামূল্যে সেবা পেলেও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব কাটছে না। ৩৪০ কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণ প্রকল্প বর্তমানে একনেক ও পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, হামকে সাধারণ ফুসকুড়ি ভেবে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে। দ্রুত আইসোলেশন বেড বৃদ্ধি এবং জনবল নিয়োগ না দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত