নজর বিডি

নুসুক কার্ড কী এবং হজযাত্রীদের জন্য কেন বাধ্যতামূলক?

নুসুক কার্ড কী এবং হজযাত্রীদের জন্য কেন বাধ্যতামূলক?

পবিত্র হজের বাকি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। চলতি বছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো হজযাত্রীর জন্য একটি বিশেষ নথি বহন করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি আরব। সেটি হলো নুসুক কার্ড।


পবিত্র হজের বাকি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। চলতি বছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো হজযাত্রীর জন্য একটি বিশেষ নথি বহন করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি আরব।

সেটি হলো নুসুক কার্ড। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি এমন এক স্মার্ট আইডি কার্ড যা ছাড়া কোনো হজযাত্রী পবিত্র স্থানে প্রবেশ কিংবা কোনো সেবা গ্রহণ করতে পারবেন না।

সৌদি আরবে পৌঁছানো থেকে শুরু করে নিজ দেশে ফেরা পর্যন্ত প্রত্যেক নিবন্ধিত হজযাত্রীকে সার্বক্ষণিক এই কার্ডটি সাথে রাখতে হবে।

নুসুক কার্ড হলো সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ইস্যু করা একটি অফিসিয়াল স্মার্ট পরিচয়পত্র। এটি মূলত একজন নিবন্ধিত হজযাত্রীর প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে। এই কার্ডে হজযাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য, শারীরিক বা চিকিৎসাসংক্রান্ত রেকর্ড এবং সৌদি আরবে তার আবাসনের বিস্তারিত তথ্য জমা থাকে। এটি একই সাথে ফিজিক্যাল কার্ড এবং ডিজিটাল অ্যাপ—উভয় পদ্ধতিতেই ব্যবহার করা যায়। মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফার মতো পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশের জন্য এটি একটি বৈধ পাস হিসেবে গণ্য হবে।

সৌদি আরবে একজন হজযাত্রীর আইনি বৈধতা প্রমাণের একমাত্র মাধ্যম হলো এই নুসুক কার্ড। এটি শুধু একটি পরিচয়পত্র নয় বরং হজের বিশাল ব্যবস্থাপনায় এটি নানা কাজে লাগে। যেমন:

কর্তৃপক্ষের দ্রুত তথ্য যাচাই এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এটি সহায়তা করে।

মক্কা, মদিনা ও পবিত্র স্থানগুলোতে হাজিদের আবাসনের ঠিকানা এতে সংরক্ষিত থাকে। ফলে কেউ পথ হারিয়ে ফেললে সহজেই তাকে নির্দিষ্ট গ্রুপে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বাসে ওঠা এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় এটি ব্যবহৃত হয়।

প্রত্যেক হজযাত্রীকে তার নির্ধারিত সার্ভিস প্রোভাইডার বা এজেন্সির সাথে সংযুক্ত রাখে এই কার্ড।

হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পা রাখার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ পর্যন্ত সবসময় এই কার্ডটি সাথে রাখতে হবে। এটি ব্যাগে বা সিন্দুকে তুলে রাখার কোনো বস্তু নয়। পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ, বাসে ওঠা কিংবা যেকোনো সেবা নেওয়ার সময় কর্তৃপক্ষ এটি দেখতে চাইলে তা প্রদর্শন করতে হবে।

মূল কার্ডের পাশাপাশি হজযাত্রীরা তাদের স্মার্টফোনে ডিজিটাল ভার্সনও ব্যবহার করতে পারবেন। সারা বিশ্বের হাজিদের জন্য ‘নুসুক অ্যাপ’ ডাউনলোড করে অ্যাকাউন্ট খুলে নুসুক কার্ড আইকনে ট্যাপ করলেই ডিজিটাল কার্ডটি পাওয়া যাবে। এছাড়া সৌদি আরবে বসবাসরত হাজিরা ‘তাওয়াক্কালনা’ অ্যাপের মাধ্যমেও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এই অ্যাপে পবিত্র কোরআন, নামাজের সময়সূচি এবং ওমরাহ পারমিটের সুবিধাও রয়েছে।

ভুলবশত নুসুক কার্ড হারিয়ে ফেললে হজযাত্রীরা নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারবেন: ১. অবিলম্বে নিজ কাফেলার নেতা বা মোয়াল্লিমকে জানাতে হবে। ২. নুসুক বা তাওয়াক্কালনা অ্যাপের ডিজিটাল কার্ডটি ব্যবহার করতে হবে। ৩. নিকটস্থ নুসুক কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে। ৪. এছাড়া ইউনিফাইড কল সেন্টার ১৯ ৬৬ নম্বরে কল করে সহায়তা চাওয়া যাবে।

চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে বৈধ পারমিট ছাড়া প্রবাসী বা স্থানীয়দের মক্কায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ এপ্রিলের মধ্যে ওমরাহ ভিসাধারীদের সৌদি আরব ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

১৮ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে সব ধরনের ওমরাহ পারমিট ইস্যু করা বন্ধ থাকবে। এই সময়ে শুধু হজ ভিসাধারীরাই মক্কায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
নজর বিডি

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


নুসুক কার্ড কী এবং হজযাত্রীদের জন্য কেন বাধ্যতামূলক?

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পবিত্র হজের বাকি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। চলতি বছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো হজযাত্রীর জন্য একটি বিশেষ নথি বহন করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি আরব। সেটি হলো নুসুক কার্ড।


পবিত্র হজের বাকি আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ। চলতি বছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা লাখো হজযাত্রীর জন্য একটি বিশেষ নথি বহন করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক করেছে সৌদি আরব।

সেটি হলো নুসুক কার্ড। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি এমন এক স্মার্ট আইডি কার্ড যা ছাড়া কোনো হজযাত্রী পবিত্র স্থানে প্রবেশ কিংবা কোনো সেবা গ্রহণ করতে পারবেন না।

সৌদি আরবে পৌঁছানো থেকে শুরু করে নিজ দেশে ফেরা পর্যন্ত প্রত্যেক নিবন্ধিত হজযাত্রীকে সার্বক্ষণিক এই কার্ডটি সাথে রাখতে হবে।

নুসুক কার্ড হলো সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় ইস্যু করা একটি অফিসিয়াল স্মার্ট পরিচয়পত্র। এটি মূলত একজন নিবন্ধিত হজযাত্রীর প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে। এই কার্ডে হজযাত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য, শারীরিক বা চিকিৎসাসংক্রান্ত রেকর্ড এবং সৌদি আরবে তার আবাসনের বিস্তারিত তথ্য জমা থাকে। এটি একই সাথে ফিজিক্যাল কার্ড এবং ডিজিটাল অ্যাপ—উভয় পদ্ধতিতেই ব্যবহার করা যায়। মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফার মতো পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশের জন্য এটি একটি বৈধ পাস হিসেবে গণ্য হবে।

সৌদি আরবে একজন হজযাত্রীর আইনি বৈধতা প্রমাণের একমাত্র মাধ্যম হলো এই নুসুক কার্ড। এটি শুধু একটি পরিচয়পত্র নয় বরং হজের বিশাল ব্যবস্থাপনায় এটি নানা কাজে লাগে। যেমন:

কর্তৃপক্ষের দ্রুত তথ্য যাচাই এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এটি সহায়তা করে।

মক্কা, মদিনা ও পবিত্র স্থানগুলোতে হাজিদের আবাসনের ঠিকানা এতে সংরক্ষিত থাকে। ফলে কেউ পথ হারিয়ে ফেললে সহজেই তাকে নির্দিষ্ট গ্রুপে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বাসে ওঠা এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় এটি ব্যবহৃত হয়।

প্রত্যেক হজযাত্রীকে তার নির্ধারিত সার্ভিস প্রোভাইডার বা এজেন্সির সাথে সংযুক্ত রাখে এই কার্ড।

হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পা রাখার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ পর্যন্ত সবসময় এই কার্ডটি সাথে রাখতে হবে। এটি ব্যাগে বা সিন্দুকে তুলে রাখার কোনো বস্তু নয়। পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ, বাসে ওঠা কিংবা যেকোনো সেবা নেওয়ার সময় কর্তৃপক্ষ এটি দেখতে চাইলে তা প্রদর্শন করতে হবে।

মূল কার্ডের পাশাপাশি হজযাত্রীরা তাদের স্মার্টফোনে ডিজিটাল ভার্সনও ব্যবহার করতে পারবেন। সারা বিশ্বের হাজিদের জন্য ‘নুসুক অ্যাপ’ ডাউনলোড করে অ্যাকাউন্ট খুলে নুসুক কার্ড আইকনে ট্যাপ করলেই ডিজিটাল কার্ডটি পাওয়া যাবে। এছাড়া সৌদি আরবে বসবাসরত হাজিরা ‘তাওয়াক্কালনা’ অ্যাপের মাধ্যমেও এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এই অ্যাপে পবিত্র কোরআন, নামাজের সময়সূচি এবং ওমরাহ পারমিটের সুবিধাও রয়েছে।

ভুলবশত নুসুক কার্ড হারিয়ে ফেললে হজযাত্রীরা নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে পারবেন: ১. অবিলম্বে নিজ কাফেলার নেতা বা মোয়াল্লিমকে জানাতে হবে। ২. নুসুক বা তাওয়াক্কালনা অ্যাপের ডিজিটাল কার্ডটি ব্যবহার করতে হবে। ৩. নিকটস্থ নুসুক কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে। ৪. এছাড়া ইউনিফাইড কল সেন্টার ১৯ ৬৬ নম্বরে কল করে সহায়তা চাওয়া যাবে।

চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল থেকে বৈধ পারমিট ছাড়া প্রবাসী বা স্থানীয়দের মক্কায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ এপ্রিলের মধ্যে ওমরাহ ভিসাধারীদের সৌদি আরব ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

১৮ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত নুসুক অ্যাপের মাধ্যমে সব ধরনের ওমরাহ পারমিট ইস্যু করা বন্ধ থাকবে। এই সময়ে শুধু হজ ভিসাধারীরাই মক্কায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন।


নজর বিডি

উপদেষ্টা সম্পাদক: মো: ইব্রাহিম খলিল। 
সম্পাদক: মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। 
লিগ্যাল এডভাইজার: মাহমুদুর রহমান সুইট- এম.কম, এল এল বি, এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট।


 

কপিরাইট © ২০২৬ নজর বিডি সর্বস্ব সংরক্ষিত