ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নজিরবিহীন ঐক্যের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংকট নিরসনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন তিনি। একইসঙ্গে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করে সেই বিদ্যুৎ গ্রামের কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহারের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে শিক্ষা খাতের গত ১৬ বছরের দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের অঙ্গীকারও করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনে বলেন, "বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি কোনো দলীয় সমস্যা নয়, এটি জাতীয় সংকট। দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে চাই।" প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে বিরোধী দলের ৫ জন বিশেষজ্ঞ সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২,০৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং চলছে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা অনুযায়ী শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর করতে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হবে, যা সরাসরি কৃষকদের সেচ কাজে সরবরাহ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে বড় দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষা খাতের অনিয়ম তদন্তে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। ইতোমধ্যে জাল সনদে অভিযুক্ত ২০২ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শূন্য থাকা ২,৮৪২টি সহকারী শিক্ষকের পদ দ্রুত পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অধিবেশনে রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সংকটের কথা তুলে ধরলে জ্বালানি মন্ত্রী ১ মে থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দেন। এছাড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেলপথ নির্মাণ এবং কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আধুনিকায়নের দাবি জানান উত্তরবঙ্গ ও চুয়াডাঙ্গার সংসদ সদস্যরা।
অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেন। সংসদে মোবাইল ফোন ব্যবহার, উচ্চস্বরে কথা বলা এবং স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে গাফিলতি দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সবাইকে কার্যপ্রণালী বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নজিরবিহীন ঐক্যের ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংকট নিরসনে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন তিনি। একইসঙ্গে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলক ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করে সেই বিদ্যুৎ গ্রামের কৃষকদের সেচ কাজে ব্যবহারের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে শিক্ষা খাতের গত ১৬ বছরের দুর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের অঙ্গীকারও করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনে বলেন, "বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি কোনো দলীয় সমস্যা নয়, এটি জাতীয় সংকট। দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে চাই।" প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে বিরোধী দলের ৫ জন বিশেষজ্ঞ সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২,০৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং চলছে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা অনুযায়ী শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর করতে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হবে, যা সরাসরি কৃষকদের সেচ কাজে সরবরাহ করা হবে। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে বড় দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষা খাতের অনিয়ম তদন্তে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। ইতোমধ্যে জাল সনদে অভিযুক্ত ২০২ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শূন্য থাকা ২,৮৪২টি সহকারী শিক্ষকের পদ দ্রুত পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অধিবেশনে রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস সংকটের কথা তুলে ধরলে জ্বালানি মন্ত্রী ১ মে থেকে আশুগঞ্জ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দেন। এছাড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ সরাসরি রেলপথ নির্মাণ এবং কেরু অ্যান্ড কোম্পানির আধুনিকায়নের দাবি জানান উত্তরবঙ্গ ও চুয়াডাঙ্গার সংসদ সদস্যরা।
অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি নিয়ে কঠোর অবস্থান নেন। সংসদে মোবাইল ফোন ব্যবহার, উচ্চস্বরে কথা বলা এবং স্পিকারের চেয়ারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে গাফিলতি দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সবাইকে কার্যপ্রণালী বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

আপনার মতামত লিখুন